দিল্লি প্রিমিয়ার লিগে ‘ফিক্সিং’ বিতর্ক! ক্রিকেটারের অভিযোগে চাঞ্চল্য
ডিডিসিএর দাবি, দিল্লি প্রিমিয়ার লিগে দুর্নীতি রুখতে তারা আগে থেকেই একটি বিশেষ ব্যবস্থা তৈরি করেছিল। আটটি দলের সঙ্গেই নিরাপত্তা ও দুর্নীতি দমন সংক্রান্ত আধিকারিকদের যুক্ত করা হয়েছিল। এই ব্যবস্থার জন্য প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লক্ষ টাকা খরচ করা হয়। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকেরা দলগুলির সঙ্গে সফর করার পাশাপাশি হোটেলেও তাঁদের সঙ্গে ছিলেন।

এক্সট্রাটাইম ওয়েবডেস্ক: দিল্লি প্রিমিয়ার লিগের তৃতীয় সংস্করণ শেষ হওয়ার পরই নতুন বিতর্কে জড়াল টুর্নামেন্ট। গত ৩১ জুলাই শুরু হয়ে ৩০ আগস্ট শেষ হওয়া এই প্রতিযোগিতায় ম্যাচ গড়াপেটার প্রস্তাব পাওয়ার অভিযোগ সামনে এনেছেন সেন্ট্রাল দিল্লি কিংসের ক্রিকেটার বংশ বেদি। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিবেশী রাজ্যের এক ক্রিকেটার তাঁকে ম্যাচ গড়াপেটার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। বংশ বিষয়টি দিল্লি ও জেলা ক্রিকেট সংস্থার দুর্নীতি দমন শাখাকে জানান। বিষয়টি নথিভুক্তও করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ডিডিসিএ সচিব অশোক শর্মা জানিয়েছেন, বংশ বেদি দুর্নীতি দমন শাখাকে জানান যে উত্তরপ্রদেশের এক ক্রিকেটার তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। ওই ক্রিকেটার সেই সময় উত্তরপ্রদেশের একটি টি-টোয়েন্টি লিগেও খেলছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অভিযোগের সঙ্গে দিল্লি প্রিমিয়ার লিগের সপ্তম ম্যাচের ঘটনাও যুক্ত। অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে সেন্ট্রাল দিল্লি কিংস ও নর্থ দিল্লি স্ট্রাইকার্সের মধ্যে সেই ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এই ম্যাচকে ঘিরে একটি গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা অভিযানের মাধ্যমে বিষয়টি সামনে আসে। সেখানে প্রাক্তন রঞ্জি ট্রফি ক্রিকেটার রচিত ভাটিয়া ম্যাচের আগে সম্ভাব্য একাদশের তথ্য পাওয়ার সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই পরিস্থিতিতে বিষয়টি কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে, সেই বিষয়ে নির্দেশিকা চেয়ে ইতিমধ্যেই ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে ডিডিসিএ। অশোক শর্মা জানিয়েছেন, বিসিসিআই যে সমস্ত নথি বা প্রমাণ চাইবে, সেগুলি দিতে তাঁরা সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবেন। এর মধ্যে প্রাপ্ত ভিডিও ফুটেজও রয়েছে।
ডিডিসিএর দাবি, দিল্লি প্রিমিয়ার লিগে দুর্নীতি রুখতে তারা আগে থেকেই একটি বিশেষ ব্যবস্থা তৈরি করেছিল। আটটি দলের সঙ্গেই নিরাপত্তা ও দুর্নীতি দমন সংক্রান্ত আধিকারিকদের যুক্ত করা হয়েছিল। এই ব্যবস্থার জন্য প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লক্ষ টাকা খরচ করা হয়। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকেরা দলগুলির সঙ্গে সফর করার পাশাপাশি হোটেলেও তাঁদের সঙ্গে ছিলেন।
তবে গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা ওই অভিযানে ওঠা অভিযোগ এবং রেকর্ডিংকে এখনও ম্যাচ গড়াপেটার প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত বা পরবর্তী পদক্ষেপের ক্ষেত্রে ডিডিসিএর পরবর্তী সিদ্ধান্ত অনেকটাই নির্ভর করবে বিসিসিআইয়ের জবাবের উপর। এখন বোর্ডের নির্দেশের অপেক্ষায় দিল্লি ক্রিকেট সংস্থা।








