মাইলস্টোন ছুঁয়েছি, কিন্তু লক্ষ্য আরও বড়”,ইতিহাসের পরেও থামতে নারাজ অ্যান্থনি অ্যান্ড্রুজ
ইতিহাস গড়েছে ইস্টবেঙ্গল এফসি। এএফসি উইমেন্স চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ২০২৬-২৭ মরশুমে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়ে প্রথম ভারতীয় ক্লাব হিসেবে নজির গড়েছে লাল-হলুদ। তবে এই ঐতিহাসিক সাফল্যকেই শেষ গন্তব্য হিসেবে দেখতে নারাজ দলের প্রধান কোচ অ্যান্থনি অ্যান্ড্রুজ। তাঁর মতে, এই অর্জন আসলে আরও বড় লক্ষ্যের পথে প্রথম ধাপ।

এক্সট্রাটাইম ওয়েবডেস্ক: ইতিহাস গড়েছে ইস্টবেঙ্গল এফসি। এএফসি উইমেন্স চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ২০২৬-২৭ মরশুমে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়ে প্রথম ভারতীয় ক্লাব হিসেবে নজির গড়েছে লাল-হলুদ। তবে এই ঐতিহাসিক সাফল্যকেই শেষ গন্তব্য হিসেবে দেখতে নারাজ দলের প্রধান কোচ অ্যান্থনি অ্যান্ড্রুজ। তাঁর মতে, এই অর্জন আসলে আরও বড় লক্ষ্যের পথে প্রথম ধাপ।
ঐতিহাসিক যোগ্যতা অর্জনের পর অ্যান্ড্রুজ স্বীকার করেছেন, দল হিসেবে এখনও উন্নতির অনেক জায়গা রয়েছে। একইসঙ্গে এই মঞ্চে ক্লাব এবং দেশের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য নিজের খেলোয়াড়দের নিয়ে গর্বও প্রকাশ করেছেন তিনি।
“এটা শেষ নয়। ক্লাব এবং দল হিসেবে আমাদের আরও উন্নতি করতে হবে।”
ইস্টবেঙ্গলের এই সাফল্যের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে গত মরশুমের তিক্ত স্মৃতিও। গতবার ম্যাচের শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে অভিযান শেষ হয়েছিল লাল-হলুদের। সেই যন্ত্রণা কীভাবে এবারের অভিযানে দলকে প্রভাবিত করেছে, তা-ও তুলে ধরেছেন অ্যান্ড্রুজ।
“গত বছর যে হৃদয়ভাঙা পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে আমাদের যেতে হয়েছিল, সেই পাঁচ সেকেন্ড আমাদের সবার জন্য সবকিছু বদলে দিয়েছিল।”
ভারতীয় ক্লাবগুলির সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশের শীর্ষ দলগুলির ব্যবধানের কথাও স্বীকার করেছেন ইস্টবেঙ্গল কোচ। তাঁর মতে, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং তৃণমূল স্তরে আরও বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ ভারতীয় মহিলা ফুটবলের উন্নতির ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দেশের ঘরোয়া ফুটবলের ক্যালেন্ডার আরও শক্তিশালী করার উপরও জোর দিয়েছেন অ্যান্ড্রুজ। বিশেষ করে ভারতীয় মহিলা লিগে আরও বেশি ম্যাচ আয়োজনের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। নিয়মিত উচ্চমানের প্রতিযোগিতায় খেলার সুযোগ পেলেই ফুটবলারদের উন্নতি হবে এবং তার প্রভাব পড়বে জাতীয় দলেও।
“প্রথমত, ভারতীয় মহিলা লিগে আমাদের আরও বেশি ম্যাচ দরকার, আরও ম্যাচ এবং আরও বেশি সংখ্যক ম্যাচ।”
এই পর্যায়ে ইস্টবেঙ্গলকে খেলার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনকেও কৃতিত্ব দিয়েছেন অ্যান্ড্রুজ। পাশাপাশি সমর্থকদের ভূমিকাও তুলে ধরেছেন তিনি। তাঁর মতে, পুরো অভিযানে সমর্থকদের অকুণ্ঠ সমর্থন দলের জন্য বড় প্রেরণা হয়ে উঠেছে।
এবার নকআউট পর্বে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে ইস্টবেঙ্গলের সামনে। কিন্তু গত মরশুমের হতাশাকে পিছনে ফেলে ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জনের পর অ্যান্ড্রুজ চান, এই মুহূর্তটাকে শুধু একটি মাইলস্টোন হিসেবে না দেখে ভারতীয় মহিলা ফুটবলের বৃহত্তর উন্নতির অনুঘটক হিসেবে ব্যবহার করা হোক।
“এটাকে শেখার একটি ধাপ হিসেবে নিন, অথবা এটাকে একটি সুযোগ হিসেবে নিন।”
