বিনা দোষে শাস্তি, ক্রকেট জীবন অকালে শেষ, অভিমানে দেশত্যাগ, সুভাষ গুপ্তের সেই ট্র্যাজিক স্টোরি
সুভাষ গুপ্তের কোনও দোষ ছিল না। তাঁর একমাত্র অপরাধ ছিল তিনি কৃপাল সিংয়ের রুমমেট ছিলেন এবং কেন তিনি এর প্রতিবাদ করে কৃপালকে বাধা দেননি। যদিও প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক নরি কনট্র্যাক্টর গুপ্তেকে সমর্থন করে জানিয়ে ছিলেন ঘটনা ঘটার সময় গুপ্তে অন্য আরও ৬ জন ক্রিকেটারের সঙ্গে তাঁর ঘরে তাস খেলছিলেন। তবু তাঁকে শাস্তি দেওয়া হয়।

এক্সট্রাটাইম ওয়েব ডেস্ক
ভাবা যায়! দেশের কিংবদন্তি লেগ স্পিনার, অথচ তাঁকে বিনা দোষে নির্বাসিত হতে হয়েছিল! তারপর অভিমানে দেশ ছেড়ে চলে যেতে হয়েছিল! হ্যাঁ, এমনই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছিল সুভাষ গুপ্তের সঙ্গে।
ভারতের হয়ে ৩৬টি টেস্টে নিয়েছিলেন ১৪৯টি উইকেট। তাঁর লেগ স্পিন, গুগলি ও টপ স্পিনে বিশ্বের বাঘা বাঘা ব্যাটসম্যানকে নাস্তানাবুদ করেছিলেন। প্রাক্তন ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান কিংবদন্তি স্যর গ্যারি সোবার্স তাঁকে শেন ওয়ার্নের চেয়েও এগিয়ে রাখতেন।
কিন্তু ১৯৬১ সালে ঘটে যায় সেই অবাঞ্ছিত ঘটনা। ইংল্যান্ডের ভারত সফরে দিল্লিতে ছিল চতুর্থ টেস্ট। সেই সময় ভারতীয় দলের সদস্য কৃপাল সিং হোটেলের রিসেপসনিস্টকা আহ্বান জানান কাজের শেষে তাঁর ঘরে ড্রিঙ্ক করার জন্য। কিন্তু সেই রিসেপসনিস্ট এই ঘটনায় অভিযোগ জানান। এবং বিসিসিআই কৃপাল সিংয়ের সঙ্গে সুভাষ গুপ্তেকেও শাস্তি দেয়। পরের টেস্ট ও পরের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর থেকে তাঁদার নির্বাসিত করা হয়।
সুভাষ গুপ্তের কোনও দোষ ছিল না। তাঁর একমাত্র অপরাধ ছিল তিনি কৃপাল সিংয়ের রুমমেট ছিলেন এবং কেন তিনি এর প্রতিবাদ করে কৃপালকে বাধা দেননি। যদিও প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক নরি কনট্র্যাক্টর গুপ্তেকে সমর্থন করে জানিয়ে ছিলেন ঘটনা ঘটার সময় গুপ্তে অন্য আরও ৬ জন ক্রিকেটারের সঙ্গে তাঁর ঘরে তাস খেলছিলেন। তবু তাঁকে শাস্তি দেওয়া হয়।
তিনি তারপর ভারতের হয়ে আর কোনও টেস্ট খেলেননি এবং অভিমানে দেশ ছেড়ে ত্রিনিদাদে চলে গিয়েছিলেন। সেখানকার মহিলাকে বিয়ে করে পাকাপাকিভাবে সেখানেই থেকে যান।
এই হল দেশের কিংবদন্তি স্পিনারের বিনা দোষে অকালে ক্রিকেট জীবন শেষ হয়ে যাওয়া ও দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার কাহিনি।
