সুইসদের দৌড় থামিয়ে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা, এবার ফিরছে হ্যান্ড অফ গডের নস্ট্যালজিয়া
সুইসদের ৩-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের সামনে পৌঁছে গেল আর্জেন্টিনা। ম্যাক আলিস্টার, আলভারেজ ও লাউতারো মার্টিনেজ আর্জেন্টিনার গোলগুলি করলেন। সুইরজারল্যান্ডের একমাত্র গোল এনডোয়ের।

গৌতম রায়
কে ভেবেছিল, মেসির আর্জেন্টিনাকে এইভাবে, এত কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দেবে ৭২ বছর পর বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে আসা সুইৎজারল্যান্ড? ১২০ মিনিট রীতিমত কালঘাম ছুটে গেল মেসিদের। এম্বোলোর লাল কার্ডটা না হলেও যে কী হত, সে প্রশ্নও ঘুরে ফিরে আসছে। তবু যেটা হল, সুইসদের ৩-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের সামনে পৌঁছে গেল আর্জেন্টিনা। ম্যাক আলিস্টার, আলভারেজ ও লাউতারো মার্টিনেজ আর্জেন্টিনার গোলগুলি করলেন। সুইরজারল্যান্ডের একমাত্র গোল এনডোয়ের।
মেসির পেনিট্রেটিভ পাস বাড়ানো ও দৌড়ের জায়গাটা অনেকটাই বন্ধ করে দিয়ে আর্জেন্টাইন যুবরাজকে এদিন অনেকটাই থামিয়ে দিতে পেরেছিল সুইস রক্ষণ। যে কারণে মেসি মাঝে মাঝে নেমে এসে সুইৎজারল্যান্ডের দুই স্টপারকে তাদের জায়গা থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন যাতে সামনে থাকা আলভারেজ ও দুই উইংগার অনেক বেশি ফাঁকা জায়গা পান।
পাশাপাশি সুইৎজারল্যান্ডের মাঝমাঠে এমবোলো-জাকারা যাতে খেলা তৈরি করতে না পারেন সেজন্য হাই প্রেসিং ফুটবল খেলছিলেন আর্জেন্টিনীয়রা।
অন্যদিকে হাই প্রেসিং ফুটবল খেলছিল সুইৎজারল্যান্ডও। মাঝে মাঝেই ব্যাপারটাকে গা জোয়ারি ফুটবলের দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন দু দলের ফুটবলাররা। প্রথমার্ধের পর বিরতিতে কি এ ব্যাপারে দলকে সাবধান করে দিয়েছিলেন দুই কোচ? তাই কি দ্বিতীয়ার্ধ থেকে গা জোয়ারি ফুটবলটা একটু কমল?
রক্ষণকে আরও জমাট করতে চার ডিফেন্ডারের সামনে আরও দুজনকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিলেন সুইস কোচ মুরাত ইয়াকিন। এবং এনডোয়ে ও এমবোলোর গতি ব্যবহার করে দ্রুত প্রতিআক্রমণ তুলে এনে আর্জেন্টাইন রক্ষণকে চাপে ফেলার কৌশল নিয়ে নেমেছিল সুইসরা। মাঝমাঠ থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন অধিনায়ক জাকা।
এদিন শুরুতেই গোল পেয়ে যাওয়ায় আর্জেন্টিনার চাপটা অবশ্য অনেক কমে যায়। কর্ণার থেকে মেসির যেমন দুর্দান্ত ডেলিভারি, ম্যাক আলিস্টারের সে রকমই নিখুঁত হেডে গোল।
দ্বিতীয়ার্ধে গোল শোধের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে সুইৎজারল্যান্ড। আর্জেন্টাইন রক্ষণের দুর্বলতা দেখিয়ে দিয়ে এমবোলোরা বার তিনেক প্রবলভাবে ঝাঁকুনি দিয়ে যান। কোনও রকমে সামাল দেন এমি মার্টিনেজ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সামাল দিতে পারলেন না। বাঁদিক থেকে বক্সে ঢুকে গোলটি শোধ করে গেলেন এনডোয়ে।
এরপরই নাটক। প্লে অ্যাকটিং করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের ফলে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হল এমবোলোকে। কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছাড়লেন এতক্ষণ আর্জেন্টিনাকে চাপে রাখা সুইস ফুটবলার।
তারপরই ম্যাচের চালচিত্রটা বদলে গেল। এম্বোলো সঙ্গে করে যেন সুইৎজারল্যান্ডের আক্রমণ করার শক্তিটাও মাঠের বাইরে নিয়ে চলে গেলেন। তবু ম্যাচটাকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে গেল সুইস রক্ষণ ও গোলরক্ষক। অন্তত বার তিনেক মেসিদের হতাশ করলেন সুইস গোলরক্ষক। তবু শেষ রক্ষা হল না।
১১৩ মিনিটে আর্জেন্টিনাকে সেমিফাইনালে তোলার শটটা নিলেন জুলিয়েন আলভারেজ। দ্বিতীয় পোস্টের কোন দিয়ে বল আছড়ে পড়ল জালে। তারপর লাউতারো মার্টিনেজের গোলটা যেন বোনাস। যেন ইংল্যান্ড শিবিরে বার্তাটা পৌঁছে দেওয়া, আমরা আসছি।
লড়াই শেষ। উদ্যম শেষ। আশা শেষ। স্বপ্ন শেষ। সব শেষ সুইৎজারল্যান্ডের। আর আর্জেন্টিনা? সুইসদের ছিটকে দিয়ে হ্যান্ড অফ গডের নস্ট্যালজিয়াকে আবার জীবন্ত করে তুলল। বুধবার রাতের সেই যুদ্ধে মারাদোনা নেই, আছেন তাঁর উত্তরসূরি লিও মেসি। এবার কি হ্যান্ড অফ গড নয়, ভগবানের বাঁপায়ে লেখা হবে অন্য রূপকথা? নাকি হ্যান্ড অফ গডের বদলার রঙে কেন-বেলিংহ্যামদের পায়ে ক্যানভাসে আঁকা হবে যন্ত্রণামুক্তির কোনও উজ্জ্বল ছবি?
ছবি সৌজন্য এক্স - ফিফা
