থিয়েরি অঁরির কড়া সমালোচনা: ‘রোনালদো পর্তুগালকে আরও দুর্বল করে তুলছে’
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করার পর আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন পর্তুগালের অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। আর এবার তার পারফরম্যান্স নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন ফরাসি ফুটবল কিংবদন্তি থিয়েরি অঁরি।

এক্সট্রাটাইম ওয়েব ডেস্ক:
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করার পর আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন পর্তুগালের অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। আর এবার তার পারফরম্যান্স নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন ফরাসি ফুটবল কিংবদন্তি থিয়েরি অঁরি।
ম্যাচ-পরবর্তী বিশ্লেষণে অঁরি দাবি করেন, রোনালদো দলের স্বার্থের চেয়ে ব্যক্তিগত গোল করার দিকে বেশি মনোযোগী ছিলেন। তার মতে, এই মানসিকতাই পর্তুগালের আক্রমণভাগের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করেছে এবং দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
বিশ্বকাপজয়ী এই প্রাক্তন ফরাসি তারকা বলেন,
“সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দল গোল করুক, তুমি নয়। কিন্তু রোনালদো নিজেই গোল করতে চাওয়ায় এমন জায়গায় চলে যাচ্ছিলেন, যেখানে তার সতীর্থদের জন্য সুযোগ তৈরি হওয়ার বদলে রক্ষণভাগের কাজ সহজ হয়ে যাচ্ছিল। দলকে গোল করতে হবে, শুধু একজন খেলোয়াড়কে নয়।”
ফক্স স্পোর্টসের বিশ্লেষণ পর্বে অঁরি বেশ কয়েকটি আক্রমণাত্মক মুহূর্ত তুলে ধরেন। তার মতে, রোনালদোর অবস্থান নেওয়ার ধরন অনেক সময় সতীর্থদের জন্য জায়গা সংকুচিত করেছে, বিশেষ করে পর্তুগালের অন্যতম সৃজনশীল মিডফিল্ডার ব্রুনো ফার্নান্দেসের জন্য।
অঁরির মতে, সমস্যাটি শুধুমাত্র রোনালদোর গোল না পাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং পর্তুগালের পুরো আক্রমণভাগ এখনও অতিরিক্তভাবে একজন খেলোয়াড়কে ঘিরে গড়ে উঠছে, যা আধুনিক ফুটবলে বড় দুর্বলতা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
তিনি ইঙ্গিত দেন যে, যদি পর্তুগাল সত্যিই ২০২৬ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখে, তাহলে তাদের আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও দলনির্ভর ফুটবল খেলতে হবে। শুধুমাত্র ৪১ বছর বয়সী রোনালদোর ওপর নির্ভরশীলতা দলকে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য এনে দিতে নাও পারে।
রোনালদোর দীর্ঘ ক্যারিয়ার, অসাধারণ গোলসংখ্যা এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার অবদান নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই। তবে কঙ্গোর বিপক্ষে হতাশাজনক ড্রয়ের পর নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে—পর্তুগালের এই প্রতিভাবান প্রজন্মকে কীভাবে সবচেয়ে ভালোভাবে কাজে লাগানো যাবে, এবং সেই প্রক্রিয়ায় অধিনায়ক রোনালদোর ভূমিকা ঠিক কী হওয়া উচিত।
বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলোতে পর্তুগাল কীভাবে এই ভারসাম্য খুঁজে পায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।








