লং জাম্পে নতুন শিরোপা, হাই জাম্পে পুরনো রাজত্ব: নিশাদের ডাবল গোল্ড
হাঁটুর চোট হাই জাম্পের পথ কঠিন করে দিয়েছিল, কিন্তু সেই বাধাই নিশাদ কুমারকে দেখিয়েছিল নতুন এক রাস্তা। লং জাম্পে প্রায় নতুন হয়েও সোনা জিতে নেন তিনি, আর পরের দিন হাই জাম্পে শিরোপা ধরে রেখে পূর্ণ করেন দুর্দান্ত ডাবল গোল্ড। যে চোট তাঁকে নিজের সেরা ইভেন্ট নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছিল, শেষ পর্যন্ত সেই চ্যালেঞ্জই জাপানের মাটিতে তাঁর সাফল্যের গল্পকে আরও বিশেষ করে তুলল।

এক্সট্রাটাইম ওয়েবডেস্ক: হাঁটুর চোট হাই জাম্পের পথ কঠিন করে দিয়েছিল, কিন্তু সেই বাধাই নিশাদ কুমারকে দেখিয়েছিল নতুন এক রাস্তা। লং জাম্পে প্রায় নতুন হয়েও সোনা জিতে নেন তিনি, আর পরের দিন হাই জাম্পে শিরোপা ধরে রেখে পূর্ণ করেন দুর্দান্ত ডাবল গোল্ড। যে চোট তাঁকে নিজের সেরা ইভেন্ট নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছিল, শেষ পর্যন্ত সেই চ্যালেঞ্জই জাপানের মাটিতে তাঁর সাফল্যের গল্পকে আরও বিশেষ করে তুলল।
ভারতের অন্যতম সেরা টি ৪৭ হাই জাম্পার নিশাদ কুমার ২০২৬ সালের মরশুমে হাঁটুর সমস্যার কারণে খুব বেশি প্রতিযোগিতায় নামতে পারেননি। হাই জাম্পের অ্যাপ্রোচে প্রায় ৬০ ডিগ্রি ঝুঁকে দৌড়তে হয়, যা তাঁর হাঁটুর সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছিল। ফলে জোর করে নিজের সেরা ইভেন্টে এগিয়ে যাওয়ার বদলে বিকল্প পথ খুঁজতে শুরু করেন নিশাদ ও তাঁর দল।
সেখান থেকেই আসে লং জাম্পের ভাবনা। পরিকল্পনাটি প্রথমে ছিল অনেকটাই গোপন। এমনকী নিশাদের পরিবারের কাছেও বিষয়টি স্পষ্ট ছিল না। তাঁরা ভেবেছিলেন, এশিয়ান প্যারা গেমসে নিশাদ শুধুমাত্র হাই জাম্পেই অংশ নেবেন। কিন্তু নাগোয়ার মাটিতে লং জাম্পের রানওয়েতে যখন তিনি নামলেন, তখন সেটিই হয়ে উঠল তাঁর জন্য এক নতুন অধ্যায়ের শুরু।
“হাই জাম্পে হাঁটুর সমস্যা হচ্ছিল। তাই লং জাম্প চেষ্টা করার কথা ভাবি। আমরা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিই, লং জাম্প করা যায় কি না,” জানিয়েছিলেন নিশাদ। মরশুমে এই ইভেন্টে তাঁর প্রায় কোনও বড় আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাই ছিল না।
তবুও অভিজ্ঞতার ঘাটতি তাঁকে থামাতে পারেনি। ১৯ অক্টোবর টি ৪৭ লং জাম্পে ৭.১১ মিটার লাফ দিয়ে সোনা জিতে নেন নিশাদ। যে ইভেন্টে নামাটাই ছিল চোটের কারণে নেওয়া বিকল্প সিদ্ধান্ত, সেটিই তাঁকে এনে দেয় প্রথম বড় আন্তর্জাতিক সাফল্য।
এরপর অবশ্য গল্পের আরও একটি অধ্যায় বাকি ছিল। পরের দিনই হাই জাম্পের মঞ্চে ফিরে ২.০৪ মিটার লাফিয়ে নিজের এশিয়ান প্যারা গেমসের শিরোপা ধরে রাখেন নিশাদ। শুধু তাই নয়, গড়ে ফেলেন নতুন গেমস রেকর্ডও।
অর্থাৎ, যে হাঁটুর সমস্যা হাই জাম্পের পথে প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছিল, সেই সমস্যাই শেষ পর্যন্ত নিশাদকে এনে দিল দুই ইভেন্টে সোনার সাফল্য। এখন তাঁর চোখ ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস প্যারালিম্পিক্সে। হাঁটুর যত্ন অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ থাকবে, কিন্তু জাপানে পাওয়া এই ডাবল গোল্ড তাঁকে নতুন করে বিশ্বাস করিয়েছে হাই জাম্পের পাশাপাশি লং জাম্পেও তিনি বড় মঞ্চে পদকের দাবিদার হতে পারেন।
একটি চোট হয়তো তাঁর পুরনো পথটাকে কঠিন করে দিয়েছিল। কিন্তু সেই বন্ধ দরজার পাশেই লং জাম্প খুলে দিয়েছিল আরেকটি পথ যে পথ ধরে নিশাদ কুমার এখন আরও বড় স্বপ্নের দিকে এগিয়ে চলেছেন।








