অজস্র সুযোগ নষ্টের খেসারত, এসিএল টু-তে ইরাকের আল শর্তার কাছে হেরেই গেল ইস্টবেঙ্গল
সোমবার আইএসএলে নর্থ ইস্টের কাছে যে কারণে হেরেছিল মোহনবাগান, মঙ্গলবার এসিএল টু-তে আল শর্তার কাছে ঠিক সেই কারণেই হারল ইস্টবেঙ্গল। সোমবার গণ্ডায় গণ্ডায় গোল নষ্ট করে শেষ মুহূর্তের গোলে হেরেছিল মোহনবাগান, আর এদিন প্রথমার্ধেই পাঁচ গোল পেতে পারত ইস্টবেঙ্গল। ম্যাচ শেষ করে দিতে পারত প্রথমার্ধেই। শুধু হ্যাটট্রিক নয়, একাই পাঁচ পাঁচটা গোল করতে পারতেন ডেভিড। সেই ম্যাচে কিনা ৩-২ গোলে হেরে ফিরতে হল হাবাসের ছেলেদের।

গৌতম রায়
সোমবার আইএসএলে নর্থ ইস্টের কাছে যে কারণে হেরেছিল মোহনবাগান, মঙ্গলবার এসিএল টু-তে আল শর্তার কাছে ঠিক সেই কারণেই হারল ইস্টবেঙ্গল। সোমবার গণ্ডায় গণ্ডায় গোল নষ্ট করে শেষ মুহূর্তের গোলে হেরেছিল মোহনবাগান, আর এদিন প্রথমার্ধেই পাঁচ গোল পেতে পারত ইস্টবেঙ্গল। ম্যাচ শেষ করে দিতে পারত প্রথমার্ধেই। শুধু হ্যাটট্রিক নয়, একাই পাঁচ পাঁচটা গোল করতে পারতেন ডেভিড। সেই ম্যাচে কিনা ৩-২ গোলে হেরে ফিরতে হল হাবাসের ছেলেদের।
একটা সময় ইরাকের আল জাওরাকে ৬ গোল দিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। এদিন গোলগুলি হলে তেমনই অস্বাভাবিক আর একটা রেজাল্ট হতেই পারত। এখন হয়ত কী হতে পারত সেটাই ভাবছে ইস্টবেঙ্গল, কিন্তু যেটা হল, সেটা মেনে নেওয়া সত্যিই কঠিন তাদের পক্ষে।
আল শর্তার বুবাকারের হেড পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যাওয়া দিয়ে শুরু হয় ম্যাচটা। ৮ মিনিটেই এগিয়ে গেল ইস্টবেঙ্গল। হার্দিক-র্যামিরেজ হয়ে বল আসে ডেভিডের কাছে। দুর্দান্ত প্রথম টাচে বলটি নামিয়ে নেন। দ্রুত টার্নে দুই স্টপারের মাঝখান থেকে বাঁপায়ের শটে বল জড়িয়ে দেন জালে।
১৪ মিনিটেই অবশ্য কর্ণার থেকে আসা বলে ফাঁকায় দাঁড়িয়ে হেড করে সমতা ফেরান আমেদি। বাধা দেওয়ার জন্য সেখানে কেউ ছিলেন না।
নুঙ্গার ২৫ গজের বিশ্বমানের একটি সোয়ার্ভিং শটে ইরাকি গোলরক্ষক প্রায় পরাস্ত হয়ে গিয়েছেল। সেষ মুহূর্তে কোনও রকমে সামাল দেন। ফিরতি বল ডেভিড ঠিকমত শট নিতে পারলেন না।
৩৯ মিনিটে আবার এগিয়ে গেল ইস্টবেঙ্গল। ২২-২৩ গজ দূর থেকে ড্যানি র্যামিরেজের দুর্দান্ত ফ্রিকিক গোলরক্ষক আংশিক প্রতিহত করলে ফিরতি বল তাড়া করে হিল করে দেন রশিদ। ফাঁকায় পেয়ে ২-১ করেন ডেভিড।
এরপরই সেই ডেভিডের পরপর তিনটি সহজ সুযোগ নষ্ট। প্রথমে কপিবুক ফ্রিকিক খেকে র্যামিরেজ-জয় গুপ্তা হয়ে বক্সের মধ্যে পেয়ে যান ডেভিড। বারের ওপর দিয়ে উড়িয়ে দেন।
পরেরটি আরও সহজ সুযোগ। এবার ডানদিক থেকে ক্রস করেন হার্দিক। ৬ গজের মধ্যে ফাঁকায় ডেভিড। ঠিকমত পুশ করলেই গোল। সেই বল পাঠালেন বাইরে। এরপরই এডমুন্ড-রশিদ হয়ে বল আসে ডেভিডের কাছে। একা পেয়ে যান গোলরক্ষককে। কিন্তু তাঁকে হার মানাতে পারলেন না।
এই সময় এডমুন্ডের গতি, স্কিল আর ছটপটানিকে থামাতে নাজেহাল অবস্থা ইরাকি দলের ডিফেন্সের। এই এডমুন্ড বারে বারে বুঝিয়ে দিচ্ছেন তিনি ভবিষ্যতের তারকা। ভারতীয় ফুটবলের সম্পদ। সঙ্গত দিচ্ছিলেন ডেভিড। শুধু শেষ কাজটাই বার তিনেক করতে পারলেন না তিনি।
এর মাশুল দিতে হল দ্বিতীয়ার্ধে। শুরু থেকেই ঝাঁপিয়ে পড়ল আল শর্তা। জিভুলিচকে দর্শক করে দিয়ে ২-২ করলেন হুসেইন। কর্ণার থেকে প্রথম পোস্টে হেড করে ৩-২ করে গেলেন কিংসলে কুকু। তখনও তিনি ফাঁকা।
জিভুলিচ হতে পারেন বিদেশি স্টপার, কিন্তু বেশ কয়েকবার এমন ভুল করলেন, তাতে এএফসিতে ও আইএসএলে নামার আগে চিন্তা বাড়তে বাধ্য হাবাসের।
এডমুন্ড একটা শট নিয়েছিলেন , কিন্তু গোললাইন সেভ হয়ে গেল। এরপর ৭৮ মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ডে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন বুবাকার। দশজনের আল শর্তাকে পেয়েও সমতা আর ফেরাতে পারল না ইস্টবেঙ্গল।
এদিন ৫-৪-১ ছকে দল সাজিয়ে ছিলেন হাবাস। কুইক ট্রানজিশনে তা ৫-৩-২ হয়ে যাচ্ছিল। হাবাসের বরাবরের নীতি রক্ষণ জমাট রেখে দ্রুত প্রতিআক্রমণ। এদিন অন্তত প্রথমার্ধে সেটাকে বেশ ভালভাবে প্রয়োগ করতে পেরেছিলেন এডমুন্ডরা। খেলা তো তখনই শেষ হয়ে যায়। কিন্তু কী আর করা যাবে, ম্যাচে দু গোল করেও তাই নিজেকে ভিলেন ভাবতেই পারেন ডেভিড লালহাংসাঙ্গা।








