কুলদীপকে বাদ দেওয়া নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে, ভারতের বোলিং পরিকল্পনা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
নিজের ইউটিউব চ্যানেল Ash Ki Baat-এ অশ্বিন বলেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটাররা কুলদীপের বোলিংয়ের বৈচিত্র্যের বিরুদ্ধে সমস্যায় পড়েছিলেন। সেই পরিস্থিতিতে তাঁকে দলের বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত খুব একটা যুক্তিসঙ্গত মনে হয়নি তাঁর। অশ্বিনের মতে, কুলদীপ দলে থাকলে ভারতের বোলিং আক্রমণ আরও কার্যকর হতে পারত এবং সিরিজের ফলেও তার প্রভাব পড়তে পারত।

এক্সট্রাটাইম ওয়েবডেস্ক: টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে শুধু বড় রান করলেই জয় নিশ্চিত হয় না, প্রতিপক্ষের শক্তি বুঝে সঠিক বোলিং পরিকল্পনা তৈরি করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। হায়দরাবাদে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে ২৪ রানে হারের পর সেই প্রশ্নই উঠছে ভারতীয় শিবিরে। বিশেষ করে কুলদীপ যাদবকে প্রথম একাদশে না রাখা নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। ভারতের প্রাক্তন স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিনের মতে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে কুলদীপকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তে যুক্তির অভাব ছিল। তাঁর মতে, ভারতীয় দলের বিরুদ্ধে নয়, বরং কুলদীপের স্পিনের বৈচিত্র্যের সামনেই সমস্যায় পড়েছিলেন ক্যারিবিয়ান ব্যাটাররা। ফলে শেষ দুই টি-টোয়েন্টিতে তাঁকে বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অশ্বিন। একই সুর শোনা গিয়েছে ভারতের প্রাক্তন পেসার বরুণ অ্যারনের বক্তব্যেও।
প্রথমে ব্যাট করে সাই হোপের অপরাজিত শতরানের সুবাদে নির্ধারিত ২০ ওভারে ২৪৭/৩ রানের বিশাল স্কোর খাড়া করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জবাবে রান তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল ভারত। সঞ্জু স্যামসনের মাত্র ২৩ বলে ৫৬ রানের ঝোড়ো ইনিংস জয়ের আশা জাগিয়েছিল। কিন্তু ক্যারিবিয়ান বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট তুলে নেওয়ার দক্ষতার সামনে শেষ পর্যন্ত থেমে যায় ভারতের লড়াই।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে কিমো পলের পাঁচ উইকেটের দুরন্ত পারফরম্যান্স ম্যাচের অন্যতম নির্ণায়ক হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ২২৩/৯ রানেই শেষ হয় ভারতের ইনিংস। ভারতের এই হারের ফলে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ২-২ ব্যবধানে সমতায় ফিরেছে। শনিবার বেঙ্গালুরুতে সিরিজের নির্ধারণী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
নিজের ইউটিউব চ্যানেল Ash Ki Baat-এ অশ্বিন বলেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটাররা কুলদীপের বোলিংয়ের বৈচিত্র্যের বিরুদ্ধে সমস্যায় পড়েছিলেন। সেই পরিস্থিতিতে তাঁকে দলের বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত খুব একটা যুক্তিসঙ্গত মনে হয়নি তাঁর। অশ্বিনের মতে, কুলদীপ দলে থাকলে ভারতের বোলিং আক্রমণ আরও কার্যকর হতে পারত এবং সিরিজের ফলেও তার প্রভাব পড়তে পারত।
এই হারের পর কুলদীপকে দলে না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। বরুণ অ্যারনও দলের বোলিং পরিকল্পনা নিয়ে সরব হয়েছেন। তাঁর মতে, হায়দরাবাদের উইকেটের চরিত্র বিবেচনা করে একজন অতিরিক্ত স্পিনার খেলানো উচিত ছিল। পিচে বল মাঝেমধ্যে থমকে আসছিল এবং শিশিরের প্রভাব না থাকায় স্পিনারদের কার্যকর হওয়ার সুযোগও ছিল। এমন পরিস্থিতিতে কুলদীপের মতো একজন বিশেষজ্ঞ রিস্ট স্পিনার ভারতীয় বোলিং আক্রমণে বাড়তি সুবিধা এনে দিতে পারতেন।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনারদের পারফরম্যান্সও এই বিতর্ককে আরও জোরালো করেছে। গুদাকেশ মোতি ও রস্টন চেজ পরিস্থিতি বুঝে বোলিং করেছেন। বিশেষ করে রান তাড়া করার সময় মোতি পরপর দুই বলে অভিষেক শর্মা ও নমন ধীরকে ফিরিয়ে ভারতের উপর চাপ বাড়িয়ে দেন। অ্যারনের মতে, মোতির বোলিংয়ের গতি পরিবর্তন এবং চেজের কার্যকর স্পেল থেকে ভারতীয় বোলারদেরও শিক্ষা নেওয়ার ছিল। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের পিচ এবং বাউন্ডারির মাপে কুলদীপ ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিতে পারতেন।
তবে কুলদীপের অনুপস্থিতিই ভারতের হারের একমাত্র কারণ, এমনটা বলা যায় না। ভারতের পেসার মায়াঙ্ক যাদব ও অর্শদীপ সিং দু’জনেই ৫২ রান করে খরচ করেছেন। প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের উপর ধারাবাহিক চাপ তৈরি করতে না পারা এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে উইকেট তুলে নিতে ব্যর্থ হওয়াও ভারতের পরাজয়ের অন্যতম কারণ। ফলে দল নির্বাচন নিয়ে প্রশ্নের পাশাপাশি বোলিং পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ব্যর্থতাও আলোচনায় উঠে এসেছে।
সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে হলে বোলিংয়ে আরও কার্যকর পরিকল্পনা, চাপের মুহূর্তে উইকেট তুলে নেওয়া এবং ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতা এই তিনটি দিকেই উন্নতি করতে হবে শ্রেয়স আইয়ারের দলকে।








