পাঁচ বোলারই দিলেন ৪০ বা তার বেশি, নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে লজ্জার রেকর্ড ভারতের বোলিং ইউনিটের
ক্রাইস্টচার্চে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ভারতের বোলিং আক্রমণকে যেন চিনতেই পারা গেল না। ম্যাচের আগে যে বোলিং ইউনিটকে ভারতের অন্যতম শক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছিল, তারাই হ্যাগলি ওভালে ধারাবাহিকভাবে রান খরচ করে নিউজিল্যান্ডকে বড় স্কোরের সুযোগ করে দিল। শুধু রান খরচ নয়, ম্যাচের বিভিন্ন সময়ে ভারতের বোলারদের পরিকল্পনা ও নিয়ন্ত্রণের অভাবও স্পষ্ট হয়ে উঠল।

এক্সট্রাটাইম ওয়েবডেস্ক: ক্রাইস্টচার্চে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ভারতের বোলিং আক্রমণকে যেন চিনতেই পারা গেল না। ম্যাচের আগে যে বোলিং ইউনিটকে ভারতের অন্যতম শক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছিল, তারাই হ্যাগলি ওভালে ধারাবাহিকভাবে রান খরচ করে নিউজিল্যান্ডকে বড় স্কোরের সুযোগ করে দিল। শুধু রান খরচ নয়, ম্যাচের বিভিন্ন সময়ে ভারতের বোলারদের পরিকল্পনা ও নিয়ন্ত্রণের অভাবও স্পষ্ট হয়ে উঠল।
টস জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ভারত। কিন্তু শুরু থেকেই সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেন নিউজিল্যান্ডের ব্যাটাররা। ফিন অ্যালেন মাত্র ২৪ বলে ৪৫ রান করে আগ্রাসী শুরু এনে দেন। এরপর গ্লেন ফিলিপস ভারতীয় বোলিংকে আরও চাপে ফেলেন। মাত্র ৪০ বলে অপরাজিত ৮২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তিনি। বেভন জ্যাকবসও ১৬ বলে ৩১ রান যোগ করেন। ফলে ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ২২৫ রান তোলে নিউজিল্যান্ড, ভারতের বিরুদ্ধে তাদের যৌথভাবে সর্বোচ্চ টি-টোয়েন্টি স্কোর।
ভারতের বোলিং পরিসংখ্যানও সেই হতাশার ছবিটাই তুলে ধরেছে। ভুবনেশ্বর কুমার ৪৯, অর্শদীপ সিং ৪৫, মায়াঙ্ক যাদব ৪০, নীতীশ কুমার রেড্ডি ৪০ এবং অক্ষর প্যাটেল ৫১ রান খরচ করেন। পুরুষদের টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এই প্রথম একই ইনিংসে ভারতের পাঁচ বোলার ৪০ বা তার বেশি রান দিলেন। এমন বিরল পরিসংখ্যান নিঃসন্দেহে ভারতীয় বোলিংয়ের জন্য অস্বস্তিকর।
ভুবনেশ্বর দীর্ঘ বিরতির পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেছেন এবং জসপ্রীত বুমরাহও এই ম্যাচে ছিলেন না—এই বিষয়গুলি অবশ্যই বিবেচনায় রাখতে হবে। কিন্তু তার পরেও শেষ পাঁচ ওভারে ৬৭ রান খরচ করা ভারতের জন্য বড় উদ্বেগের জায়গা। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটারদের উপর চাপ তৈরি করতে পারেনি ভারতীয় বোলিং ইউনিট।
বিশেষ করে টি-টোয়েন্টির মতো ফরম্যাটে যেখানে কয়েকটি ভালো ওভারই ম্যাচের গতি বদলে দিতে পারে, সেখানে ভারত সেই নিয়ন্ত্রণটা ধরে রাখতে পারেনি। নিউজিল্যান্ডের ব্যাটাররা বারবার আক্রমণ করেছে এবং ভারতীয় বোলাররা তার কার্যকর জবাব খুঁজে পাননি।
একটি ম্যাচের পারফরম্যান্স দিয়ে পুরো বোলিং ইউনিটকে বিচার করা ঠিক নয়। তবে এই ম্যাচ ভারতের সামনে কিছু স্পষ্ট প্রশ্নও তুলে দিয়েছে—চাপের সময়ে পরিকল্পনা কতটা কার্যকর, ডেথ ওভারে নিয়ন্ত্রণ কোথায় এবং আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের সামনে বোলাররা কতটা দ্রুত নিজেদের পরিকল্পনা বদলাতে পারছেন। সিরিজের পরের ম্যাচে এই জায়গাগুলিতেই উন্নতি দেখানোর বড় দায়িত্ব থাকবে ভারতের বোলিং ইউনিটের উপর।








