৩৯-এর বিস্ময়! প্রথম হ্যাটট্রিকে ফুল ফোটালেন লিও মেসি
৩৯-এ এসে করলেন বিশ্বকাপের প্রথম হ্যাটট্রিক। একই দিনে মিরোস্লাভ ক্লোজের সঙ্গে যুগ্মভাবে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার কৃতিত্ব! আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচটা ৩-০ গোলে জিতল আর্জেন্টিনা। না, অন্য কারও আর গোল করার দরকার হয়নি।

গৌতম রায়
মোহময়, চমকপ্রদ, নাকি অভাবনীয়? আজ আবার নতুন করে কোন বিশেষণে ভরাবেন লিও মেসিকে? ৩৯-এর, নাকি ২৯-এর যুবরাজকে আজ দেখল বিশ্বকাপ? গত বিশ্বকাপেই অধরা ট্রফি তুলে ধরে বৃত্ত সম্পূর্ণ করে দিয়েছিলেন। তারপরও এত কিছু বাকি ছিল? থাকতে পারে? ভাবা যায়? ৩৯-এ এসে করলেন বিশ্বকাপের প্রথম হ্যাটট্রিক। একই দিনে মিরোস্লাভ ক্লোজের সঙ্গে যুগ্মভাবে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার কৃতিত্ব! আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচটা ৩-০ গোলে জিতল আর্জেন্টিনা। না, অন্য কারও আর গোল করার দরকার হয়নি।
চোট থেকে সেরে উঠছিলেন। প্রথম ম্যাচে পুরোটা খেলতে পারবেন কিনা সেটা নিয়েই সংশয় ছিল। সেই মেসি যে এভাবে চমকে দেবেন তিনি নিজেও কি ভেবেছিলেন? হ্যাঁ, তিনি লিও মেসি। মাঠে নেমে এমন কিছু করে দেবেন, যা অন্য কারও পক্ষে সম্ভব নয়। গোল করবেন, করাবেন, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এভাবে? ৩৯ সংখ্যাটাকে এভাবে ভুল প্রমাণ করে দেবেন?

মেসিময় ম্যাচ বললেও কিছু কম বলা হয়। একসঙ্গে পালন করলেন নম্বর নাইন ও নম্বর টেনের ভূমিকা। দলের রিমোটটা এমনিতে হাতেই থাকে। এদিন আরও শক্ত করে রিমোটটা ধরে দুরন্ত সব পাসের ফুলঝুরিতে খেলালেন লাউতারো মার্টিনেজ, তিয়াগো আলমাদাদের। আর তার সঙ্গে নিজেই করে ফেললেন হ্যাটট্রিক। এটাই ম্যাচ। আর কিছু নেই।
প্রথম গোলটা দূরপাল্লার মেসিসুলভ শটে। যদিও বাঁচানো উচিত ছিল জিদানপুত্র লুকার। লাফাতে একটু দেরি করে ফেলায় বলে হাত লাগিয়েও নাগাল পেলেন না। দ্বিতীয় গোলটি ফিরতি বলে। ম্যাক অ্যালিস্টার বক্সের বাইরে থেকে জোরালো গড়ানে শট নিয়েছিলেন। বল লুকার গায়ে লেগে ছিটকে এলে ছোঁ মেরে ফিরতি বল জালে পাঠান। তৃতীয় গোলটি মাটি ঘেঁষা নিখুঁত শটে।
চ্যাম্পিয়নরা যেভাবে শুরু করে, সেভাবেই শুরু করল আর্জেন্টিনা। তবে মেসি এমন খেললে আর কাকেই বা কী করতে হয়! ম্যাচটাও পরিচ্ছন্ন হল। তার জন্য অবশ্য আলজেরিয়াকেও কৃতিত্ব দিতে হবে। সমানে সমানে লড়াই করার চেষ্টা করে গেছে, কিন্তু ওই যে, ফুটবলের যুবরাজের কাছেই সব জারিজুরি শেষ। হারতে হল ওই একজনের কাছেই। পুরো এফোর্ট না দিয়েও মসৃন ফুটবল খেলে গেল আর্জেন্টিনা। আসলে এই ম্যাচে যে আর অন্য কিছু ছিল না। শুধু লিও, লিও আর লিও।
গতবার যেখানে শেষ করেছিলেন, এদিন যেন সেখান থেকেই শুরু করলেন দুই মহাতারকা মেসি ও এমবাপে। প্রথম দিন মাঠে নেমেই এই লড়াইটাও জমিয়ে দিলেন। আগের ম্যাচে আগুন ঝরালেন এমবাপে। তারপর ফুল ফোটালেন লিও। বিশ্বকাপের রোমাঞ্চ শুরু হয়ে গেল। রাতে আবার নামছেন আর একজন – সিআরসেভেন। তিনি আবার কী করেন! তবে আপাতত সেলাম লিও, সেলাম।








