বাবাকে সৎকার করে এসে কাছা নিয়েই অনুশীলনে সাদার্ন সমিতির রোহিত দাস
রোহিত এ বছর সাদার্ন সমিতিতে সই করেছেন। তিনি জানান, “বাবা মারা গেছে ১০ তারিখে। আর ১১ তারিখে সকালবেলা কাঁদতে কাঁদতে মা বললেন, বাবা আর যাই করিস, বাবার স্বপ্নটাকে ছাড়িস না। ফুটবলটা ছাড়িস না। তাই আমি কাছা নিয়েই অনুশীলনে চলে যাই। ভাবলাম মা যখন ভেঙে পড়েনি, তখন আমার ভেঙে পড়ার কোনও প্রশ্নই নেই।“
এক্সট্রাটাইম ওয়েব ডেস্ক
একেই বোধহয় বলে ফুটবল আবেগ। জীবনের সঙ্গে ফুটবলকে জুড়ে দেওয়া। নাহলে কি বেলেঘাটার রোহিত দাস যা করলেন, যা করছেন, তা কি করতে পারতেন! বাবার মৃত্যুর দিন তাঁকে দাহ করে এসে পরের দিনই কীভাবে নেমে পড়তে পারেন, যদি না ওই আবেগটা থাকত!
রোহিত এ বছর সাদার্ন সমিতিতে সই করেছেন। তিনি জানান, “বাবা মারা গেছে ১০ তারিখে। আর ১১ তারিখে সকালবেলা কাঁদতে কাঁদতে মা বললেন, বাবা আর যাই করিস, বাবার স্বপ্নটাকে ছাড়িস না। ফুটবলটা ছাড়িস না। তাই আমি কাছা নিয়েই অনুশীলনে চলে যাই। ভাবলাম মা যখন ভেঙে পড়েনি, তখন আমার ভেঙে পড়ার কোনও প্রশ্নই নেই।“
এখানেই ঘটনার আসল মোড়। রোহিতের বাবাও ফুটবলার ছিলেন, কিন্তু দারিদ্রের কারণে তিনি ফুটবলে বড় কিছু করতে পারেননি। তাই তিনি চেয়েছিলেন, স্বপ্ন দেখেছিলেন, ছেলে যেন বড় ফুটবলার হয়। সেটাই ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। প্রতি মুহূর্তে রোহিতকে বলতেন সে কথা।
ছেলে রোহিতও এখন একটাই লক্ষ্যের দিকে দৌড়োচ্ছেন, বাবার স্বপ্নকে সফল করতে হবে। রোহিত জানান, “বাবার জন্যই আমি এখনও ফুটবল খেলছি। বাবা যখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, তখনও অনুশীলন চালিয়ে গেছি। একসঙ্গে অসুস্থ বাবা, ঘর ও ফুটবল – সব কিছু চালিয়ে গেছি। আমার একদিকে বাবার জীবন আর একদিকে বাবার স্বপ্ন।“
রোহিতই জানান, ভুল চিকিৎসার জন্যই বাবার মৃত্যু হয়েছে। তিনি বলেন, “চাপা জন্ডিস থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসকরা বড় অস্ত্রোপচার করেন। এই ভুলের জন্যই আমি বাবাকে হারালাম।“
ডায়মন্ডহারবারের হয়ে আরএফডিএলে খেলেছেন। এবার সই করেছেন সাদার্নে। সামনে অনেকটা পথ। বাবার স্বপ্নকে পূরণ করার তাগিদ আর জেদ নিয়েই সামনের দিকে ছুটে যেতে চান রোহিত।
