মহিলা ফুটবলে ১৫ বছরের বড় বাণিজ্যিক চুক্তি, হাত মেলাল এআইএফএফ-ক্যাপ্রি স্পোর্টস
ভারতীয় মহিলা ফুটবলের উন্নয়নে এবার দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক পরিকল্পনা। মহিলা ফুটবলের দুই শীর্ষ স্তরের লিগ ইন্ডিয়ান উইমেন্স লিগ (আইডব্লিউএল) এবং আইডব্লিউএল ২-এর বাণিজ্যিক ও মার্কেটিং স্বত্ব নিয়ে এআইএফএফ-এর সঙ্গে ১৫ বছরের চুক্তি করল ক্যাপ্রি স্পোর্টস।

এক্সট্রাটাইম ওয়েবডেস্ক: ভারতীয় মহিলা ফুটবলের উন্নয়নে এবার দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক পরিকল্পনা। মহিলা ফুটবলের দুই শীর্ষ স্তরের লিগ ইন্ডিয়ান উইমেন্স লিগ (আইডব্লিউএল) এবং আইডব্লিউএল ২-এর বাণিজ্যিক ও মার্কেটিং স্বত্ব নিয়ে এআইএফএফ-এর সঙ্গে ১৫ বছরের চুক্তি করল ক্যাপ্রি স্পোর্টস।
এই দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বের লক্ষ্য শুধু লিগের বাণিজ্যিক পরিসর বাড়ানো নয়, একইসঙ্গে ভারতীয় মহিলা ক্লাব ফুটবলের জনপ্রিয়তা ও দৃশ্যমানতা বাড়ানো। এআইএফএফ, ক্যাপ্রি স্পোর্টস এবং অংশগ্রহণকারী ক্লাবগুলি একসঙ্গে কাজ করে লিগের দর্শকসংখ্যা বাড়ানো, ব্র্যান্ডের আগ্রহ তৈরি করা এবং সম্প্রচার ও অনলাইন মাধ্যমে মহিলা ফুটবলের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নিয়েছে।
সিনিয়র ক্লাব ফুটবলে পৌঁছনোর পথও আরও মজবুত করার উদ্যোগ চলছে। জুলাইয়ে এআইএফএফ-এর উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছে অ-১৭ মহিলা যুব লিগ। এবার অক্টোবরে শুরু হতে চলেছে প্রথম অ-১৫ মহিলা যুব লিগ। ফলে তরুণ ফুটবলারদের জন্য বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতা থেকে সিনিয়র ক্লাব ফুটবলে উঠে আসার আরও একটি সংগঠিত পথ তৈরি হচ্ছে।আন্তর্জাতিক মঞ্চেও ভারতীয় মহিলা ফুটবলের সাম্প্রতিক সাফল্য এই ছবিকে আরও উজ্জ্বল করেছে।
এআইএফএফ সভাপতি কল্যাণ চৌবে এই অংশীদারিত্বের সময়টাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, “ অস্মিতা লিগের মতো উদ্যোগ, খেলোয়াড় নিবন্ধনের বৃদ্ধি এবং অ-১৭ ও অ-১৫ মহিলা যুব লিগ চালুর ফলে দেশে মহিলা ফুটবলে অংশগ্রহণ অনেকটাই বেড়েছে। একইসঙ্গে ২০২৬ সালে সিনিয়র, অ-২০ এবং অ-১৭ জাতীয় দলের এশিয়ান স্তরে উন্নতিও নজরে এসেছে।“
কল্যাণ চৌবে বলেন, “পরবর্তী লক্ষ্য হল দেশের ক্লাব ফুটবলকেও আরও শক্তিশালী এবং পেশাদার করে তোলা। তাঁর মতে, সঠিক মানসিকতা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি কোনও বাণিজ্যিক অংশীদার মহিলা ফুটবলের এই অগ্রগতিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। একইসঙ্গে ক্লাব ও ফুটবলারদের জন্য আরও মূল্য তৈরি করা এবং আগামী ১৫ বছরে একটি শক্তিশালী মহিলা ফুটবল পরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। “
এআইএফএফ-এর ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল এম সত্যনারায়ণও আইডব্লিউএল-এর গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, “দেশের মহিলা ফুটবলের বিকাশে ইন্ডিয়ান উইমেন্স লিগের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আইডব্লিউএল এবং আইডব্লিউএল ২ দুই লিগের জন্যই দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক অংশীদার পাওয়ায় লিগের দৃশ্যমানতা বাড়ানোর পাশাপাশি সমর্থক ও অংশীদারদের আগ্রহও বাড়ানো সম্ভব হবে। “
তাঁর বক্তব্য, “এই অংশীদারিত্ব ক্লাব ও ফুটবলারদের জন্য আরও শক্তিশালী মঞ্চ তৈরি করবে এবং ভারতীয় মহিলা ক্লাব ফুটবলকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করবে। "
অন্যদিকে, ক্যাপ্রি স্পোর্টস-এর পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য মহিলা ক্লাব ফুটবলের জন্য আরও বড় সমর্থকগোষ্ঠী তৈরি করা, সম্প্রচার ও অনলাইন সম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং একটি টেকসই বাণিজ্যিক কাঠামো গড়ে তোলা।
অর্থাৎ, আগামী ১৫ বছরের এই চুক্তি শুধু আইডব্লিউএল এবং আইডব্লিউএল ২-এর বাণিজ্যিক ভিত্তিই শক্ত করবে না, ভারতীয় মহিলা ক্লাব ফুটবলের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের ক্ষেত্রেও নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।








