পুরুষ বিশ্বকাপে নারীশক্তির জয়! নতুন ইতিহাস লিখলেন টোরি পেন্সো, নেসবিট ও ব্রুক মেয়ো
পুরুষদের বিশ্বকাপ ম্যাচে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার কোনো সম্পূর্ণ নারী অন-ফিল্ড দল ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করল

(ছবি সৌজন্যে: কনকাকাফ/টুইটার)
এক্সট্রাটাইম ওয়েব ডেস্ক: পুরুষ বিশ্বকাপে আরও একবার নারীশক্তির জয়জয়কার! বৃহস্পতিবার চেক প্রজাতন্ত্র বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচটিতে খেলা সংক্রান্ত স্মরণীয় কোনো মুহূর্ত না থাকলেও, রেফারি টোরি পেন্সো এবং সহকারী রেফারি ক্যাথরিন নেসবিট ও ব্রুক মেয়ো এই সংস্করণের বিশ্বকাপে প্রথম সম্পূর্ণ নারী রেফারিং ত্রয়ী হিসেবে ইতিহাস তৈরি করেছেন।
পুরুষদের বিশ্বকাপ ম্যাচে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার কোনো সম্পূর্ণ নারী অন-ফিল্ড দল ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করল। প্রথম ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে, যেখানে কোস্টারিকা এবং জার্মানির মধ্যকার গ্রুপ পর্বের ম্যাচের জন্য ফ্রান্সের স্টিফানি ফ্র্যাপার্টের সাথে সহকারী রেফারি হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন ব্রাজিলের নেউজা ব্যাক এবং মেক্সিকোর কারেন ডিয়াজ মেদিনা।
২০২৬ সালের এই প্রতিযোগিতার জন্য ফিফা নিযুক্ত ১৭০ জন ম্যাচ অফিসিয়ালের মধ্যে মাত্র ছয়জন নারী—দুজন রেফারি, তিনজন সহকারী রেফারি এবং একজন ভিএআর (VAR) অফিসিয়াল—বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল প্রতিযোগিতার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।
একসঙ্গে বাধা ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এই ত্রয়ী মোটেও অপরিচিত নন। ২০২৩ সালের স্পেন এবং ইংল্যান্ডের মধ্যকার নারী বিশ্বকাপ ফাইনালে দায়িত্ব পালন করার সময় তাঁরা ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনাল পরিচালনা করা প্রথম আমেরিকান রেফারিং ক্রু হয়ে ওঠেন। ২০২৫ সালে অস্টিন এফসি বনাম ন্যাশভিল এসসির ম্যাচের দায়িত্ব নেওয়ার মাধ্যমে তাঁরা ল্যামার হান্ট ইউ.এস. ওপেন কাপ ফাইনাল পরিচালনা করা প্রথম সম্পূর্ণ নারী অন-ফিল্ড ক্রু হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।
এই ঐতিহাসিক ক্রু-র কেন্দ্রে রয়েছেন পেন্সো; ফ্লোরিডার বাসিন্দা পেন্সো কিছু অতিরিক্ত অর্থ উপার্জনের জন্য মাত্র ১৪ বছর বয়সে রেফারিং শুরু করেছিলেন। ফুটবলের বাইরে তিনি ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন এবং বেশ কয়েকটি বড় ব্র্যান্ডের সাথে কাজ করার পাশাপাশি পরবর্তীতে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় একজন খণ্ডকালীন অধ্যাপক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
রেফারিংয়ের র্যাংকিংয়ে পেন্সোর উত্থানও সমানভাবে চিত্তাকর্ষক ছিল। ২০১৫ সালে ন্যাশনাল উইমেনস সকার লিগে তাঁর অভিষেক হয় এবং ২০২০ সালে গত দুই দশকের মধ্যে প্রথম নারী হিসেবে একটি মেজর লিগ সকার ম্যাচ পরিচালনা করেন। তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ২০২১ সালে তাঁকে ফিফা ব্যাজ এনে দেয় এবং ২০২৩ সালের নারী বিশ্বকাপ ফাইনাল ও প্যারিস অলিম্পিক সহ বেশ কিছু বড় টুর্নামেন্টে ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ করে দেয়। চেকিয়া-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচটি তাঁর ক্রমবর্ধমান অর্জনের তালিকায় আরও একটি নতুন পালক যোগ করল।
সহকারী রেফারি ক্যাথরিন "ক্যাটি" নেসবিটের ব্যাকগ্রাউন্ড বিশ্ব ফুটবল রেফারিংয়ের ক্ষেত্রে অন্যতম ব্যতিক্রমী। তিনি ইউনিভার্সিটি অব পিটসবার্গ থেকে অ্যানালিটিক্যাল কেমিস্ট্রিতে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং এর আগে মস্তিষ্কের রসায়ন ও স্নায়বিক প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণা করার পাশাপাশি একজন সহকারী অধ্যাপক হিসেবেও কর্মরত ছিলেন।
নেসবিট শেষ পর্যন্ত রেফারিংকে ফুল-টাইম ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নেন এবং বর্তমান ফুটবলের অন্যতম সম্মানিত সহকারী রেফারি হয়ে উঠেছেন। তিনি ২০১৬ সালে তাঁর ফিফা ব্যাজ লাভ করেন এবং একাধিক নারী বিশ্বকাপ ও অলিম্পিক গেমসের জন্য নির্বাচিত হন।
খেলার মাঠ, কোচিং এবং রেফারিংয়ের এক দারুণ মেলবন্ধনের ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে এই ঐতিহাসিক ত্রয়ীকে সম্পূর্ণ করেছেন মেয়ো। টেক্সাসের বাসিন্দা মেয়ো টেনিসি টেক ইউনিভার্সিটিতে ডিভিশন ১ ফুটবল খেলেছেন। এরপর তিনি বেশ কয়েক বছর শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক এবং একটি হাই-স্কুল ফুটবল দলের কোচ হিসেবেও কাজ করেছেন।
মেয়ো ২০১৮ সালে ফিফার আন্তর্জাতিক প্যানেলে স্থান পান এবং ক্রমাগত সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠেছেন। তিনি নারী বিশ্বকাপ, অলিম্পিক গেমস এবং ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনা করেছেন, পাশাপাশি আমেরিকার ঘরোয়া প্রতিযোগিতাগুলোতেও একটি পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন।








