ফের অজস্র সুযোগ নষ্ট, তবু দ্বিতীয়ার্ধে চ্যাম্পিয়নের মত ফিরে তিন পয়েন্ট তুলে নিল মোহনবাগান
দুটি সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্পোর্টিং দিল্লিকে ২-১ গোলে হারাল মোহনবাগান। গোল দুটি করলেন এরউইন ও ম্যাচের সেরা মিগুয়েল। তার আগেই অবশ্য বাগানের প্রাক্তনী নামতের গোলে পিছিয়ে পড়েছিল পানোসের দল।

ছবি সৌজন্য - এক্স - মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট
গৌতম রায়
আইএসএলে প্রথম জয় এল ঠিকই, দ্বিতীয়ার্ধে দাপিয়ে খেলল ঠিকই, কিন্তু মোহনবাগানের একই রোগ প্রতিটি ম্যাচে। নষ্ট হচ্ছে অজস্র সুযোগ। সেই কারণেই প্রথম ম্যাচে নর্থ ইস্টের কাছে শেষ মুহূর্তে গোল খেয়ে ম্যাচটা হেরেই গিয়েছিল সবুজ মেরুন ব্রিগেড। এদিন অবশ্য তেমন কোনও দুর্ঘটনা ঘটল না। মন্দের ভাল দুটি সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্পোর্টিং দিল্লিকে ২-১ গোলে হারাল মোহনবাগান। গোল দুটি করলেন এরউইন ও ম্যাচের সেরা মিগুয়েল। তার আগেই অবশ্য বাগানের প্রাক্তনী নামতের গোলে পিছিয়ে পড়েছিল পানোসের দল।
ম্যাচের শুরুতেই ঝটকা দিয়ে শুরু করেছিল মোহনবাগান। এই সময়ই এগিয়ে যেতে পারত। কিন্তু তা হয়নি। তারপরই খেলায় ফেরে দিল্লি। পানোসের রক্ষণ আর মাঝমাঠের মধ্যে অনেকটা ফাঁকা জমি পড়ে থাকছিল। সেই সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে গতি আর শারীরিক সক্ষমতায় এগিয়ে থাকা দিল্লি ফুটবলাররা মোহন রক্ষণে ঝাঁকুনি দিতে থাকে। এই দিল্লি দলটা কিন্তু ফিজিক্যালি অনেক দলের চেয়েই এগিয়ে।
২৩ মিনিটেই নামতে গোল করে এগিয়ে দেন দিল্লিকে। কিন্তু অ্যালবার্তো রডিগেজের মত অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার কেন যে অফসাইড ভেবে একটু দাঁড়িয়ে গেলেন!
প্রথমার্ধেই গোলটা শোধ করে দিতে পারত মোহনবাগান। কিন্তু ড্রাজিকের সেন্টারে পা ছোঁয়াতে পারলেন না অনিরুদ্ধ থাপা। থাপার ওভারহেড বল ফাঁকায় পেয়েও ঠিকমত শট নিতে পারলেন না এরউইন।
প্রথমার্ধের শুরুর দিকটা ছাড়া দিল্লি যে মাঝমাঠে অত ফাঁকা জায়গা পেল, তার কারণ মোহনবাগান ফুটবলারদের কুইক ট্রানজিশনের অভাব।মিগুয়েল-আপুইয়ারা চেষ্টা করছিলেন ঠিকই জোনাল মার্কিং একেবারেই হচ্ছিল না।
দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য একেবারে অন্য ছবি। মিগুয়েল-আপুইয়া-থাপারা অনেক বেশি দৌড়োতে শুরু করলেন। ছাংতে-ড্রাজিকদের ঘন ঘন আক্রমণ। কুইক ট্রানজিশনের ফলে রক্ষণ আর মাঝমাঠের মধ্যের ফাঁকা জায়গা তখন আর পড়ে থাকছিল না। বরং গোটা মোহনবাগান দলটাই দিল্লির ঘাড়ে চেপে বসল।
পরপর দুটি গোল। এরউিন ১-১ করার পর আপুইয়ার একটা দুর্দান্ত ডিফেন্স ভাঙা দৌড়। তিন চার জন ডিফেন্ডারের মাঝখান দিয়ে বেরিয়ে বক্সে সাজিয়ে দিলেন মিগুয়েলকে। ঠিক তেমনই নিখুঁতভাবে দ্বিতীয় পোস্ট দিয়ে গড়ানে শটে মোহনবাগানকে এগিয়ে দিলেন মিগুয়েল।
এরই মধ্যে এদিনও একটি দুর্দান্ত সেভ বিশাল কাইথের। কিন্তু প্রশ্ন হয় দ্বিতীয়ার্ধে মোহনবাগান যে ফুটবল খেলল, যত সুযোগ তৈরি হল, তাতে আরও গোল হবে না কেন?
জেলকোভিচের একটি শট রুখে দিলেন দিল্লি গোলরক্ষক। ইনজুরি টাইমে মনবীরের দুর্দান্ত শট গোলরক্ষকের হাতে লেগে বারে আছড়ে পড়ল। কিন্তু লিস্টন কেন অত সহজ সুযোগ বারের ওপর দিয়ে উড়িয়ে দেবেন! একেবারে শেষ মুহূর্তে রডরিগেজদের প্রতিআক্রমণে নামতে যে সুযোগটা পেযে গিয়েছিলেন, সেটা কাজে লাগাতে পারলে মোহনবাগানকে বড় মাশুল দিতে হত এই ম্যাচেও।
আসলে জেমি ম্যাকলরেনের অভাবটা প্রতি মুহূর্তে বোঝা যাচ্ছে। এরউইন গোল করলেও এদিনও একাধিক সুযোগ নষ্ট করলেন। তারওপর তাঁর স্বার্থপর ফুটবলের প্রবণতাটাও কিন্তু নজর এড়ালো না। ম্যাচের শেষে তাই পানোসের গলাতেও আক্ষেপ, ম্যাকাকে যে আমরা পাচ্ছি না!
ম্যাকলরেন হয়ত এখনও নামতে পারেননি, তবে মিগুয়েল এদিন শুরু থেকেই খেললেন। তিনি হয়ত তাঁর সেরা ফর্মে ছিলেন না, তবু তাঁর উপস্থিতিতে ওপেনিংটা বেশি হচ্ছিল। কিন্তু আবার চোট পেয়ে স্ট্রেচারে মাঠ ছাড়লেন। মোহনবাগানকে চ্যাম্পিয়নের মত ঝলসে উঠতে হলে পুরো ফিট মিগুয়েল আর ম্যাকলেরন – এই দুজনকে ফিরতেই হবে!








