বিবিয়ানোর হাত ধরে ভারতীয় ফুটবলের নতুন স্বপ্ন! ব্লু কোল্টসদের নিয়ে আশাবাদী অভিজ্ঞ কোচেরা
আজারবাইজানের এই প্রতিযোগিতায় চিরাচরিত ফুটবলের বদলে আটজনের দল নিয়ে খেলা হচ্ছে। প্রতিটি ম্যাচে দুটি অর্ধ থাকে, প্রতিটি অর্ধের দৈর্ঘ্য কুড়ি মিনিট। এই প্রতিযোগিতার মূল উদ্দেশ্য তরুণ ফুটবলারদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ করে দেওয়া এবং তাদের দক্ষতার বিকাশ ঘটানো।

এক্সট্রাটাইম ওয়েবডেস্ক: আন্তর্জাতিক মঞ্চে লড়াই করে নজর কেড়েছে ভারতের অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবল দল। আজারবাইজানের বাকুতে আয়োজিত প্রথম ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফুটবল উৎসবে বিবিয়ানো ফার্নান্ডেজের প্রশিক্ষণাধীন তরুণদের পারফরম্যান্সে আশার আলো দেখছেন ভারতীয় ফুটবলের অভিজ্ঞ কোচেরা। প্রাক্তন ভারতীয় কোচ সাব্বির আলি, সঞ্জয় সেন, শঙ্করলাল চক্রবর্তী এবং আর্মান্দো কোলাসো প্রশংসা করেছেন ব্লু কোল্টসদের। একই সঙ্গে তাঁদের মতে, এই প্রতিভাবান ফুটবলারদের ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে নিয়মিত প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলার সুযোগ করে দেওয়া জরুরি।
আজারবাইজানের এই প্রতিযোগিতায় চিরাচরিত ফুটবলের বদলে আটজনের দল নিয়ে খেলা হচ্ছে। প্রতিটি ম্যাচে দুটি অর্ধ থাকে, প্রতিটি অর্ধের দৈর্ঘ্য কুড়ি মিনিট। এই প্রতিযোগিতার মূল উদ্দেশ্য তরুণ ফুটবলারদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ করে দেওয়া এবং তাদের দক্ষতার বিকাশ ঘটানো।
গ্রুপ পর্বে ভারতের শুরুটা হয়েছিল দারুণভাবে। প্রথম ম্যাচে লাওসকে হারানোর পর ক্যামেরুনের বিরুদ্ধেও জয় পায় বিবিয়ানোর দল। এরপর গ্রেনাডার সঙ্গে ড্র এবং বাহরিনের বিরুদ্ধে জয় পেলেও সেনেগালের কাছে হারতে হয় তাদের। গ্রুপ কে-তে তৃতীয় স্থানে শেষ করে ভারত। এর ফলে প্রতিযোগিতার পরবর্তী পর্বে তৃতীয় স্তরে খেলার সুযোগ পায় ব্লু কোল্টসরা।
পরবর্তী পর্বে হন্ডুরাসের কাছে ১-২ গোলে হেরে গেলেও ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর বিরুদ্ধে ৩-২ গোলে জয় ছিনিয়ে নেয় ভারত। এরপর আফগানিস্তানের মুখোমুখি হয়েছিল দল। সেই ম্যাচে এক গোলের ব্যবধানে হারতে হয়েছে তাদের। তবে ফলাফলের বাইরেও এই প্রতিযোগিতা থেকে অনেক কিছু শেখার সুযোগ পেয়েছে ভারতের তরুণ ফুটবলাররা।
ভারতের প্রাক্তন কোচ সাব্বির আলির মতে, দলের এই পারফরম্যান্সের কৃতিত্ব দিতে হবে ফুটবলারদের পাশাপাশি কোচ এবং সহায়ক কর্মীদেরও।
তিনি বলেন, “খুব ভালো পারফরম্যান্স। কোচ, ফুটবলার এবং সহায়ক কর্মীদের কৃতিত্ব দিতেই হবে।”
একই সুর শোনা গিয়েছে সঞ্জয় সেনের গলায়। আটজনের দলের এই বিশেষ খেলার ধরনকে খুব বেশি গুরুত্ব দিতে নারাজ তিনি। বরং বিবিয়ানোর প্রশিক্ষণে ভারতীয় দলের পারফরম্যান্সকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।
সঞ্জয় বলেন, “আটজনের দল নিয়ে খেলা হচ্ছে কি না, সেটা বড় বিষয় নয়। বিবিয়ানোর অধীনে আমাদের পারফরম্যান্স এখনও পর্যন্ত সত্যিই ভালো।”
তবে তরুণদের উন্নতির জন্য শুধু আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়াই যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন তিনি। সঞ্জয়ের মতে, এই বয়সের ফুটবলারদের একটি মরশুমে অন্তত ৩০ থেকে ৪০টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলার সুযোগ পাওয়া উচিত। বেশি ম্যাচ খেললে চাপ সামলানোর ক্ষমতা বাড়বে, পাশাপাশি মানসিক দৃঢ়তাও তৈরি হবে।
তাঁর কথায়, “বেশি ম্যাচ খেললে মানসিকভাবে অনেক বেশি শক্তিশালী হওয়া যায়। তখন যে কোনও চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করা সম্ভব।”
অন্যদিকে, বিবিয়ানোর প্রশিক্ষণপদ্ধতি এবং দলের খেলার পরিকল্পনায় মুগ্ধ শঙ্করলাল চক্রবর্তী। তরুণ ফুটবলারদের সামলানো থেকে শুরু করে প্রতিটি ম্যাচে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী দলকে খেলানোর ক্ষেত্রে কোচের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন তিনি।
আর্মান্দো কোলাসোর বক্তব্যেও উঠে এসেছে ধারাবাহিকতার গুরুত্ব। তাঁর মতে, ভবিষ্যতে এই ফুটবলারদের কাছ থেকে সেরা পারফরম্যান্স পেতে হলে বিবিয়ানোর অধীনে দীর্ঘ সময় ধরে তাদের একসঙ্গে রেখে প্রস্তুতির সুযোগ দিতে হবে।
বাকুর এই প্রতিযোগিতা ভারতের অনূর্ধ্ব-১৫ দলের কাছে শুধু জয়-পরাজয়ের হিসাব নয়। বিভিন্ন দেশের দলের বিরুদ্ধে খেলে নিজেদের শক্তি ও দুর্বলতা বোঝার সুযোগ পেয়েছে তারা। আন্তর্জাতিক ফুটবলের পরিবেশে নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার অভিজ্ঞতাও অর্জন করেছে তরুণরা।
তবে এই অভিজ্ঞতাকে ভবিষ্যতের সাফল্যে পরিণত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অভিজ্ঞ কোচদের বার্তা স্পষ্ট—বিবিয়ানোর ব্লু কোল্টসদের মধ্যে সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রয়োজন নিয়মিত ম্যাচ খেলার সুযোগ, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা
এবং প্রশিক্ষণে ধারাবাহিকতা।
