ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত? ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে আইওসিতে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা লঙ্ঘনের অভিযোগ
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে তদন্তের দাবি জানিয়ে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (IOC)-এর কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

এক্সট্রাটাইম ওয়েব ডেস্ক
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে তদন্তের দাবি জানিয়ে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (IOC)-এর কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের অন্যতম ভিত্তি হলো, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের পর যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা।
বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের রাউন্ড অব ৩২ ম্যাচে ৬৪তম মিনিটে তারিক মুহারেমোভিচের ওপর করা একটি ট্যাকলের জন্য বালোগুন সরাসরি লাল কার্ড দেখেন। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, এই লাল কার্ডের ফলে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল এবং সেটি আপিলযোগ্যও ছিল না।
তবে ৫ জুলাই ফিফা এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে জানায়, "ফিফা ডিসিপ্লিনারি কোডের ২৭ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের খেলোয়াড় ফোলারিন বালোগুনের স্বয়ংক্রিয় ম্যাচ নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা এক বছরের পরীক্ষামূলক সময়ের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।" এই সিদ্ধান্তের পক্ষে ফিফা আর কোনও ব্যাখ্যা দেয়নি।
পরে ইনফান্তিনো স্বীকার করেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিষয়টি নিয়ে তাকে ফোন করেছিলেন। ট্রাম্প নিজেও এই হস্তক্ষেপের কথা স্বীকার করে বলেন, "আমি শুধু সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেছিলাম, কারণ আমার মনে হয়নি এটি ফাউল ছিল। আমি মনে করেছি, দুজন দুর্দান্ত অ্যাথলিট একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে জড়িয়ে পড়েছিল।"
ট্রাম্প ফিফার সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেন এবং ম্যাচের রেফারির সিদ্ধান্তকে "ভুল" বলেও মন্তব্য করেন।
নিষেধাজ্ঞা স্থগিত হওয়ায় বালোগুন বেলজিয়ামের বিপক্ষে মাঠে নামার সুযোগ পান। যদিও সেই ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্র ৪-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয়।
বিতর্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠলে ইনফান্তিনো দাবি করেন, ফিফার বিচারিক সংস্থাগুলো সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করে।
ফিফার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তার বিবৃতিতে বলা হয়, "বিচারিক সংস্থাগুলোর স্বাধীনতা ফুটবলের বিশ্বাসযোগ্যতা ও অখণ্ডতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই স্বাধীনতাকে সবসময় সম্মান করা উচিত।"
অভিযোগকারী সংস্থা ফেয়ারস্পোর্ট জানিয়েছে, আইওসির সদস্য হিসেবে ইনফান্তিনো অলিম্পিক চার্টার এবং আইওসি নৈতিকতা বিধির আওতাভুক্ত, যেখানে কঠোর রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
সংস্থাটি এক বিবৃতিতে বলেছে, "ফেয়ারস্কোয়ারের অভিযোগে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ইনফান্তিনো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়ে বা তার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আইওসির রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার নিয়ম অন্তত পাঁচবার লঙ্ঘন করেছেন।"
বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের ঘটনাই শুধু নয়, অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে— ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য সমর্থন জানানো, ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে অভিষেক-সংক্রান্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিতি, ফিফার প্রথম ‘পিস প্রাইজ’ ট্রাম্পের হাতে তুলে দেওয়া এবং ফিফা বিশ্বকাপের একটি ফ্যান প্ল্যাটফর্মের প্রচার, যা অভিযোগ অনুযায়ী ট্রাম্প-সংশ্লিষ্ট একটি ডেটা সংগ্রহ অভিযানের সঙ্গে যুক্ত ছিল।
এর আগে গত ডিসেম্বরে ফেয়ারস্কোয়ার ফিফার এথিকস কমিটির কাছেও একই বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করেছিল। সেই অভিযোগকে সমর্থন জানায় নরওয়েজিয়ান ফুটবল ফেডারেশন। পরে চলতি বছরের জুন মাসে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ৫০ জন সদস্য পৃথকভাবে একই দাবির পক্ষে সমর্থন জানান।
এখন আইওসি এই অভিযোগের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মহলের।
