নিজেদের উপর বিশ্বাস রাখো’, অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপের আগে খুদেদের পাশে ২০১৭-র তারকারা
আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন আনোয়ার আলি। তাঁর মতে, এই ধরনের প্রতিযোগিতা শুধু মাঠের খেলায় নয়, মাঠের বাইরেও একজন তরুণ ফুটবলারের ব্যক্তিত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আনোয়ার বলেন, “যে কোনও তরুণ ফুটবলারের কাছে এই অভিজ্ঞতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এই প্রতিযোগিতায় সমবয়সি ফুটবলারদের খেলার ধরন, মাঠের বাইরের আচরণ এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলের কঠোর নিয়মকানুন কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাওয়া যায়। এই অভিজ্ঞতা তাদের পেশাদার ফুটবলার হওয়ার পাশাপাশি ভালো মানুষ হিসেবেও গড়ে উঠতে সাহায্য করবে। কারণ, ওরাই আমাদের ভবিষ্যৎ।”

এক্সট্রাটাইম ওয়েবডেস্ক: বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলার অভিজ্ঞতা যে কোনও তরুণ ফুটবলারের জীবন বদলে দিতে পারে। সেই অভিজ্ঞতার সঙ্গে পরিচিত ভারতের ২০১৭ সালের ফিফা অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ফুটবলাররা। এ বার ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফুটবল উৎসবে নিজেদের অভিযান শুরু করার অপেক্ষায় ভারতের খুদে ফুটবলাররা। তার আগে ২০১৭ সালের বিশ্বকাপে খেলা অভিজিৎ সরকার, কোমল থাতাল, আনোয়ার আলি এবং ধীরজ সিং নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের উৎসাহিত করলেন। তাঁদের প্রত্যেকের বার্তায় উঠে এল আত্মবিশ্বাস, কঠোর পরিশ্রম এবং বিশ্বকাপের প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করার কথা।
২০১৭ সালে প্রথমবার ফিফা অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল ভারত। যদিও গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল ভারতীয় দলকে, তবুও আন্তর্জাতিক মঞ্চে খেলার সেই অভিজ্ঞতা দেশের তরুণ ফুটবলারদের কাছে ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই প্রতিযোগিতা ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের মনে একাধিক স্মরণীয় মুহূর্ত তৈরি করেছিল। প্রায় নয় বছর পর এ বার ভারতের অনূর্ধ্ব-১৫ দলের সামনে আন্তর্জাতিক ফুটবলের মঞ্চে নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরার সুযোগ।
আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন আনোয়ার আলি। তাঁর মতে, এই ধরনের প্রতিযোগিতা শুধু মাঠের খেলায় নয়, মাঠের বাইরেও একজন তরুণ ফুটবলারের ব্যক্তিত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আনোয়ার বলেন, “যে কোনও তরুণ ফুটবলারের কাছে এই অভিজ্ঞতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এই প্রতিযোগিতায় সমবয়সি ফুটবলারদের খেলার ধরন, মাঠের বাইরের আচরণ এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলের কঠোর নিয়মকানুন কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাওয়া যায়। এই অভিজ্ঞতা তাদের পেশাদার ফুটবলার হওয়ার পাশাপাশি ভালো মানুষ হিসেবেও গড়ে উঠতে সাহায্য করবে। কারণ, ওরাই আমাদের ভবিষ্যৎ।”
২০১৭ সালের বিশ্বকাপে ভারতের মাঝমাঠে খেলা অভিজিৎ সরকারের কাছে দেশের জার্সিতে বিশ্বকাপে প্রতিনিধিত্ব করা ছিল গর্বের মুহূর্ত। বর্তমান প্রজন্মের ফুটবলারদের উদ্দেশে তাঁর পরামর্শ, কোনওরকম ভয় বা স্নায়ুর চাপে না ভুগে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মাঠে নামতে হবে। অভিজিৎ বলেন, “বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া প্রত্যেক ভারতীয়র কাছেই গর্বের বিষয়।” পাশাপাশি তিনি যোগ করেন, “আমি চাই, ছোটরা সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলুক এবং কোনওরকম নার্ভাসনেস যেন তাদের গ্রাস না করে। বিবিয়ানো স্যারের উপর আমার অগাধ বিশ্বাস রয়েছে। তাঁর প্রশিক্ষণে দল খুব ভালো ফল করবে বলে আমি আশাবাদী।”
একই সুর শোনা গিয়েছে কোমল থাতালের কথাতেও। বিশ্বকাপের চাপ এবং উত্তেজনা নিজের অভিজ্ঞতা থেকে অনুভব করেছেন তিনি। তাই বর্তমান দলের ফুটবলারদের কাছে তাঁর পরামর্শ, বড় মঞ্চের চাপকে ভয় না পেয়ে এই সুযোগের প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করতে হবে। কোমল বলেন, “নিজেদের উপর বিশ্বাস রাখো এবং সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই অসাধারণ যাত্রার প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করো।”
ভারতের প্রাক্তন অনূর্ধ্ব-১৭ দলের গোলরক্ষক ধীরজ সিংও খুদে ফুটবলারদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তাঁর বার্তা, প্রত্যাশার চাপে না ভেঙে নিজেদের স্বাভাবিক খেলা খেলতে হবে। ধীরজ বলেন, “মাঠে নেমে নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলো, নিজেদের উপর বিশ্বাস রাখো এবং প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করো। গোটা দেশ তোমাদের পাশে রয়েছে এবং তোমাদের জন্য গলা ফাটাবে।”
২০১৭ সালের বিশ্বকাপের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ধীরজ জানান, সেই প্রতিযোগিতা তাঁর জীবনের অন্যতম সেরা অভিজ্ঞতা। পঞ্চাশ হাজারেরও বেশি দর্শকের সামনে দাঁড়িয়ে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার মুহূর্ত আজও তাঁর কাছে অত্যন্ত আবেগের। তাঁর মতে, সেই বিশ্বকাপ ভারতের অভিভাবকদের ফুটবল সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতেও সাহায্য করেছিল। আরও বেশি পরিবার নিজেদের সন্তানদের পেশাদার ফুটবলার হওয়ার স্বপ্নকে সমর্থন করতে শুরু করেছিল।
বিশ্বকাপের মঞ্চে ভারতের অনূর্ধ্ব-১৫ দলের সামনে এখন নতুন চ্যালেঞ্জ। তবে প্রাক্তন ফুটবলারদের বক্তব্য স্পষ্ট, এই প্রতিযোগিতাকে শুধু জয়-পরাজয়ের নিরিখে বিচার করলে চলবে না। আন্তর্জাতিক ফুটবলের অভিজ্ঞতা অর্জন, নিজেদের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং ভবিষ্যতের জন্য আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠাই হবে এই অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য। ২০১৭ সালের প্রজন্মের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ সঙ্গে নিয়ে ভারতের খুদে ফুটবলাররা কতটা এগিয়ে যেতে পারে, এখন সেটাই দেখার।








