বুমরাহর শ্রেষ্ঠত্বে সিলমোহর, তবু টেস্ট নিয়ে খোঁচা ওয়াকার ইউনিসের!
ওয়াকার মনে করেন, একদিনের ক্রিকেট এবং টি-টোয়েন্টিতে বুমরা বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সেরা বোলার। বিশেষ করে, প্রবল চাপের মুখে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতায় ভারতীয় পেসারের সমকক্ষ খুব বেশি বোলার নেই। এর উদাহরণ হিসেবে ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের কথা তুলে ধরেছেন তিনি।

এক্সট্রাটাইম ওয়েবডেস্ক: ভারতের তারকা পেসার যশপ্রীত বুমরাহকে নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিলেন পাকিস্তানের প্রাক্তন অধিনায়ক ওয়াকার ইউনিস। শুভঙ্কর মিশ্রের সঙ্গে এক আলাপচারিতায় বুমরার সাদা বলের ক্রিকেটে আধিপত্যের প্রশংসা করলেও, লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর কৃতিত্ব নিয়ে কিছুটা সংশয় প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন এই পেসার।
ওয়াকার মনে করেন, একদিনের ক্রিকেট এবং টি-টোয়েন্টিতে বুমরাহ বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সেরা বোলার। বিশেষ করে, প্রবল চাপের মুখে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতায় ভারতীয় পেসারের সমকক্ষ খুব বেশি বোলার নেই। এর উদাহরণ হিসেবে ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের কথা তুলে ধরেছেন তিনি।
নিউ ইয়র্কের সেই ম্যাচে পাকিস্তানের জয়ের জন্য শেষ ৩৬ বলে প্রয়োজন ছিল মাত্র ৪০ রান। হাতে ছিল সাত উইকেট। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের নির্ভরযোগ্য ব্যাটার মহম্মদ রিজওয়ানকে ফিরিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন বুমরাহ। তাঁর সেই গুরুত্বপূর্ণ উইকেটের পরই চাপে পড়ে যায় পাকিস্তান। শেষ পর্যন্ত মাত্র ছয় রানে ম্যাচ জিতে নেয় ভারত।
ওয়াকারের মতে, ব্যাট হাতে ভারত যখনই সমস্যায় পড়ে, তখন বুমরাহর হাতে বল তুলে দেওয়াই দলের জন্য সবচেয়ে বড় ভরসা। চাপের মুহূর্তে তাঁর উইকেট নেওয়ার ক্ষমতা ভারতকে বারবার ম্যাচে ফিরিয়ে এনেছে।
তবে টেস্ট ক্রিকেটের ক্ষেত্রে বুমরাহকে নিয়ে কিছুটা ভিন্ন মত পাকিস্তানের প্রাক্তন অধিনায়কের। এখনও পর্যন্ত ৫২টি টেস্টে ২৩৪টি উইকেট এবং ১৯.৭ গড়ে বোলিং করার মতো দুর্দান্ত পরিসংখ্যান রয়েছে ভারতীয় পেসারের। তা সত্ত্বেও, দীর্ঘতম ফরম্যাটে নিজের কৃতিত্বকে আরও বড় উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগ বুমরার সামনে রয়েছে বলেই মনে করেন ওয়াকার।
এর অন্যতম কারণ হিসেবে বুমরার চোটের সমস্যা এবং নিয়ন্ত্রিত কর্মভারকে চিহ্নিত করেছেন তিনি। চোটের কারণে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকা এবং কাজের চাপ সামলাতে বেছে বেছে টেস্ট খেলার ফলে লাল বলের ক্রিকেটে বুমরার ম্যাচের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। অস্ট্রেলিয়ার মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজলউড কিংবা ইংল্যান্ডের প্রথম সারির পেসারদের সঙ্গে তুলনা করতে গেলে দীর্ঘ সময় ধরে টেস্ট ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন ওয়াকার।
চলতি বছরে এখনও কোনও টেস্ট ম্যাচ খেলেননি বুমরাহ। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতের আসন্ন দুই টেস্টের সফর তাই তাঁর কাছে নিজেকে আরও একবার প্রমাণ করার বড় সুযোগ। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে জায়গা করে নেওয়ার লড়াইয়ে এই সিরিজের গুরুত্বও যথেষ্ট।
সাদা বলের ক্রিকেটে বুমরাহর শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে প্রশ্ন না থাকলেও, টেস্ট ক্রিকেটে দীর্ঘমেয়াদি ধারাবাহিকতা বজায় রেখে নিজের উত্তরাধিকারকে আরও সমৃদ্ধ করাই এখন তাঁর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।
