হতাশার হার কিছুতেই মানতে পারছেন না ইস্টবেঙ্গল কোচ, হাবাসের প্রশংসনীয় ট্যাকটিক্সে অবাক আল শর্তা কোচ
হাবাস তো বলেই দিলেন, ১০ গোল করতে পারতেন। তিনি বলেন, “আমি আজকের ফলের সঙ্গে একমত নই। কারণ, আমার মনে হয় না, ইস্টবেঙ্গলের এই ম্যাচে হারার কথা ছিল। গোল করার জন্য আমরা অন্তত ১০টি সুযোগ পেয়েছিলাম—১০টি! অথচ আমরা নির্বোধের মত যে তিনটি গোল হজম করেছি, সেটা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকে।“ তাঁর মনে হয়েছে, রক্ষণে তাড়াহুড়ো ছিল। দৃঢ়তা, সক্রিয়তা, মনোযোগ ও ফোকাস কোনওটাই আজ তাঁর রক্ষণে ছিল না বলে তাঁর মনে হয়েছে।

এক্সট্রাটাইম ওয়েব ডেস্ক
এইভাবে খেলার পর, এত সুযোগ তৈরি করার পর এভাবে হারটা কারও পক্ষেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। ইস্টবেঙ্গল কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাসও কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না। সুযোগ নষ্ট আর রক্ষণের ভুল, তাঁর মুখে শুধু এই কথাগুলোই।
হাবাস তো বলেই দিলেন, ১০ গোল করতে পারতেন। তিনি বলেন, “আমি আজকের ফলের সঙ্গে একমত নই। কারণ, আমার মনে হয় না, ইস্টবেঙ্গলের এই ম্যাচে হারার কথা ছিল। গোল করার জন্য আমরা অন্তত ১০টি সুযোগ পেয়েছিলাম—১০টি! অথচ আমরা নির্বোধের মত যে তিনটি গোল হজম করেছি, সেটা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকে।“ তাঁর মনে হয়েছে, রক্ষণে তাড়াহুড়ো ছিল। দৃঢ়তা, সক্রিয়তা, মনোযোগ ও ফোকাস কোনওটাই আজ তাঁর রক্ষণে ছিল না বলে তাঁর মনে হয়েছে।
ম্যাচ নিয়ে তাঁর ব্যাখ্যা, “শারীরিক সক্ষমতা, কৌশলগত প্রস্তুতি এবং টেকনিক্যাল দিক থেকে আজকের ম্যাচের কথা বলতে গেলে, আমার মনে হয়েছিল, প্রথমার্ধের শেষ ৩০ মিনিটে আমরা একটা নির্দিষ্ট স্টাইল এবং খেলার ধরন অনুসরণ করতে পেরেছিলাম। পরিস্থিতি বিবেচনা করেই আমি এই পরিকল্পনা করেছিলাম। কিন্তু শারীরিক সক্ষমতা, প্রতিপক্ষের মান, আর্দ্রতা কিংবা গরমের মতো বিষয়গুলিও প্রভাব ফেলতে পারে। ম্যাচের শেষ দিকে আমাদের প্রতিপক্ষের বক্সে আক্রমণ চালিয়ে যেতে হয়েছে, বারবার আক্রমণ করতে হয়েছে এবং আক্রমণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হয়েছে। আমার মনে হয়, আজকের পার্থক্যটা হয়তো শারীরিক সক্ষমতার কারণে নয়, বরং কৌশলগত দিক থেকেই তৈরি হয়েছে।”
এই হারের পর কি পরের পর্বে যাওয়া নিয়ে হতাশ হয়ে পড়লেন হাবাস? কোচ জানান, “আপনারা জানেন, আমাদের দুটো অ্যাওয়ে ম্যাচ এবং দুটো হোম ম্যাচ ছিল। আমার মনে হয়েছিল, জর্ডনে প্রথম ৪৫ মিনিটে এবং কলকাতায় প্রথম ৪৫ মিনিটে আমরা যেভাবে খেলেছিলাম, তাতে পরের পর্বে যাওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু তার পরেই পাঁচ-দশ মিনিটের কিছু নির্বুদ্ধিতাপূর্ণ মুহূর্ত, মনোযোগের অভাব দেখা দিয়েছে। জর্ডনেও একই ঘটনা ঘটেছিল। এভাবে পরের পর্বে যোগ্যতা অর্জন করা সম্ভব নয়। তবে এটা আমার কাজ। এই ভুল আমাকে অবিলম্বে শুধরে নিতে হবে।”
এখনও আক্ষেপ করছেন স্প্যানিশ কোচ, “বিরতির সময় আমি খেলোয়াড়দের বারবার বলেছিলাম, ‘প্রথম কয়েক মিনিট সতর্ক থেকো, প্রথম কয়েক মিনিট মনোযোগ ধরে রেখো।’ কিন্তু গোল হজম করলাম এবং সেট-পিস থেকে মাত্র তিন-চার মিনিটের মধ্যে দুটো গোল খেয়ে বসলাম।“
ডেভিড দুটি গোল করেছেন ঠিকই কিন্তু অন্তত তিনটি সহজ সুযোগ মিসও করেছেন। তবু ডেভিডকে নিয়ে হাবাস খুবই খুশি। তিনি বলেন,” ডেভিড অসাধারণ একজন ফুটবলার। আমার চোখে ও শীর্ষমানের খেলোয়াড়, ভারতের অন্যতম সেরা।”“
খুবই হতাশার হার, তবু সামনের দিকে তাকাতে হবে। হাবাসের বক্তব্য, “আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আমরা দলকে উন্নত করার এবং আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার চেষ্টা করছি। এই কঠিন সময়ে সমর্থকদের আরও বেশি পাশে থাকা দরকার।“
আল শর্তার কোচ অবশ্য হাবাসের ট্যাকটিক্সের প্রশংসায় সরব। তিনি বলেন, প্রথমার্ধে ইস্টবেঙ্গল কোচ যে ট্যাকটিক্সে তাঁর দলকে খেলিয়েছেন, এবং এমন কিছু ভাল ভাল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যেটা দেখে তিনি রীতিমত অবাক।








