অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপারদের পাশে প্রাক্তন ভারতীয় ফুটবলাররা, বৈজ্ঞানিক প্রশিক্ষণ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বার্তা
ভারতের উঠতি অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবলারদের পাশে দাঁড়ালেন দেশের প্রাক্তন ফুটবলাররা। আলভিটো ডি'কুনহা, ব্রুনো কুতিনহো, মেহতাব হোসেন এবং আবদুল খালিক চার প্রাক্তন ভারতীয় ফুটবলারই তরুণ প্রজন্মের উন্নতির জন্য স্পষ্ট, বৈজ্ঞানিক এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার উপর জোর দিলেন।

এক্সট্রাটাইম ওয়েবডেস্ক: ভারতের উঠতি অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবলারদের পাশে দাঁড়ালেন দেশের প্রাক্তন ফুটবলাররা। আলভিটো ডি'কুনহা, ব্রুনো কুতিনহো, মেহতাব হোসেন এবং আবদুল খালিক চার প্রাক্তন ভারতীয় ফুটবলারই তরুণ প্রজন্মের উন্নতির জন্য স্পষ্ট, বৈজ্ঞানিক এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার উপর জোর দিলেন।
এই মুহূর্তে আজারবাইজানের বাকুতে প্রথমবার আয়োজিত ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফুটবল উৎসবে খেলছে ভারতীয় দল। আন্তর্জাতিক মঞ্চে বিভিন্ন দেশের শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলার অভিজ্ঞতা ইতিমধ্যেই অর্জন করেছে দলের তরুণ ফুটবলাররা। তবে প্রাক্তন ভারতীয় ফুটবলারদের মতে, এই প্রতিযোগিতাকে কোনও চূড়ান্ত গন্তব্য হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং এখান থেকেই শুরু হওয়া উচিত দীর্ঘ পথচলা।
ক্যামেরুনের বিরুদ্ধে ভারতীয় দলের লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা করেছেন আলভিটো ডি'কুনহা। তিনি বলেন, ক্যামেরুনের বিরুদ্ধে তরুণদের সাহস এবং মানসিক দৃঢ়তা ছিল প্রশংসনীয়। তবে একইসঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, সামনে এখনও অনেকটা পথ বাকি।
ব্রুনো কুতিনহোর মতে, এই ফুটবলারদের একসঙ্গে রেখে ধারাবাহিকভাবে খেলার সুযোগ দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, একই দলকে দীর্ঘ সময় ধরে খেলানোর পাশাপাশি ইউরোপ-সহ বিভিন্ন দেশে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ করে দিতে হবে।
আধুনিক ফুটবলের পরিবর্তিত চাহিদার দিকে নজর দিয়েছেন মেহতাব হোসেন। তাঁর মতে, ফুটবল এখন অনেক বেশি বিজ্ঞাননির্ভর। তাই ছোটবেলা থেকেই ভারতীয় ফুটবলারদের শারীরিক সক্ষমতার পাশাপাশি মানসিক প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।
অন্যদিকে আবদুল খালিক বর্তমান প্রজন্মের পারফরম্যান্সকে আগের বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলের তুলনায় উন্নত বলে মনে করছেন। তাঁর মতে, এই দল কিছুটা হলেও এগিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।
চার প্রাক্তন ভারতীয় ফুটবলারের বক্তব্যের মূল সুর একটাই ধৈর্য, ধারাবাহিকতা এবং সঠিক পরিকল্পনা। অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা তরুণদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করতে পারে। তবে এরপর অনূর্ধ্ব-১৭, অনূর্ধ্ব-১৮ এবং অনূর্ধ্ব-২০ স্তরে নিয়মিত প্রতিযোগিতা, বৈজ্ঞানিক প্রস্তুতি, আন্তর্জাতিক ম্যাচ এবং সুসংগঠিত উন্নয়ন ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই হবে এই প্রতিভাবান প্রজন্মকে সিনিয়র ফুটবলের জন্য তৈরি করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।








