৪০ মি্নিটের মেসি শো-এ বিধ্বস্ত ইংল্যান্ড, পরপর দুবার ফাইনালে আর্জেন্টিনা
পিছিয়ে পড়েও আবার দুরন্ত প্রত্যাবর্তন আর্জেন্টিনার। ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ০-১ গোলে পিছিয়ে থেকেও ২-১ গোলে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে চলে গেল বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

গৌতম রায়
পিছিয়ে পড়েও আবার দুরন্ত প্রত্যাবর্তন আর্জেন্টিনার। ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ০-১ গোলে পিছিয়ে থেকেও ২-১ গোলে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে চলে গেল বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ৪০ মিনিটের মেসি শো, তাতেই শেষ থ্রি লায়ন্স। অ্যান্টনি গর্ডন ৫৫ মিনিটের মাথায় এগিয়ে দিয়েছিলেন ইংল্যান্ডকে। শেষ লগ্নে মেসির সৌজন্যে পরপর দুটি গোল করে আর্জেন্টিনাকে জেতালেন এনজো ফার্নান্ডেজ ও লাউতারো মার্টিনেজ।
গোটা প্রথমার্ধ অত্যন্ত মাঝারি মানের ফুটবল। তবে টাফ থেকে রাফ হয়ে যাওয়া ফুটবল। হাত চালাচালি, পা চালাচালি চলছিলই। আ্রর্জেন্টিনার লক্ষ্য ছিল এভাবে খেলে ইংল্যান্ডের ছন্দটা নষ্ট করে দেওয়া, তবে আর্জেন্টিনার ফাঁদে খুব একটা পা না দিয়ে স্বাভাবিক খেলার চেষ্টা করছিল ইংল্যান্ড। মাঝমাঠ নির্ভর এমন ফুটবলেই প্রথমার্ধ শেষ।
ইংল্যান্ড মাথা ঠান্ডা রাখার ফল পেল দ্বিতীয়ার্ধে। আর্জেন্টিনার একটা ক্লিয়ার করা বল ধরে ডানপ্রান্তে বাড়িয়ে দেন ডেকলান রাইস। সেই বলে সেন্টার করেন রজার্স। ঠান্ডা মাথায় গোলে বল ঠেলে দেন অ্যান্টনি গর্ডন।
এই গোল খেয়েই যেন জেগে উঠল আর্জেন্টিনা। জেগে উঠলেন লিও মেসি। আর তিনি জাগলে যা হয়, তাই হল। গোল শোধের জন্য জেতার খিদে আর দুরন্ত মানসিকতায় ঝাঁপিয়ে পড়ল গোটা আর্জেন্টিনা দলটা। বক্সের মাথায় দাঁড়িয়ে একের পর এক বিষাক্ত পাস বাড়াতে থাকলেন মেসি। ওই সময় একের পর এক সুযোগ তৈরি হতে থাকল।
মেসির ক্রসে গঞ্জালেজের হেড বাঁচালেন পিকফোর্ড। ডি পলের ক্রসে মন্টিয়েলের হেড লাগল পোস্টে। এরপরই এনজো ফার্নান্ডেজের ২০ গজের দুরন্ত শটে ফিরল সমতা। এরপরও ম্যাক আলিস্টারের শট আবার পোস্টে লাগল। আরও দুবার দারুন সেভ করতে হল পিকফোর্ডকে। শেষ পর্যন্ত ইনজুরি টাইমে সেই মেসির ক্রসে জন স্টোনস ফ্লাইট মিস করতেই দুর্দান্ত হাডে আর্জেনিটিনাকে ফাইনালে তুলে নিয়ে গেলেন লাউতারো মার্টিনেজ।
স্বাভাবিকভাবেই ইংল্যান্ডের লক্ষ্য ছিল মেসিকে স্বাভাবিক খেলা খেলতে না দেওয়া। অন্তত প্রথমার্ধে তারা সেই কাজে সফল হয়েছিল। ডেকলান রাইস আর এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে ডাবল পিভোট রেখে রক্ষণব্যূহ সাজিয়েছিল। মাঝমাঠে ভীষণ রকম প্রেস করে মেসি যাতে বলের সাপ্লাই না পান, সেই চেষ্টা করে গেছে। দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য তালগোল পাকিয়ে গেল সেই হিসেব।
অন্যদিকে স্কালোনি ৪-৪-২ ফর্মেশনে দল সাজিয়ে মাঝমাঠ ভারি করে বেলিংহ্যামকে খুব ক্লোজ মার্কিংয়ে রেখেছিলেন। বেলিংহ্যামের সঙ্গে হ্যারি কেনের যোগসূত্রটা কেটে দেওয়ার কাজেও তারা সফল। তবে বেলিংহ্যাম বল ধরলেই বেশিরভাগ সময় তাঁকে ফাউল করে বিপজ্জনক খেলা খেলছিল আর্জেন্টিনীয়রা।
এটা ঠিকই, যে গোল খাওয়ার পর ম্যাচ জুড়ে, মাঠ জুড়ে শুধু আর্জেন্টিনা আর আর্জেন্টিনা। মেসি আর মেসি। কিন্তু ওই সময় গোল ধরে রাখতে অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক হয়ে কি ভুল করল ইংল্যান্ড? বিশেষত উল্টোদিকে যখন লিও মেসি বলে একজন ছিলেন! এটা হয়ত ভাবাবে থমাস টুচেলকে। তবে গোটা আর্জেন্টিনার সব দুর্ভাবনা দূর করে দেশকে আবার ফাইনালে নিয়ে চলে গেলেন তাঁদের যুবরাজ লিওনেল মেসি। এবার সামনে ভয়ঙ্কর স্প্যানিশ আর্মাডা। চোয়াল কি আরও শক্ত হয়ে উঠছে তাঁর? পরপর দুটো বিশ্বকাপের এত কাছে এসে চ্যাম্পিয়নের আর অন্য কী হবে!
ছবি সৌজন্য এক্স
