অ্যাসিড আক্রান্ত উইসা-ই হয়ে গেলেন পর্তুগালের পথের কাঁটা! কঙ্গোর নতুন নায়কের লড়াই চোখে জল আনবে
পাঁচ বছর আগে তাঁর জীবনে এমন এক ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছিল, যা তাঁর ক্যারিয়ারকেই থামিয়ে দিতে পারত।

এক্সট্রা টাইম ওয়েব ডেস্ক: ২০২৬ বিশ্বকাপে পর্তুগালের বিরুদ্ধে ম্যাচে সমতা ফেরানো গোল করে কাম্পালায় এইদিনের নায়ক হয়ে উঠলেন ইয়োয়ানে উইসা। নিউক্যাসল ইউনাইটেড, ব্রেন্টফোর্ড এবং ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর জার্সিতে তাঁর অবদানের কথা ফুটবলপ্রেমীদের অজানা নয়। তবে পাঁচ বছর আগে তাঁর জীবনে এমন এক ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছিল, যা তাঁর ক্যারিয়ারকেই থামিয়ে দিতে পারত।
২০২১ সালের ১ জুলাই, তখন তিনি ফরাসি ক্লাব লরিয়ঁ-র ফুটবলার। সেই সময় এক নারী তাঁর বাড়িতে ঢুকে উইসার মুখে অ্যাসিড ছুড়ে মারে এবং তাঁর মেয়েকে অপহরণের চেষ্টা করে। গুরুতরভাবে আহত উইসাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তাঁর চোখে জরুরি অস্ত্রোপচার করতে হয়। ঘটনার পরের দিন একই নারী আরও এক মহিলার উপর অ্যাসিড হামলা চালায়।
এএফপি-র প্রতিবেদনে জানা যায়, অভিযুক্ত নারী দাবি করেছিলেন যে তাঁর মেয়ে হাসপাতালে ভর্তি এবং তিনি নিজেও গর্ভবতী। নিজের গল্পকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে তিনি একটি শিশু কন্যাকে অপহরণও করেছিলেন। ২০২১ সালের ৩ জুলাই পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি কিছু অভিযোগ স্বীকার করলেও কিছু অস্বীকার করেন। কিশোরী বয়স থেকেই তিনি ‘অন্তরের কণ্ঠস্বর’ শুনতেন বলে দাবি করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তাঁকে হত্যাচেষ্টা ও অপহরণের দায়ে ১৮ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
ঘটনাটি ঘটেছিল উইসার ক্যারিয়ারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে। তখন তিনি লরিয়ঁ থেকে ব্রেন্টফোর্ডে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ভয়াবহ হামলার পরও তিনি হাল ছাড়েননি। লরিয়ঁ-র তৎকালীন কোচ ক্রিস্তফ পেলিসিয়ে হামলার পরদিন হাসপাতালে গিয়ে তাঁকে দেখেছিলেন।
পেলিসিয়ে বলেছিলেন, “শারীরিক ও মানসিকভাবে ভীষণ আঘাত পেলেও ইয়োয়ানে খুব দ্রুত নিজের দৃঢ়তা দেখিয়েছিল। ওর সবচেয়ে বড় গুণ ছিল কখনও হাল না ছাড়া।”
উইসার সাবেক সতীর্থ পিয়ের-ইভ হামেলও জানিয়েছেন, হামলার পর তিনি কখনও অভিযোগ করেননি বা হতাশায় ভেঙে পড়েননি। বরং সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথই বেছে নিয়েছিলেন।
সেই লড়াইয়ের ফল আজ সবার সামনে। মৃত্যুফাঁদ থেকে ফিরে আসা সেই ফুটবলারই এখন বিশ্বকাপে কঙ্গোর অন্যতম বড় নায়ক।








