বেলিংহ্যাম ও কেনের গোলে পানামাকে ২-০ হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড
প্রথমার্ধে ছিল ছন্দহীন পারফরম্যান্স। তবে দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে জুড বেলিংহ্যাম ও হ্যারি কেনের গোলে পানামাকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড।

এক্সট্রাটাইম ওয়েব ডেস্ক: প্রথমার্ধে ছিল ছন্দহীন পারফরম্যান্স। তবে দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে জুড বেলিংহ্যাম ও হ্যারি কেনের গোলে পানামাকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড।
শনিবার বৃষ্টিভেজা মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই ইংল্যান্ডকে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয় পানামা। গ্যালারিতে ইংলিশ সমর্থকদের জোরালো উপস্থিতিতে স্টেডিয়ামের পরিবেশ অনেকটা ওয়েম্বলির মতোই মনে হলেও প্রথমার্ধে কোনও দলই উল্লেখযোগ্য আক্রমণ গড়ে তুলতে পারেনি। ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেন প্রথম ৪৫ মিনিটে মাত্র ১০ বার বল স্পর্শ করেন, যা মাঠে থাকা যে কোনও খেলোয়াড়ের মধ্যে সর্বনিম্ন।
দ্বিতীয়ার্ধের ৬২তম মিনিটে কর্নার থেকে আসা বল জালে জড়িয়ে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন জুড বেলিংহ্যাম। বুকায়ো সাকার নেওয়া কর্নার থেকে বক্সের ভেতরে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের চাপে থেকেও বাম পায়ের দুর্দান্ত টাচে গোল করেন তিনি। এটি ছিল বেলিংহ্যামের বিশ্বকাপে তৃতীয় এবং চলতি আসরে দ্বিতীয় গোল।
মাত্র পাঁচ মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন হ্যারি কেন। বাম দিক থেকে বেলিংহ্যামের নিখুঁত ক্রসে দুর্দান্ত হেডে বল জালে পাঠান ইংল্যান্ডের অধিনায়ক। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এটি কেনের ৮২তম গোল এবং বিশ্বকাপে তার ১১তম গোল, যা তাকে ইংল্যান্ডের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বিশ্বকাপ গোলদাতার আসনে বসিয়েছে। তিনি কিংবদন্তি গ্যারি লিনেকারের ১০ গোলের রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়েছেন।
এই জয়ের ফলে দুইটি জয় ও একটি ড্র নিয়ে মোট ৭ পয়েন্ট সংগ্রহ করে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইংল্যান্ড। এর ফলে নকআউট পর্বে তুলনামূলক সহজ ড্র পেতে যাচ্ছে থ্রি লায়ন্সরা। আগামী বুধবার আটলান্টায় অনুষ্ঠিত রাউন্ড অব ৩২ ম্যাচে তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ সেনেগাল অথবা কঙ্গো। ওই ম্যাচের বিজয়ী পরবর্তী রাউন্ডে মুখোমুখি হবে মেক্সিকো অথবা ইকুয়েডরের।
অন্যদিকে, যদি ইংল্যান্ড গ্রুপে দ্বিতীয় হতো, তাহলে তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারত কলম্বিয়া বা পর্তুগাল। সেই পথ ধরে পরবর্তী রাউন্ডে স্পেন, অস্ট্রিয়া কিংবা আলজেরিয়ার মতো শক্তিশালী দলের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনাও ছিল।
পানামার জন্য এটি ছিল আরেকটি হতাশার দিন। টানা তিন ম্যাচ হেরে তারা আবারও কোনও পয়েন্ট ছাড়াই বিশ্বকাপ অভিযান শেষ। দ্বিতীয়ার্ধের ইনজুরি সময়ে হোসে ফাহার্দো বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়।
ইংল্যান্ডের একমাত্র বিশ্বকাপ শিরোপা আসে ১৯৬৬ সালে নিজেদের মাটিতে। এবার তারা শেষ আট বিশ্বকাপের মধ্যে সপ্তমবারের মতো নকআউট পর্বে জায়গা করে নিল।
দলের রক্ষণভাগে ইনজুরির কারণে পরিবর্তন আনতে হয় কোচ থমাস টুচেলকে। হ্যামস্ট্রিং চোটে ছিটকে যাওয়া রিস জেমসের পরিবর্তে ডান প্রান্তে খেলেন জ্যারেল কোয়ানসাহ। বাঁ প্রান্তে সুযোগ পান নিকো ও'রেইলি। এছাড়া মাঝমাঠেও তিনটি পরিবর্তন এনে ডেকলান রাইস, ননি মাদুয়েকে ও অ্যান্থনি গর্ডনের পরিবর্তে বুকায়ো সাকা, মরগান রজার্স ও মার্কাস রাশফোর্ডকে শুরুর একাদশে রাখেন টুচেল।
এদিন বিশ্বকাপে নিজের ১৫তম ম্যাচ খেলেন গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড। ইংল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার তালিকায় তিনি এখন কিংবদন্তি পিটার শিলটনের (১৭) পরেই রয়েছেন।








