বিশ্বজয়ের স্মৃতি থেকে একদিনের ক্রিকেটে অভিষেক এখন অধিনায়কত্বের দায়িত্ব, নিউজিল্যান্ডে ফিরেই নস্টালজিক শুভমন !
২০১৮ সালে নিউজিল্যান্ডের মাটিতেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ। সেই প্রতিযোগিতায় ভারতীয় দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন শুভমন। তাঁর দুরন্ত পারফরম্যান্সের হাত ধরে বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি প্রতিযোগিতার সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও জিতেছিলেন তিনি। মাউন্ট মঙ্গানুইয়ের বে ওভালে সেই রাতের স্মৃতি আজও নিশ্চয়ই বিশেষ জায়গা নিয়ে রয়েছে তাঁর মনে।

এক্সট্রাটাইম ওয়েবডেস্ক: নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৪ নভেম্বর থেকে শুরু হতে চলা একদিনের আন্তর্জাতিক সিরিজে ভারতীয় দলকে নেতৃত্ব দিতে চলেছেন শুভমন গিল। আসন্ন সিরিজকে ঘিরে আলোচনায় উঠে এল তাঁর ক্রিকেটজীবনের শুরুর দিকের নানা স্মৃতি। নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে গিলের সম্পর্ক যে শুধুই ক্রিকেটীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতার নয়, বরং তাঁর কেরিয়ারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সাক্ষী, তা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে গেল।
২০১৮ সালে নিউজিল্যান্ডের মাটিতেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ। সেই প্রতিযোগিতায় ভারতীয় দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন শুভমন। তাঁর দুরন্ত পারফরম্যান্সের হাত ধরে বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি প্রতিযোগিতার সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও জিতেছিলেন তিনি। মাউন্ট মঙ্গানুইয়ের বে ওভালে সেই রাতের স্মৃতি আজও নিশ্চয়ই বিশেষ জায়গা নিয়ে রয়েছে তাঁর মনে।
বিশ্বকাপ জয়ের পরের বছর, অর্থাৎ ২০১৯ সালে, ভারতীয় সিনিয়র দলের হয়ে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় গিলের। আর সেই অভিষেকও হয়েছিল নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধেই, হ্যামিল্টনের সেডন পার্কে। ভারতীয় দলের হয়ে ২২৭ নম্বর একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচের টুপি তাঁর হাতে তুলে দিয়েছিলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। সেই তরুণ ক্রিকেটারই আজ সাত বছর পর নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ভারতীয় দলের অধিনায়ক।
আসন্ন সিরিজের আগে সাংবাদিক সম্মেলনে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে নিজের বিশেষ সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন গিল। তিনি বলেন, “আমরা এখানে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জিতেছিলাম। এই দেশকে ঘিরে আমার অনেক ভালো স্মৃতি রয়েছে। এখানেই আমার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল। তাই যখনই এখানে আসি, খুব ভালো লাগে।”
তবে এবারের সফর গিলের কাছে শুধুমাত্র পুরনো স্মৃতি রোমন্থনের নয়। একসময়ের তরুণ প্রতিভা এখন ভারতীয় দলের অধিনায়ক। ফলে দায়িত্বও অনেক বেশি। দলের নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি নিউজিল্যান্ডের কঠিন পরিবেশে ভারতকে সিরিজ জেতানোই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
আর মাত্র ১১ মাস পর শুরু হবে ২০২৭ সালের একদিনের আন্তর্জাতিক বিশ্বকাপ। ফলে আসন্ন পাঁচ ম্যাচের এই সিরিজ বিশ্বকাপের প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। বিভিন্ন মাঠে খেলার অভিজ্ঞতা বিশ্বকাপের আগে দলকে আরও পরিণত করে তুলবে বলেই মনে করছেন ভারত অধিনায়ক। গিলের কথায়, “আমরা যত বেশি বিভিন্ন মাঠে খেলব, তত বেশি অভিজ্ঞতা অর্জন করব। আর সেই অভিজ্ঞতা বিশ্বকাপে আমাদের সাহায্য করবে।”
নিউজিল্যান্ডের পরিবেশ এবং ভারতের তরুণ বোলিং বিভাগ নিয়েও নিজের মতামত জানিয়েছেন গিল। তিনি বলেন, “টি-টোয়েন্টি সিরিজ থেকে আমরা দেখেছি, এখানে নতুন বলে যথেষ্ট বাউন্স রয়েছে। যা ব্যাটিং এবং বোলিং, দুই দলের কাছেই চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। একদিনের সিরিজেও দুই দলকে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হবে। আমাদের বোলিং বিভাগ তরুণ হলেও সাফল্য পাওয়ার মতো সমস্ত গুণ রয়েছে। আশা করছি, আমরা এখান থেকে শিখব এবং ভালো পারফরম্যান্স করব।”
ভারতীয় দলের মিডল অর্ডার নিয়েও দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। বিশেষ করে পাঁচ ও ছয় নম্বর ব্যাটিং পজিশনে কারা খেলবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এই প্রসঙ্গে গিল জানিয়েছেন, পাঁচ ও ছয় নম্বর ব্যাটিং পজিশন কিছুটা নমনীয় রাখা হয়েছে। তবে প্রথম চারটি ব্যাটিং পজিশন মোটামুটি নির্দিষ্ট।
তরুণ ক্রিকেটারদের নিয়ে গড়া এই ভারতীয় দলের সিরিজ জয়ের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে আত্মবিশ্বাসী গিল বলেন, “আমার মনে হয়, মাঠে নামা যে কোনও ভারতীয় দলেরই যে কোনও প্রতিপক্ষকে হারানোর ক্ষমতা রয়েছে। তরুণ ক্রিকেটাররা এখানে ভালো পারফরম্যান্স করতে পারলে অনেক আত্মবিশ্বাস পাবে। একইসঙ্গে বিশ্বকাপের সময় কোনও কারণে আমাদের পছন্দের দল না পেলেও যে কোনও পরিস্থিতিতে এই দল যে কোনও প্রতিপক্ষকে হারাতে পারে, সেই বিশ্বাসও তৈরি হবে। সেই দিক থেকে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজ জিততে পারলে তা আমাদের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দেবে।”
অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয় থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক, আর সেখান থেকে ভারতীয় দলের অধিনায়কত্ব নিউজিল্যান্ডের মাটিতে শুভমন গিলের ক্রিকেটজীবনের একাধিক স্মরণীয় অধ্যায় জড়িয়ে রয়েছে। এবার সেই দেশেই নতুন ভূমিকায় তাঁর প্রত্যাবর্তন। পুরনো স্মৃতিকে সঙ্গী করেই অধিনায়ক হিসেবে নতুন ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যে নামবেন গিল। এখন দেখার, নিউজিল্যান্ড সফর তাঁর অধিনায়কত্বের কেরিয়ারে আরও একটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে উঠতে পারে কি না।








