জোর বিতর্ক, বিশ্বকাপের আগে ভারতীয় দলে গম্ভীরের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিলেন অশ্বিন
ভারতের প্রাক্তন অফস্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন বর্তমান প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরের দল গঠনের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মতে, বিশেষজ্ঞ ক্রিকেটারদের বদলে 'বিটস অ্যান্ড পিসেস' বা খণ্ডকালীন অলরাউন্ডারদের উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতাই ভারতের অন্যতম বড় সমস্যা।
এক্সট্রাটাইম ওয়েব ডেস্ক: ২০২৭ সালের একদিনের বিশ্বকাপকে সামনে রেখে প্রস্তুতি শুরু করেছে ভারতীয় দল। কিন্তু ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজ হার সেই প্রস্তুতিতে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা এবং জসপ্রীত বুমরাহ দলে ফিরলেও ভারতকে এখনও বিশ্বকাপ জয়ের মতো পরিপূর্ণ দল বলে মনে করছেন না অনেকেই।
এই পরিস্থিতিতে ভারতের প্রাক্তন অফস্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন বর্তমান প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরের দল গঠনের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মতে, বিশেষজ্ঞ ক্রিকেটারদের বদলে 'বিটস অ্যান্ড পিসেস' বা খণ্ডকালীন অলরাউন্ডারদের উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতাই ভারতের অন্যতম বড় সমস্যা।
হার্দিকের বিকল্প এখনও মেলেনি
ভারতের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলির একটি হল হার্দিক পাণ্ডিয়ার নির্ভরযোগ্য বিকল্প খুঁজে বের করা। চোট-আঘাতের কারণে হার্দিকের ফিটনেস নিয়েই রয়েছে অনিশ্চয়তা। ২০২৭ বিশ্বকাপে তিনি খেলতে পারবেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
বর্তমানে নীতীশ কুমার রেড্ডি এবং শিভম দুবের নাম বিকল্প হিসেবে উঠে এলেও, নীতীশও সম্প্রতি একাধিক চোটে ভুগেছেন। তাই অশ্বিনের মতে, এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান দরকার, অস্থায়ী বা 'মেকশিফ্ট' অলরাউন্ডার দিয়ে নয়।
অশ্বিন বলেন,
"হার্দিক না থাকলে নীতীশ কুমার রেড্ডি, তারপর শিভম দুবে। কিন্তু যারা ফিট নয় বা এখনও প্রস্তুত নয়, তাদের নিয়ে বারবার আলোচনা করে লাভ নেই। চোট তো খেলাধুলারই অংশ। ২০২৩ বিশ্বকাপে হার্দিক ছিটকে যাওয়ার পর ভারত ষষ্ঠ বোলার খুঁজতে ব্যস্ত হয়নি। বরং পাঁচ বোলার নিয়েই পরিকল্পনা বদলে দলকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল।"
রাহুল দ্রাবিড়ের উদাহরণ টানলেন অশ্বিন
অশ্বিন মনে করিয়ে দেন, ২০২৩ বিশ্বকাপে হার্দিকের অনুপস্থিতিতেও তৎকালীন কোচ রাহুল দ্রাবিড় দলের মধ্যে কোনও বিভ্রান্তি তৈরি হতে দেননি।
তিনি বলেন,
"দলের প্রত্যেক ক্রিকেটারের ভূমিকা পরিষ্কার ছিল। হার্দিকের চোটের পরেও দলের স্থিতিশীলতা বজায় ছিল। সেই পরিকল্পনা নিয়েই ভারত বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছেছিল। ড্রেসিংরুমের পরিবেশ এবং খেলোয়াড়দের ভূমিকা পরিষ্কার থাকাই বিশ্বকাপ জেতার অন্যতম চাবিকাঠি।"
এরপরই বর্তমান টিম ম্যানেজমেন্টের দিকে ইঙ্গিত করে অশ্বিন বলেন,
"'বিটস অ্যান্ড পিসেস' ক্রিকেটারদের নিয়ে এই বাড়তি আগ্রহই সম্ভবত আমাদের টেস্ট ক্রিকেটেও সমস্যায় ফেলেছে। টেস্টে বিশেষজ্ঞ ক্রিকেটাররাই পার্থক্য গড়ে দেয়। ব্যাট ও বল—দুই বিভাগেই ম্যাচ জেতাতে পারে এমন বিশেষজ্ঞদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।"
১৭-১৮ জনের নির্দিষ্ট স্কোয়াড গড়ার পরামর্শ
অশ্বিনের মতে, বিশ্বকাপের আগে ভারতের উচিত একটি নির্দিষ্ট ১৭-১৮ জনের ক্রিকেটারের পুল তৈরি করা এবং আগামী ১৪ মাস সেই দল নিয়েই পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
তিনি বলেন,
"প্রথমে স্পষ্টতা দরকার। ১৭ বা ১৮ জন ক্রিকেটারকে জানিয়ে দিতে হবে, বিশ্বকাপের স্কোয়াড এই পুল থেকেই বেছে নেওয়া হবে। এই দলে দুই উইকেটকিপার, তিন স্পিনার এবং পাঁচ পেসার থাকা উচিত। আগামী ১৪ মাস এই ক্রিকেটারদের ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে খেলিয়ে সেরা একাদশ তৈরি করতে হবে। কিন্তু এই মুহূর্তে সেই স্পষ্টতারই বড় অভাব রয়েছে।"
বিশ্বকাপের আর বেশি সময় বাকি নেই। তাই দল নির্বাচন এবং ক্রিকেটারদের নির্দিষ্ট ভূমিকা নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়াই ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।
