দ্বিতীয়ার্ধে দুরন্ত, চার্চিলকে ৪ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নের মতই শুরু করল ইস্টবেঙ্গল
শুধু চার্চিল ব্রাদার্সের বিরুদ্ধে ৪-০ গোলে জিতে গতবারের চ্যাম্পিয়নরা অভিযান শুরু করল বলেই নয়, দ্বিতীয়ার্ধে যে ফুটবলটা খেলল তারা, সম্ভবত এখনও পর্যন্ত মরসুমের সেরা।

ছবি সৌজন্য - ইস্টবেঙ্গল এফসি
গৌতম রায়
রবিবার ফতোরদায় আইএসএলের সব দলকে একটা বার্তা দিয়ে দিল ইস্টবেঙ্গল। সাবধান! শুধু চার্চিল ব্রাদার্সের বিরুদ্ধে ৪-০ গোলে জিতে গতবারের চ্যাম্পিয়নরা অভিযান শুরু করল বলেই নয়, দ্বিতীয়ার্ধে যে ফুটবলটা খেলল তারা, সম্ভবত এখনও পর্যন্ত মরসুমের সেরা। কুইক ট্রানিজশনে একসঙ্গে ৬-৭ জন ফুটবলার যেমন রক্ষণে তেমনি আক্রমণেও। দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক। ঝলমলে মাঝমাঠ।
আর এই কারণেই ম্যাচ রিপোর্টের শুরুতে দ্বিতীয়ার্ধের কথাই বলতে হচ্ছে। হাবাসের মানের কোচের হাতে একটা ভাল দল পড়লে কী হয়, সেটাই দেখালো ইস্টবেঙ্গল। টাচ প্লে, সাপোর্টিং প্লে, থার্ডম্যান মুভ – দুর্দান্ত ট্রানজিশন প্লে-তে এগুলো তেল দেওয়া মেশিনের মত চলতে থাকল। আর তাতেই ছারখার হয়ে গেল চার্চিল। এমন ফুটবল হল, পরিবর্ত ফুটবলার বিপিন সিংও দুটি গোল করে চলে গেলেন। প্রথম দুটি গোল ড্যানি র্যামিরেজ ও এডমুন্ড লালরিনডিকার।
যদিও দুই অর্ধে দুটি করে গোল, তবে প্রথমার্ধে তুল্যমূল্য লড়াই হয়েছে। বেশ গতিময় ওপেন ফুটবল হল প্রথমার্ধে। ফলে দু দলই একাধিক গোলের সুযোগ পেয়েছিল। ইস্টবেঙ্গল সুযোগগুলো কাজে লাগালো আর চার্চিল পারল না। দু মিনিটেই গোল। ড্যানি র্যামিরেজ বাঁ পায়ের দুর্দান্ত ফ্রিকিকে গোলের খাতা খোলেন। এরপর পেন্ডুলামের মত খেলাটা দুলল। চার্চিল ফুটবলারের শট পোস্টে লেগে প্রতিহত হল। উল্টোদিকে রশিদের দুর্দন্ত পাসে প্রথম টাচটা ভুল করে ফেললেন এডমুন্ড। ফলে সুযোগ নষ্ট। ৪২ মিনিটে গুতিয়েরেজ থেকে বল পেয়ে প্রথম টাচ বড় হয়ে যাওয়ায় কঠিন কোনে চলে গেলেন লেকায়। নাহলে তখনই সমতা ফেরায় চার্চিল। কিন্তু তা তো হলই না, বরং ডেভিড-এডমুন্ডের যুগলবন্দিতে ২-০ করে ফেলল ইস্টবেঙ্গল।
এই দুজন যেন নিজেদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বতায় নেমে পড়েছিলেন। সে কারণেই লালহলুদ আক্রমণকে অত তীক্ষ্ণ মনে হচ্ছিল। ভারতীয় ফুটবলের দুই সম্পদের সৌভাগ্য যে এই সময়টায় হাবাসের হাতে পড়েছেন। ফলে দ্রুত পরিণত হচ্ছেন। আরও তীক্ষ্ণ হচ্ছেন।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান বাড়াতে পারত ইস্টবেঙ্গল, যদি র্যামিরেজ অত দুর্বল শট না নিতেন। কিংবা র্যামিরেজেরই একটা শট বারে আছড়ে না পড়ত। এডমুন্ড একের বিরুদ্ধে এক পরিস্থিতিতে চার্চিল গোলরক্ষককে পেয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু স্বার্থপর না হয়ে আরও ভাল জায়গায় থাকায় মাইনাস করে দেন বিষ্ণুকে। ফাঁকা গোলে ঠেলতে পারলেন না বিষ্ণু। এরপর বিষ্ণুর শট গোলরক্ষক দারুণভাবে রুখে দেওয়ার পরই বিপিনের দুটি গোল। প্রথমটি বাঁ পায়ের কোনাকুনি জোরালো শটে এবং দ্বিতীয়টি রশিদ-বিষ্ণু হয়ে বল পেয়ে আলতো টোকায়। একবার অবশ্য সহজ জায়গায় বল পেয়ে যাচ্ছিলেন চার্চিলের লেকায়। একটা স্টেপের জন্য বলের কাছে পৌছোতে পারলেন না।
পাঁচ মিডফিল্ডার নিয়ে শুরু করেছিল চার্চিল। গতিতে অপারেট করে আক্রমণ ও রক্ষণে লোক বাড়ানোর কৌশল অন্তত প্রথমার্ধে সফল। তাই আনোয়ার – জিভুলিচদের পাশ দিয়ে কয়েকবার গোলের কাছেও পৌঁছে যেতে পেরেছিল। বিশেষ করে ডানদিক দিয়ে বেশ কয়েকবার ভাল আক্রমণ তুলে আনতে পেরেছিল। অন্তত প্রথমার্ধে দেখা গেল চার্চিল ফুটবলারদের গতি আছে, উদ্যম আছে, দক্ষতা আছে, কিন্ত নেই অভিজ্ঞতা। শুধু সেই কারণেই প্রথমার্ধে তাদের দু গোলে পিছিয়ে পড়তে হয়েছিল।
কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে তাদের সব উদ্যম যেন ব্লটিং পেপারে শুষে নিল হাবাসের ইস্টবেঙ্গল। তখন মাঠে যেন একটাই দল। ইস্টবেঙ্গল। প্রশ্ন এখন একটাই, এই ছন্দটা গোটা লিগে ধরে রাখতে পারবে তো তারা? পারলে কিন্তু আইএসএল আবার লালহলুদ হয়ে উঠতেই পারে। হাবাস কিন্তু দেখিয়ে দিচ্ছেন, কেন তিনি অন্যদের চেয়ে আলাদা। কেন তিনি চ্যাম্পিয়ন কোচ।
