ডার্বিতে ডায়মন্ড ম্যাচের স্মৃতি ফিরিয়ে ২২ বছর পর ডুরান্ড জিতল ইস্টবেঙ্গল
১৯৭৫-এর ৫ গোলের ম্যাচ নয়, রবিবাসরীয় যুবভারতীতে ডায়মন্ড ম্যাচ ফেরাল ইস্টবেঙ্গল। সেই ৪-১ গোলে মোহনবাগানকে বিধ্বস্ত করে ২২ বছর পর চ্যাম্পিয়ন হল ডুরান্ডে।

এক্সট্রাটাইম ওয়েব ডেস্ক: ১৯৭৫-এর ৫ গোলের ম্যাচ নয়, রবিবাসরীয় যুবভারতীতে ডায়মন্ড ম্যাচ ফেরাল ইস্টবেঙ্গল। সেই ৪-১ গোলে মোহনবাগানকে বিধ্বস্ত করে ২২ বছর পর চ্যাম্পিয়ন হল ডুরান্ডে। শুধু কি তাই, ডায়মন্ড ম্যাচের বাইচুং ভুটিয়ার স্মৃতি ফেরালেন এডমুন্ড। বাইচুং, এডে চিড্ডি, কিয়ান নাসিরির পথ ধরে তিনিও ডার্বিতে হ্যাটট্রিক নায়ক। প্রথমার্ধে যখন একের পর এক গোল হচ্ছিল, তখন কারও মনে পড়িছল ৭৫-এর ৫ গোলের কথা। কারও স্মৃতিতে ভেসে উঠল ঐতিহাসিক ডায়মন্ড ম্যাচ। প্রথমার্ধেই ৫ গোল। এডম্ন্ডের হ্যাটট্রিক ছাড়া বাকি গোলটি করলেন বিপিন সিং।
একেই বলে অ্যন্টি ক্ল্যাইম্যাক্স। খেলাটা শুরু হয়েছিল মোহনবাগানের বল দেওয়া নেওয়া করে পাসিং ফুটবলের মধ্যে দিয়ে। তখন মোহনবাগানেরই প্রাধান্য। কিন্তু ১২ মিনিটের মাথায় একটি ছিটকে আসা বল ধরে রশিদ বাড়িয়ে দেন বিপিনকে। বিপিনের শট বিশালের পায়ে লেগে জালে। ব্যস, তখন থেকেই ঘুরে গেল ম্যাচের ছবি।
দু মিনিটের মধ্যে জিকসন থেকে বল পেয়ে এডমুন্ড ২-০ করলেন। রাহুল ভেকের পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে বল চলে গেল গোলে। কিছুই করার ছিল না বিশালের। ম্যাচের ২২ মিনিটে এডমুন্ড বক্সের মধ্যে বল ধরে যখন দারুন একটা গোল করে গেলেন তখন হামাগুড়ি দিচ্ছেন রাহুল ভেকে। এরপরই মাঝমাঠ থেকে আসা ফরোয়ার্ড থ্রু ধরে ডানদিক ছেকে কাট করে ঢুকে একটি গোল শোধ করলেন মনবীর। কিন্তু নাটকের আরও বাকি ছিল। বিরতির ঠিক আগে জয় গুপ্তার ক্রসে পা ছুঁইয়ে কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে নিজের হ্যাটট্রিক সম্পুর্ণ করলেন এডমুন্ড লালরিনডিকা।
বিশাল কাইথকে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ৪ গোল খেতে হল, কিন্তু তাঁর যে কোনও দায় নেই সেটা আর কে বুঝবে! কিন্তু প্রশ্ন হল কেন এভাবে ভেঙে পড়ল মোহনবাগান রক্ষণ। কারও সঙ্গে কারও বোঝাপড়া নেই। কে যে কোথায় থাকছেন তার কোনও ব্যাখ্যাও নেই। সবচেয়ে বড় কথা এত গতিমন্থরতা কেন, বোধগম্য হল না। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ফুটবল খেলল মোহনবাগান রক্ষণ। এর এখানেই টেক্কা দিয়ে গেল ইস্টবেঙ্গল। গতি আর ফিটনেসেই বাজিমাত করল লালহলুদ।
মোহনবাগান ছোট ছোট পাসে খেলা তৈরি করার চেষ্টা করছিল, কিন্তু সেটা এতই ধীর গতিতে কোনও সময়ই সমস্যায় ফেলতে পারেনি ইস্টবেঙ্গলকে। উল্টোদিকে রক্ষণাত্মক মোডে থেকে গতিময় প্রতিআক্রমণেই বাজিমাত করে গেলেন হাবাস। ডাইরেক্ট ফুটবল খেলে মন্থর মোহনবাগানকে কব্জা করে ফেলল লালহলুদ।
এদিন সম্ভবত সবুজ মেরুন জার্সিতে সবচেয়ে খারাপ ম্যাচটা খেললেন জেমি ম্যাকলরেন, নাহলে এই ম্যাচেও গোটা দুয়েক গোল তিনি পেয়ে যেতেন। স্পষ্টই বোঝা গেল, এখনও তাঁর ফিটনেস পুরোপুরি আসেনি। অন্যদিকে লালহলুদের গোটা দলের রিমোট কন্ট্রোলটা ছিল রশিদের হাতে। এমন একজন ফুটবলার হাতে থাকলে কোচ যেভাবে খেলাতে চান, সেটা অনেক সহজ হয়ে যায়।
খেলা যা হল, প্রথমার্ধেই হয়ে গেল। দ্বিতীয়ার্ধে পুরো ঝাঁপ ফেলে দিল ইস্টবেঙ্গল। রশিদ-জিকসনদের ওঠা বন্ধ হয়ে গেল। দাঁড়িয়ে পড়লেন দুই স্টপারের সামনে। একটা দল তিন গোলে এগিয়ে থাকলে যে ফুটবল খেলা উচিত, সেটাই খেলল লালহলুদ। মোহনবাগান বল দেওয়া নেওয়া করে ক্রমাগত পাস খেলে গেল মাঝমাঠে, সেটা এতই নির্বিষ যে হাবাসকে আর কিছু ভাবতে হয়নি।
আন্তোনিও লোপেজ হাবাস যে চ্যাম্পিয়ন কোচ সেটা আগেও বুঝিয়েছেন, আবার এদিন বোঝালেন। তবে কতদিন পর ইস্টবেঙ্গলের কাছে এভাবে নাস্তানাবুদ হল মোহনবাগান সে গবেষণা চলতেই পারে!
