আইপিএল ২০০৯-এর ফেমা মামলায় বড় স্বস্তি বিসিসিআই ও ললিত মোদির, ট্রাইব্যুনালের রায়ে কমল জরিমানা
সবচেয়ে বড় স্বস্তি পেয়েছেন তৎকালীন আইপিএল চেয়ারম্যান ললিত মোদি। ট্রাইব্যুনাল তাদের পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, আইপিএল-২ দক্ষিণ আফ্রিকায় আয়োজনের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন মোদি। তবে শুধুমাত্র সেই কারণেই তাঁকে ফেমা লঙ্ঘনের জন্য দায়ী করা যায় না।
এক্সট্রাটাইম ওয়েব ডেস্ক: ২০০৯ সালে আইপিএল-এর দ্বিতীয় সংস্করণ (আইপিএল-২) ভারত থেকে দক্ষিণ আফ্রিকায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া সংক্রান্ত ফরেন এক্সচেঞ্জ ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট (FEMA) লঙ্ঘনের মামলায় বড় স্বস্তি পেল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) এবং তৎকালীন বোর্ড কর্তারা। SAFEMA Appellate Tribunal-এর সাম্প্রতিক রায়ে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর আগের সিদ্ধান্তের একাংশ বাতিল করা হয়েছে এবং একাধিক ক্ষেত্রে জরিমানার পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে।
সবচেয়ে বড় স্বস্তি পেয়েছেন তৎকালীন আইপিএল চেয়ারম্যান ললিত মোদি। ট্রাইব্যুনাল তাদের পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, আইপিএল-২ দক্ষিণ আফ্রিকায় আয়োজনের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন মোদি। তবে শুধুমাত্র সেই কারণেই তাঁকে ফেমা লঙ্ঘনের জন্য দায়ী করা যায় না।
রায়ে বলা হয়েছে, "আইপিএল-এর ধারণার মূল উদ্যোক্তা ছিলেন আবেদনকারী (ললিত মোদি)। কিন্তু তাঁকে যে জরিমানা করা হয়েছে, তা তাঁর প্রকৃত দায়িত্ব এবং সে সময়কার প্রশাসনিক অবস্থান বিবেচনা না করেই করা হয়েছে। বিসিসিআই-এর ফেমা সংক্রান্ত আইনগত দায়িত্ব বা আর্থিক ক্ষমতা তাঁর হাতে ছিল—এমন কোনও যথাযথ প্রমাণও উপস্থাপন করা যায়নি। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে আরোপিত জরিমানা বাতিল করা হচ্ছে।"
রায়ের পর প্রতিক্রিয়ায় ললিত মোদি বলেন, "ট্রাইব্যুনাল ইডি-র মামলার মূল ভিত্তিকেই খারিজ করে দিয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় আইপিএল ২০০৯ আয়োজনের জন্য যে বিদেশি অর্থ লেনদেন হয়েছিল, তা মূলত 'কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ট্রানজ্যাকশন', 'ক্যাপিটাল অ্যাকাউন্ট ট্রানজ্যাকশন' নয়। ফলে ইডি-র আগের সিদ্ধান্তের ভিত্তিই ভেঙে পড়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "ট্রাইব্যুনাল এটাও স্পষ্ট করেছে যে, বিসিসিআই-এর ফেমা সংক্রান্ত আইনগত দায়িত্ব আমার ছিল না এবং যে আর্থিক ক্ষমতার অভিযোগ আনা হয়েছিল, তারও কোনও ভিত্তি নেই। গত ১৬ বছর ধরে আমি একটাই কথা বলে এসেছি—ভারতীয় ক্রিকেট ও আইপিএল-এর স্বার্থে, সম্পূর্ণ সদিচ্ছা নিয়ে আমি কাজ করেছি। ব্যক্তিগতভাবে কোনও বেআইনি কাজ করিনি।"
মোদির দাবি, ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের কারণে ভারতে আইপিএল আয়োজন করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। টুর্নামেন্টের ধারাবাহিকতা ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখতেই দক্ষিণ আফ্রিকায় সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ৩১ মে ইডি-র অ্যাডজুডিকেটিং অথরিটি মোট ১১টি শোকজ নোটিসের মধ্যে ৬টি ক্ষেত্রে ললিত মোদির বিরুদ্ধে মোট ১০.৬৫ কোটি টাকা জরিমানা ধার্য করেছিল। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে পৃথক ছয়টি আবেদন করেছিলেন তিনি। ট্রাইব্যুনাল সেই মামলাগুলিতে তাঁর পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে।
এদিকে, তৎকালীন বিসিসিআই সচিব এন. শ্রীনিবাসন এবং কোষাধ্যক্ষ এম.পি. পান্ডোভে-র জরিমানার পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। শ্রীনিবাসনের ১ কোটি টাকার জরিমানা কমিয়ে ১০ লক্ষ টাকা করা হয়েছে। অন্যদিকে পান্ডোভের ৫০ লক্ষ টাকার জরিমানা কমিয়ে ৫ লক্ষ টাকা করা হয়েছে।
শুধু ব্যক্তিগত জরিমানাই নয়, বিসিসিআই-এর উপর আরোপিত ৪ কোটি টাকার জরিমানাও কমিয়ে ১ কোটি টাকা করেছে ট্রাইব্যুনাল।
এই রায়কে আইপিএল ২০০৯-কে ঘিরে দীর্ঘদিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আইনি মামলায় বিসিসিআই এবং ললিত মোদির জন্য বড় স্বস্তি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। .
