প্রথম ভারতীয় হিসেবে ইতিহাস, অনূর্ধ্ব ২৩ গ্রিকো রোমান কুস্তিতে রুপো জয় বিশ্বজিৎ মোর
তরুণ কুস্তিজীবনের অন্যতম সেরা প্রত্যাবর্তন সম্পূর্ণ করতে আর মাত্র কয়েকটি মুহূর্তের অপেক্ষা ছিল বিশ্বজিৎ মোরের। লাস ভেগাসে অনূর্ধ্ব-২৩ বিশ্ব কুস্তি প্রতিযোগিতার পুরুষদের ৫৫ কেজি গ্রিকো-রোমান বিভাগের ফাইনালে জর্জিয়ার কোবা কারুমিদজের বিরুদ্ধে শুরুতেই কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েন ভারতীয় কুস্তিগীর। প্রতিপক্ষের কাছে ০-৫ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ায় শুরু থেকেই চাপে ছিলেন বিশ্বজিৎ। এমন গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে প্রতিটি পয়েন্টের মূল্য ছিল অপরিসীম।

এক্সট্রাটাইম ওয়েবডেস্ক: তরুণ কুস্তিজীবনের অন্যতম সেরা প্রত্যাবর্তন সম্পূর্ণ করতে আর মাত্র কয়েকটি মুহূর্তের অপেক্ষা ছিল বিশ্বজিৎ মোরের। লাস ভেগাসে অনূর্ধ্ব-২৩ বিশ্ব কুস্তি প্রতিযোগিতার পুরুষদের ৫৫ কেজি গ্রিকো-রোমান বিভাগের ফাইনালে জর্জিয়ার কোবা কারুমিদজের বিরুদ্ধে শুরুতেই কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েন ভারতীয় কুস্তিগীর। প্রতিপক্ষের কাছে ০-৫ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ায় শুরু থেকেই চাপে ছিলেন বিশ্বজিৎ। এমন গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে প্রতিটি পয়েন্টের মূল্য ছিল অপরিসীম।
কিন্তু প্রাথমিক ব্যবধান তাঁর লড়াইয়ের মানসিকতাকে একটুও টলাতে পারেনি। ধীরে ধীরে ছন্দ ফিরে পান বিশ্বজিৎ। প্রতিপক্ষের ব্যবধান কমিয়ে লড়াইকে নিয়ে যান তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর্যায়ে। প্রতিপক্ষকে মাটিতে ফেলে পয়েন্ট অর্জন এবং পরপর কৌশলী উলটানোর মাধ্যমে ম্যাচে ফেরেন তিনি। ক্রমাগত আক্রমণে কারুমিদজেকে রক্ষণাত্মক অবস্থানে যেতে বাধ্য করেন ভারতীয় কুস্তিগীর। বদলে যেতে থাকে লড়াইয়ের গতিপ্রকৃতি।
একসময় ৬-৯ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা বিশ্বজিৎ এগিয়ে যান ১২-৯ ব্যবধানে। অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের হাত ধরে সোনার পদক জয়ের স্বপ্ন তখন তাঁর নাগালের মধ্যে। মনে হচ্ছিল, আর কয়েকটি মুহূর্ত পার করতে পারলেই ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করবেন ভারতীয় কুস্তিগীর। কিন্তু শেষ মুহূর্তে পাল্টা আঘাত হানেন কারুমিদজে। বিশ্বজিৎ আরও একবার প্রতিপক্ষকে উলটানোর চেষ্টা করলে সেই কৌশল আটকে দেন জর্জিয়ার কুস্তিগীর। ব্যবধান কমে আসে। ঘড়ির কাঁটা যখন শেষ মুহূর্তের দিকে এগোচ্ছে, তখন বিশ্বজিৎকে প্রতিযোগিতার সীমানার বাইরে ঠেলে দেন কারুমিদজে। শেষ সেকেন্ডে স্কোর দাঁড়ায় ১২-১২।
ভারতের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানানো হলেও তা খারিজ হয়ে যায়। ফলে নিয়ম অনুযায়ী নির্ণায়ক পয়েন্ট পেয়ে ১৩-১২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন কারুমিদজে। বিশ্বজিতের কাছে শেষটা হয়ে ওঠে অত্যন্ত যন্ত্রণার। তবে এই হারের মধ্যেও লুকিয়ে রয়েছে এক বড় প্রাপ্তি। কারণ, ফাইনালের শুরুতে পাঁচ পয়েন্টে পিছিয়ে পড়েও তিনি যেভাবে লড়াইয়ে ফিরে এসে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলেছেন, তা তাঁর সামর্থ্যেরই প্রমাণ।
প্রথমে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েও হাল না ছাড়া, আক্রমণাত্মক মানসিকতা এবং শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা—সব মিলিয়ে বিশ্বজিৎ নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। বিশ্বের সেরা কুস্তিগীরদের বিরুদ্ধে যে তিনি সমানতালে লড়াই করতে পারেন, এই ফাইনাল তারই প্রমাণ।
সোনার পদক হাতছাড়া হলেও লাস ভেগাস থেকে খালি হাতে ফিরছেন না ২২ বছরের বিশ্বজিৎ মোর। এই লড়াই তাঁকে দিয়েছে আত্মবিশ্বাস, নিজের সামর্থ্য সম্পর্কে নতুন উপলব্ধি এবং বিশ্বমঞ্চে আরও বড় সাফল্য অর্জনের বিশ্বাস। আজকের এই যন্ত্রণাদায়ক হারই আগামী দিনে তাঁর আরও বড় জয়ের ভিত গড়ে দিতে পারে।








