ইন্ডিয়ান সুপার লিগের নতুন নিয়মে বাড়ছে ক্লাবগুলির ক্ষমতা:বেঙ্গালুরু এফসি
ভারতীয় ফুটবল এক নতুন অধ্যায়ের দিকে এগোচ্ছে। তবে এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রভাব হয়তো মাঠের লড়াইয়ে নয়, বরং মাঠের বাইরের বাণিজ্যিক কাঠামোয়। ইন্ডিয়ান সুপার লিগের পরিচালন ব্যবস্থায় আসছে বড়সড় রদবদল। কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত বাণিজ্যিক ব্যবস্থার পরিবর্তে এবার ক্লাবগুলির হাতেই ক্রমশ বেশি করে তুলে দেওয়া হচ্ছে লিগের বাণিজ্যিক দায়িত্ব। ফলে বাড়ছে ক্লাবগুলির স্বাধীনতা, পাশাপাশি বাড়ছে আর্থিক ঝুঁকিও।

এক্সট্রাটাইম ওয়েবডেস্ক: ভারতীয় ফুটবল এক নতুন অধ্যায়ের দিকে এগোচ্ছে। তবে এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রভাব হয়তো মাঠের লড়াইয়ে নয়, বরং মাঠের বাইরের বাণিজ্যিক কাঠামোয়। ইন্ডিয়ান সুপার লিগের পরিচালন ব্যবস্থায় আসছে বড়সড় রদবদল। কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত বাণিজ্যিক ব্যবস্থার পরিবর্তে এবার ক্লাবগুলির হাতেই ক্রমশ বেশি করে তুলে দেওয়া হচ্ছে লিগের বাণিজ্যিক দায়িত্ব। ফলে বাড়ছে ক্লাবগুলির স্বাধীনতা, পাশাপাশি বাড়ছে আর্থিক ঝুঁকিও।
এত দিন লিগের বাণিজ্যিক কাঠামো মূলত কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত হত। কিন্তু নতুন ব্যবস্থায় লিগের বিপণন, আয় বৃদ্ধি এবং বাণিজ্যিক বিকাশের ক্ষেত্রে ক্লাবগুলির ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। তবে এই পরিবর্তনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে একটি বড় প্রশ্ন ক্লাবগুলি কি নিজেদের আয় বাড়িয়ে এই নতুন ব্যবস্থাকে দীর্ঘমেয়াদে টিকিয়ে রাখতে পারবে?
এই পরিবর্তনের ফলে ভারতীয় ফুটবলের প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক দায়িত্বের মধ্যেও আসছে নতুন সমীকরণ। সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন বা এআইএফএফ লিগের প্রশাসনিক ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। অন্যদিকে, লিগের বাণিজ্যিক কার্যকলাপের উপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চলেছে অংশগ্রহণকারী ক্লাবগুলি। এত দিন লিগের বাণিজ্যিক পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা ফুটবল স্পোর্টস ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড বা এফএসডিএলের দায়িত্বও নতুন ব্যবস্থায় আর আগের মতো থাকছে না।
অর্থাৎ, এত দিন যে ক্লাবগুলি মূলত কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত বাণিজ্যিক ব্যবস্থার অংশ ছিল, এবার তারাই লিগের ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক কাঠামো গড়ে তোলার অন্যতম প্রধান অংশীদার হয়ে উঠছে।
বেঙ্গালুরু এফসির ফুটবল বিভাগের অধিকর্তা ড্যারেন ক্যালডেইরার মতে, এই পরিবর্তন ঝুঁকিপূর্ণ হলেও সময়ের দাবি। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর শুধু বাণিজ্যিক নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ক্লাবগুলিকে যদি নিজেদের আয়ের উপর নির্ভর করে বেশি আর্থিক দায়িত্ব নিতে হয়, তা হলে দল গঠনের পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনতে হবে।
সেই ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত খেলোয়াড়দের দলে নেওয়ার জন্য বিপুল অর্থ খরচ করার প্রবণতা কমাতে হতে পারে ক্লাবগুলিকে। খেলোয়াড়দের বেতন নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। প্রতিযোগিতার মান বজায় রেখেই কীভাবে খরচের ভারসাম্য রক্ষা করা যায়, সেটাই এখন ক্লাবগুলির কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।
এই পরিস্থিতিতে বেঙ্গালুরু এফসির দল গঠনের পদ্ধতি একটি সম্ভাব্য দিশা দেখাতে পারে। বিপুল অর্থ খরচ করে অন্য ক্লাব থেকে খেলোয়াড় নেওয়ার পরিবর্তে নিজেদের যুব অ্যাকাডেমির উপর ক্রমশ বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে তারা। প্রথম দলের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ফুটবলারই উঠে এসেছেন ক্লাবের নিজস্ব যুব প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা থেকে।
আর্থিক চাপের মুখে থাকা ক্লাবগুলির কাছে নিজেদের যুব ফুটবলারদের তুলে আনা শুধু দীর্ঘমেয়াদি ফুটবল পরিকল্পনার অংশ হয়ে থাকবে না, বরং তা আর্থিকভাবে টিকে থাকার অন্যতম উপায়ও হয়ে উঠতে পারে। নিজেদের অ্যাকাডেমি থেকে প্রতিভাবান ফুটবলার তুলে আনতে পারলে একদিকে যেমন দল গঠনের খরচ কমানো সম্ভব, তেমনই ভবিষ্যতের জন্য শক্তিশালী খেলোয়াড়ের ভাণ্ডারও তৈরি করা যায়।
বিদেশি এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিদেশি ফুটবলারদের নিয়েও একই ধরনের আলোচনা চলছে। তাঁদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা দলকে শক্তিশালী করতে পারে। তবে ভারতীয় প্রতিভা বিকাশের পরিবর্তে তাঁদের উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়া উচিত নয় বলেই মনে করেন ক্যালডেইরা। তাঁর মতে, বিদেশি ফুটবলারদের দলে নেওয়ার ক্ষেত্রে এমন ভারসাম্য বজায় রাখা প্রয়োজন, যাতে ভারতীয় ফুটবলারদের উন্নতির পথ বাধাপ্রাপ্ত না হয়।
তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে রয়েছে বাণিজ্যিক স্থায়িত্বের প্রশ্ন। ক্লাব পরিচালিত আইএসএলকে সফল করতে হলে সম্প্রচার থেকে নিয়মিত আয়, শক্তিশালী স্পনসরশিপ, নিয়ন্ত্রিত ব্যয় এবং যুব ফুটবলে প্রকৃত বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। শুধু বাণিজ্যিক দায়িত্ব ক্লাবগুলির হাতে তুলে দিলেই লিগের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত হবে না।
আইএসএলের বাণিজ্যিক কাঠামোয় এখন ক্লাবগুলির ভূমিকা আগের তুলনায় অনেক বেশি। কিন্তু এই বাড়তি দায়িত্বকে কতটা স্থায়ী ও লাভজনক ফুটবল ব্যবসায় পরিণত করতে পারে তারা, সেটাই আগামী দিনে ভারতীয় ফুটবলের সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।








