ইন্টার কাশিকে নিয়ে ছেলেখেলা করে পাঁচ গোল ইস্টবেঙ্গলের
খেলার ফল ৫-১। কিন্তু হতেই পারত ৮-১। একদিকে ঝলমলে, দুর্দান্ত ফর্মে থাকা লালহলুদ ব্রিগেড। অন্যদিকে বিদেশিহীন, দিশাহীন ইন্টার কাশি। এই ম্যাচের রিপোর্টই বলুন, বিশ্লেষণই বলুন, ব্যাখ্যাই বলুন , যাই বলুন, এক কথায় একেপেশে, আক্ষরিক অর্থেই ওয়ান সাইডেড গেম।
ছবি সৌজন্য - ইস্টবেঙ্গল এফসি
এক্সট্রাটাইম ওয়েব ডেস্ক
খেলার ফল ৫-১। কিন্তু হতেই পারত ৮-১। একদিকে ঝলমলে, দুর্দান্ত ফর্মে থাকা লালহলুদ ব্রিগেড। অন্যদিকে বিদেশিহীন, দিশাহীন ইন্টার কাশি। এই ম্যাচের রিপোর্টই বলুন, বিশ্লেষণই বলুন, ব্যাখ্যাই বলুন , যাই বলুন, এক কথায় একেপেশে, আক্ষরিক অর্থেই ওয়ান সাইডেড গেম।
এই প্রথম শুরু থেকে খেললেন আইভরি কোস্টের স্ট্রাইকার একে লোবা। করলেন জোড়া গোল। তার সঙ্গে একাধিক অ্যাসিস্ট। তার চেয়েও বড় কথা একটা জায়গায় নিজেকে আটকে রাখেন না। নিচে এসে খেলাটা তৈরিও করতে পারেন। নম্বর নাইনের সঙ্গে অনেকটাই নম্বর টেনের কাজটা করতে পারেন। অন্য তিনটি গোল ড্যানি র্যামিরেজ, পিভি বিষ্ণু ও পরে নামা পোল্যান্ডের লুকাস। ইস্টবেঙ্গলের দুই বিদেশি স্ট্রাইকারই গোল করলেন। গোলের মধ্যে আছেন ডেভিড ও এডমুন্ড দুজনেই। এই ব্যাপারটা হাবাসের হাসি চওড়া হতেই পারে।
ইস্টব্ঙ্গলকে এবার এত ঝলমলে লাগছে অনেকগুলো কারণে। প্রথমত মাঝমাঠে রশিদ ও ড্যানি র্যামিরেজ। রশিদ ধারাবাহিকভাবে রিং মাস্টারের কাজটা করে যাচ্ছেন। মাঝমাঠে দাঁড়িয়ে বল কাড়ছেন। অনেকটা জায়গা কভার করছেন। সঙ্গে আক্রমণেও অংশ নিচ্ছেন। এবং ড্যানি র্যামিরেজ – যা কিছু সৃষ্টিধর্মী কাজ, তিনি করছেন। খেলা তৈরি করছেন, গোলের পাস বাড়াচ্ছেন। গোল করছেন।
সঙ্গে দলটা দারুণ কন্ডিশনে আছে। গতি ফিটনেসে অনেক দলের চেয়েই এগিয়ে। সবাই বলকে তাড়া করছেন। মিস পাস করলে যত দ্রুত সম্ভব সেই বল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা, এটা একটা ভাল দলের লক্ষণ।
আর অন্যদিকে এমন একটা দল ইন্টার কাশি যে, কোনও প্রতিরোধ করার ক্ষমতাই নেই। এই ইস্টবেঙ্গলকে থামানো তো দূরের কথা, বলতে দ্বিধা নেই আইএসএলে তাদের বেশ বেমানান মনে হল। তাদের রীতিমত পাড়ার ক্লাবে নামিয়ে এনে সহজেই শুধু জিতলই না, এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ টু-র পরবর্তী ম্যাচের প্রস্তুতিও সেরে নিল ইস্টবেঙ্গল।
শুরুতেই র্যামিরেজ দুর্দান্তভাবে কাশি গোলরক্ষক আলবিনো গোমসের মাথার ওপর দিয়ে লব করে দিলেন। জালে জড়িয়ে গেল বল। দ্বিতীয় গোলটি বিষ্ণুর। বাঁদিক থেকে গড়ানে শটে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে গেল আলবিনো ওই বল না ফস্কালে কি গোল হত লোবা তাঁকে বলটা পাস করে নিজে খুব ভাল জায়গায় পৌঁছে যান। কিন্তু বিষ্ণু যেখান থেকে শট নিলেন সেখান থেকে নব্বই ভাগ ক্ষেত্রে গোল হবে না। কিন্তু একশ ভাগ গোল করার জায়গায় থাকা লোবাকে পাস করে দিলে নিশ্চিত গোল। যাই হোক আলবিনোর ভুলের জন্য এদিন প্রশ্নের মুখে দাঁড়াতে হল না বিষ্ণুকে।
বক্সের মধ্যে র্যামিরেজকে ফাউল করলে পেনাল্টি থেকে ৩-০ করেন লোবা। বিপিনের ক্রসে জোরালো হেডে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেব আইভরি কোস্টের স্ট্রাইকার। এরপরই নুঙ্গার আত্মঘাতী গোল। লালহলুদের শেষ গোলটি পোলিশ স্ট্রাইকার লুকাসের।
আইএসএলে দুটি ম্যাচ খেলল ইস্টবেঙ্গল। প্রথম ম্যাচে ৪-০ জয়ের পর এদিন ৫-১। তার চেয়েও বড় কথা ওপেনিং হচ্ছে প্রচুর। হাবাসের এই ইস্টবেঙ্গলকে কিন্তু থামানো কঠিন। বেশ কঠিন।








