জোড়া গোলে নায়ক হালান্ড, ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে দিল নরওয়ে
গোটা বিশ্বের সমর্থকদের হৃদয় ভেঙে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল ব্রাজিল। সেই হালান্ডের জোড়া গোলে সেলেকাওদের ২-১ গোলে হারাল নরওয়ে। ভাইকিং ভিক্ট্রি! শুধু ব্রাজিলকে হারানোই নয় ইতিহাসও গড়ল তারা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবার পৌঁছে গেল কোয়ার্টার ফাইনালে।

গৌতম রায়
গোটা বিশ্বের সমর্থকদের হৃদয় ভেঙে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল ব্রাজিল। সেই হালান্ডের জোড়া গোলে সেলেকাওদের ২-১ গোলে হারাল নরওয়ে। ভাইকিং ভিক্ট্রি! শুধু ব্রাজিলকে হারানোই নয় ইতিহাসও গড়ল তারা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবার পৌঁছে গেল কোয়ার্টার ফাইনালে।
এদিন আর ব্রাজিল নয়, শুধুই হালান্ড আর হালান্ড। আর্লিং হালান্ড ও গ্যাব্রিয়েলের ইপিএলের লড়াইটা নিয়ে অনেক কথা হচ্ছিল, সেই লড়াইটা জিতে নিলেন নরওয়ের তারকা। প্রথম গোলটার সময় বাঁদিক থেকে আসা সেন্টারে এয়ারে সেই গ্যাব্রিয়েলকে টপকেই নিখুঁত হেডটা নিলেন হালান্ড। আলিসনের কিছু করার ছিল না।
একেবারে শেষ সময়ে জোরালো যে গড়ানে শটে দ্বিতীয় গোলটা করলেন, তাতেও আলিসনের কিছই করার ছিল না, এতটাই নিখুঁত ছিল শটটা। এভাবেই ব্রাজিলের সব আশা শেষ করে দিয়ে দেশকে ঐতিহাসিক কোয়ার্টার ফাইনালে তুললেন হালান্ড, আর্লিং হালান্ড।
এখনও পর্যন্ত এবারের বিশ্বকাপে সাতটি গোল করলেন হালান্ড। সাতটি করে গোল করেছেন লিও মেসি ও কিলিয়ান এমবাপেও। ফলে গোল্ডেন বুটের লড়াইটাও রীতিমত জমজমাট।
ব্রাজিল এদিন বিদায় নিল, তবে এই দল নিয়ে, এই ফুটবল নিয়ে যে কোনও দিনই বিদায় নিত। সেটা হয়ত হালান্ডের হাতেই হল। ব্রাজিলকে এমন জঘন্য ফুটবল খেলতে কে কবে দেখেছে! গতিহীন, বৈচিত্র্যহীন ফুটবল। জড়তা যেন গ্রাস করেছিল। পেনিট্রেটিভ জোনে ঠিকমত পাসই করতে পারল না।
নরওয়ের স্ট্র্যাটেজি ছিল, বল ধরে, দখলে রেখে পাস খেলে যাওয়া। বলের দখল যাতে না হারায়, লক্ষ্য ছিল সেদিকেই। এভাবেই ব্রাজিলকে হতাশ করে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। সেই স্ট্র্যাটেজিতে তারা সফল। কিন্তু প্রশ্ন হল এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য যা করার, সেটা করার তাগিদ কেন দেখা গেল না ব্রাজিলিয়ানদের মধ্যে? গোটা ম্যাচে এ কোন ব্রাজিল খেলে গেল!
শুরুতেই অশনি সঙ্কেত ছিল। সম্মিলীত আক্রমম থেকে গেল করে দেয় নরওয়ে, কিন্তু সামান্য অফসাইডের জন্য গোলটি বাতিল হয়। তারপরই কুনহাকে বক্সের মধ্যে ফাউল করায় পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। কিন্তু ব্রুনো গুইমারোজের শট রুখে দেন নরওয়ে গোলরক্ষক। এই গে্ালটা হলে হয়ত ম্যাচের ফল অন্যরকম হতে পারত।
এ ছাড়া ক্যাসেমিরোর ক্রসে লাফানোর সময়ে ভুলচুক করে ফেলায় ঠিকমত হেড করতে পারলেন না মার্টিনেলি। একটু আগে লাফিয়ে ছিলেন তিনি, তাই নিশ্চিত গোলটা পেলেন না। কিংবা ভিনিসিয়াস জুনিয়র যে বলটা বাড়িয়ে ছিলেন পরিবর্ত হিসাবে নামা এনড্রিককে, তিনি যদি বলটি বাইরে না পাঠিয়ে ঠিকমত প্লেসিং করতে পারতেন তাহলেও গোল পেতে পারত ব্রাজিল। নেইমার নামলেন ৬৭ মিনিটে। শেষ সময়ে পেনাল্টি থেকে একটি গোলও শোধ করলেন, কিন্তু ততক্ষণে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে গেছে।
দুটি গোল ছাড়া সুযোগ আরও পেয়েছিল নরওয়েও। কিন্তু এদিন দুই দলের দুই গোলরক্ষক বেশ কয়েকবার দলের পতন আটকান। বিশেষ করে হালান্ডের পর বলতেই হবে নরওয়ে গোলরক্ষকের কথা। তিনি না থাকলে হালান্ডের জোড়া গোলের পরও হয়ত অন্য গল্প লেখা হতে পারত। একটা সম্মিলীত, দলগত, ডিসিপ্লিনড, সবচেয়ে বড় কথা নির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলেই পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের ছিটকে দিল নরওয়ে।
ব্রাজিল ছাড়া বিশ্বকাপ! গোটা বিশ্বের ব্রাজিল অনুরাগীদের বুক ভেঙে গেল ঠিকই, কিন্তু আবেগকে সরিয়ে রেখে এ কথা মেনে নেওয়ার সময় হয়েছে, যে এই ব্রাজিলের কাছে এটাই স্বাভাবিক। এটাই হওয়ার ছিল। আজ না হোক কাল। আনসেলোত্তি আর কী করবেন!








