রীতিমত সমানে সমানে টক্কর, আল সিবের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করল ইস্টবেঙ্গল
এই ম্যাচ ড্র হওয়ায় দুটো দলেরই সমস্যা বাড়ল। ইস্টবেঙ্গলের তিন ম্যাচ খেলে হল তিন পয়েন্ট। মাস্ট উইন ম্যাচে ভারতের প্রথম ক্লাব হিসাবে এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ টু-তে জয়ের স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছিল ইস্টবেঙ্গল। সে স্বপ্ন আপাতত অধরাই থেকে গেল।

ছবি সৌজন্য - ইস্টবেঙ্গল এফসি
এক্সট্রাটাইম ওয়েব ডেস্ক
রীতিমত সমানে সমানে ম্যাচ। একেবারে সেয়ানে সেয়ানে কোলাকুলি। একটা করে ম্যাচ দেখে মনে হল, আল শর্তা টিমটা ওমানের এই আল সিবের চেয়ে হয়ত একটু বেশি ভালো। তবু ইস্টবেঙ্গল-আল সিব ম্যাচটা গোলশূন্য হল ঠিকই, তবে গোল হতেই পারত। যে কোনও দলই গোল করতে পারত। এই ম্যাচ ড্র হওয়ায় দুটো দলেরই সমস্যা বাড়ল। ইস্টবেঙ্গলের তিন ম্যাচ খেলে হল তিন পয়েন্ট। মাস্ট উইন ম্যাচে ভারতের প্রথম ক্লাব হিসাবে এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ টু-তে জয়ের স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছিল ইস্টবেঙ্গল। সে স্বপ্ন আপাতত অধরাই থেকে গেল।
শুরুটা ভাল করেছিল আল সিব। শুরুতেই তাদের একটা শট বাঁচিয়ে দেন লালচেংপা। তবে মিনিট পনেরো পর থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করে লালহলুদ ব্রিগেড। এদিন লালহলুদ রক্ষণের সামনে রশিদ ও জিকসনকে ডাবল পিভোটিভ হিসাবে রেখে ম্যাচের দখল নেওয়ার কৌশল ঠিকঠাকই কাজ করছিল। দুর্দান্ত খেললেন ড্যানি র্যামিরেজ। যা কিছু সৃষ্টিধর্মী কাজ শুরু হচ্ছিল তাঁর পা থেকেই। ড্যানি ও এডমুন্ডকে সামলাতে বেশ সমস্যায় পড়তে হচ্ছিল আল সিবের রক্ষণকে। যদি ওই দুজনের সঙ্গে তাল মেলাতে পারতেন ডেভিড, কিংবা জয় গুপ্তার রিলিজটা যদি আর একটু নির্ভল হত, তাহলে গোলের রাস্তা হয়ত খুলে যেত।
এদিন বিরতিতেতই ডেভিডকে তুলে লোবাকে নামাতে পারতেন হাবাস। হয়ত এডমুন্ডের সঙ্গে ডেভিডের বোঝাপড়ার কথাটা মাথায় রেখে তাঁকে অতক্ষণ মাঠে রেখে ছিলেন, তবে লোবাকে নামাতে কি দেরি করে ফেললেন, সে প্রশ্নটা থেকেই গেল।
অন্যদিকে ইস্টবেঙ্গল মাঝমাঠ ও রক্ষণের মধ্যে যে ফাঁকা জায়গা থাকছিল, সেটাকে ওভারহেড লম্বা পাসে দারুণভাবে কাজে লাগাচ্ছিল আল সিব। সেটাকে সামলাতে বেশ বেগ পেতে হল জিভুলিচ-আনোয়ারদের। তবে পেনিট্রেটিভ জোনে আল সিবের সৃজনশীলতার অভাবটা চোখে পড়ল। তারই মধ্যে কিছু সুযোগ এসেছিল দু দলের সামনেই।
ডেভিড বক্সের মধ্যে ওয়ান টু খেলে যে শট নেন তা এতটাই দুর্বল ছিল সমস্যা হয়নি আল সিব গোলরক্ষকের। প্রথমার্ধের শেষদিকে বিপিন একটা সহজ বল পেয়েো টার্ন নিতে দেরি করায় সুযোগ হাতছাড়া হল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে বিপিনের একটা দুর্দান্ত শট বারে লেগে ফিরল। অন্যদিকে আল সিবের হাসান আহমেদের দূরপাল্লার শটও পোস্টে লেগে ফিরল। তারপরই লাচেংপা একটি দুর্দান্ত সেভ করেন। আল সিবের মেয়ে হাইপ্রোফাইল ফুটবলার। তিনিও একটু কঠিন কোন থেকে বাইরে শট করলেন। আসলে ম্যাচের শেষদিকে ইস্টবেঙ্গলকে একটু ক্লান্ত মনে হল। সেই সুযোগে বার কয়েক ঝাঁকুনি দিয়ে গেল আল সিবে।
সুযোগ কিছু এলো ঠিকই, তবে দুটো দলই পেনিট্রেটিভ জোনে গিয়ে আটকে যাচ্ছিল। বিশেষ করে ইস্টবেঙ্গল ফুটবলাররা খুব ছোট জায়গায় বেশি পাস খেলতে গিয়ে সমস্যা বাড়িয়ে তুলছিলেন। রোহিত কুমার, সন্দীপ মান্ডিকে নামিয়ে প্ল্যান বিতে চলে গিয়েছিলেন হাবাস, তাতে লাভ কিছু হল না।
