বাংলার প্রতিভাকে মর্যাদা দিলেন রঞ্জিত বাজাজ! সেরা কোচ শ্রীতনু দাস,আজ কেন দিল্লিতে?
সম্প্রতি দিল্লিতে অনুষ্ঠিত I AM GAME Sports Award 2026-এ “Grassroot Coach of the Year” সম্মানে ভূষিত হয়েছেন শ্রীতনু। একসময় তাঁরও স্বপ্ন ছিল বড় ফুটবলার হওয়ার। সেই লক্ষ্যে Mohammedan Sporting Club-এর হয়ে খেলেছেন। কিন্তু চোটের কারণে খেলোয়াড় হিসেবে তাঁর পথ থেমে যায়। তবে থেমে যায়নি ফুটবলের প্রতি তাঁর ভালোবাসা। নিজের অপূর্ণ স্বপ্নকে সঙ্গী করেই শুরু করেন কোচিং।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মতো মহাপুরুষদের জন্মভূমি নৈহাটি। সেই নৈহাটিরই সন্তান শ্রীতনু দাস। বর্তমানে দিল্লিতে একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত থাকার পাশাপাশি সেখানেই ফুটবল কোচিং করাচ্ছেন তিনি। দূরে থেকেও অবশ্য বাংলার ফুটবলের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা একটুও কমেনি। বাংলার মাটিতে যেমন প্রতিভা তুলে এনেছেন, তেমনই দিল্লিতেও একের পর এক তরুণ ফুটবলার তৈরি করে চলেছেন।
সম্প্রতি দিল্লিতে অনুষ্ঠিত I AM GAME Sports Award 2026-এ “Grassroot Coach of the Year” সম্মানে ভূষিত হয়েছেন শ্রীতনু। একসময় তাঁরও স্বপ্ন ছিল বড় ফুটবলার হওয়ার। সেই লক্ষ্যে Mohammedan Sporting Club-এর হয়ে খেলেছেন। কিন্তু চোটের কারণে খেলোয়াড় হিসেবে তাঁর পথ থেমে যায়। তবে থেমে যায়নি ফুটবলের প্রতি তাঁর ভালোবাসা। নিজের অপূর্ণ স্বপ্নকে সঙ্গী করেই শুরু করেন কোচিং।

আজ তাঁর হাত ধরে উঠে এসেছে একাধিক গ্রাসরুট প্রতিভা। অভিষেক কুমার মণ্ডল খালি পায়ে অনুশীলন শুরু করে পরবর্তীতে ভারতের অনূর্ধ্ব-১৭ দলে খেলার সুযোগ পেয়েছেন। তাঁর তৈরি প্রতিভাদের তালিকায় রয়েছেন মনু রাজবংশী, সূরজ, ভোলা রাজওয়ার-সহ আরও অনেকে। করোনা মহামারির কঠিন সময়েও নীতেশ কুমার মণ্ডল, রাজেশ রাজভর, ভাস্কর সিং এবং গৌরব চুনারিদের নিয়ে নিয়মিত কাজ করেছেন তিনি। তাঁদের অনেকেই বর্তমানে কলকাতা লিগে খেলছেন।
তবে সাফল্যের এই গল্পের আড়ালে রয়ে যাচ্ছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—শ্রীতনু দাসকে কেন বাংলার বাইরে গিয়ে কাজ করতে হচ্ছে? শুধুমাত্র একটি উপযুক্ত চাকরির অভাবে কেন বাংলার এমন প্রতিভাবান কোচকে নিজের মাটি ছেড়ে থাকতে হবে?
বাংলা কি শ্রীতনুর মতো কোচদের জন্য সম্মানজনক কর্মসংস্থান ও দায়িত্বের সুযোগ তৈরি করতে পারে না? তাঁকে বাংলায় ধরে রাখা গেলে হয়তো আরও বহু তরুণ প্রতিভা উঠে আসত।
শ্রীতনু একা নন। সুযোগের অভাবে আরও বহু কোচ, ফুটবলার ও ফুটবলকর্মী বাংলা ছেড়ে অন্য রাজ্যে পাড়ি দিচ্ছেন। তাই প্রশ্নটা শুধু একজন শ্রীতনুকে নিয়ে নয়, প্রশ্ন বাংলার ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে। নিজেদের প্রতিভাদের কি আমরা ধরে রাখতে পারব, নাকি একের পর এক শ্রীতনু দাসকে হারাতেই থাকব?
