কেরালা ব্লাস্টার্স থেকে বিশ্বকাপের মঞ্চে! ডাকেন্স নাজনের অবিশ্বাস্য যাত্রা ছুঁয়ে গেল ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের মন
ব্রাজিল বনাম হাইতির ম্যাচে বুধবার ৬৭তম মিনিটে যখন রুবেন প্রভিডেন্সের বদলি হিসেবে মাঠে নামলেন ডাকেন্স নাজন, তখনই যেন উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ল ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের সোশ্যাল মিডিয়া। কারণ, ৩২ বছর বয়সী এই হাইতিয়ান ফরোয়ার্ড একসময় খেলেছিলেন ইন্ডিয়ান সুপার লিগের (আইএসএল) জনপ্রিয় ক্লাব কেরালা ব্লাস্টার্সের হয়ে।

এক্সট্রাটাইম ওয়ৈব ডেস্ক : ব্রাজিল বনাম হাইতির ম্যাচে বুধবার ৬৭তম মিনিটে যখন রুবেন প্রভিডেন্সের বদলি হিসেবে মাঠে নামলেন ডাকেন্স নাজন, তখনই যেন উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ল ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের সোশ্যাল মিডিয়া। কারণ, ৩২ বছর বয়সী এই হাইতিয়ান ফরোয়ার্ড একসময় খেলেছিলেন ইন্ডিয়ান সুপার লিগের (আইএসএল) জনপ্রিয় ক্লাব কেরালা ব্লাস্টার্সের হয়ে।
২০১৬ সালে কেরালা ব্লাস্টার্সে যোগ দিয়েছিলেন তরুণ নাজন। কোচির উচ্ছ্বসিত সমর্থকদের সামনে তাঁর গতি, শক্তি এবং লং বল ধরে আক্রমণ গড়ে তোলার দক্ষতা খুব দ্রুতই নজর কেড়েছিল। যদিও ভারতে তাঁর সময়টা দীর্ঘ ছিল না, তবে সেই অধ্যায় তাঁর পেশাদার ফুটবল জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
ভারত ছাড়াও নাজন খেলেছেন ইরান, বেলজিয়াম ও ইংল্যান্ডের বিভিন্ন ক্লাবে। তবে উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে তাঁর পৌঁছানোর গল্প যেন কোনও সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায়।
বিশ্বকাপের কয়েক মাস আগেই মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক সংঘাতের জেরে ইরানের আকাশপথ বন্ধ হয়ে যায়। সেই সময় তেহরানে নিজের পরিবারের সঙ্গে কার্যত আটকে পড়েছিলেন নাজন। দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর অবশেষে নিরাপদে দেশ ছেড়ে জাতীয় দলের সঙ্গে যোগ দিতে সক্ষম হন তিনি।
হাইতি ৫২ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূলপর্বে জায়গা করে নেয়। এর আগে ১৯৭৪ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলেছিল ক্যারিবিয়ান দেশটি। নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে নিজেদের মাটিতে নয়, নিরপেক্ষ ভেন্যুতে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচ খেলতে হয়েছিল হাইতিকে।
দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে ৪৪টি আন্তর্জাতিক গোল রয়েছে নাজনের ঝুলিতে। তবে গ্রুপ পর্বের প্রথম দুটি ম্যাচে স্কটল্যান্ড (০-১) ও ব্রাজিলের (০-৩) বিরুদ্ধে তিনি বেঞ্চেই ছিলেন। তৃতীয় ম্যাচে মরক্কোর বিরুদ্ধে অবশেষে সুযোগ আসে তাঁর।
আটলান্টায় অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে ৬৭ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন নাজন। তখন হাইতি ইতিমধ্যেই নকআউট পর্বের দৌড় থেকে ছিটকে গিয়েছে। কিন্তু তাঁর মাঠে নামা ছিল শুধু একটি বদলি নয়, বরং এক সংগ্রামী দেশের স্বপ্নকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার প্রতীক।
মরক্কোর কাছে ২-৪ গোলে হেরে বিশ্বকাপ শেষ করে হাইতি। তবুও ম্যাচের শেষ দিকে নাজন দুর্দান্ত এক শট নিয়েছিলেন, যা অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দেন মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু। গোলটি হলে হয়তো তাঁর বিশ্বকাপ অভিষেক আরও স্মরণীয় হয়ে থাকত।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, নাজনই একমাত্র নন। ভারতীয় লিগে খেলে পরে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার নজির রয়েছে আরও একজনের। নাইজেরিয়ার স্ট্রাইকার এমেকা এজেউগো ১৯৮৬ সালে ইস্ট বেঙ্গলের হয়ে খেলেছিলেন। পরে তিনি মহমেডান স্পোর্টিংয়ের জার্সিও পরেন। ১৯৯৪ সালের যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে নাইজেরিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি।
ডাকেন্স নাজনের এই যাত্রা প্রমাণ করে, ফুটবলের পথ কখনও সরল হয় না। কেরালার গ্যালারি থেকে বিশ্বকাপের আলোকমঞ্চ—তাঁর গল্প সাহস, সংগ্রাম এবং স্বপ্নপূরণের এক অনন্য উদাহরণ।








