প্রবীর দাসের অবসর, বিদায় বেলাতেও তাঁর মুখে মোহনবাগানপ্রেমের কথা
ফুটবল থেকে অবসর নিলেন প্রবীর দাস। মোহনবাগানের প্রাক্তনীর শেষ ক্লাব বেঙ্গালুরু এফসি। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের অবসরের কথা জানিয়ে প্রবীর লেখেন, “সত্যি বলতে, কোথা থেকে শুরু করব, সেটাই আমি জানি না। কারণ কখনও ভাবিনি, এই কথাগুলোকে ভাষায় প্রকাশ করা এতটা কঠিন হবে। প্রত্যেক ফুটবলারই জানেন, এই দিনটা একদিন আসবেই। কিন্তু কোনওভাবে, এই দিনের জন্য কেউই পুরোপুরি প্রস্তুত থাকতে পারেন না।
এক্সট্রাটাইম ওয়েব ডেস্ক
ফুটবল থেকে অবসর নিলেন প্রবীর দাস। মোহনবাগানের প্রাক্তনীর শেষ ক্লাব বেঙ্গালুরু এফসি। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের অবসরের কথা জানিয়ে প্রবীর লেখেন, “সত্যি বলতে, কোথা থেকে শুরু করব, সেটাই আমি জানি না। কারণ কখনও ভাবিনি, এই কথাগুলোকে ভাষায় প্রকাশ করা এতটা কঠিন হবে। প্রত্যেক ফুটবলারই জানেন, এই দিনটা একদিন আসবেই। কিন্তু কোনওভাবে, এই দিনের জন্য কেউই পুরোপুরি প্রস্তুত থাকতে পারেন না।
আজ, আবেগ এবং কৃতজ্ঞতায় ভরা হৃদয় নিয়ে আমি আনুষ্ঠানিকভাবে পেশাদার ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা করছি।
যতদিনের কথা আমার মনে পড়ে, ফুটবলই আমার জীবন। আনন্দ, লড়াই, জয়, হার, হাসি, কান্না—আর সেই সমস্ত স্মৃতি, যা আজকের আমাকে তৈরি করেছে।“
সেইল অ্যাকাডেমিতে বেড়ে উঠেছন প্রবীর। তারপর পৈলান অ্যারোজ, ডেম্পো, এফসি গোয়া, দিল্লি ডায়নামোস। তবে মোহনবাগানে আসার পরই সত্যকারের উত্তরণ প্রবীরের।
মোহনবাগানের কথা বলতে গিয়ে এখনও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি। বলেন, “মোহনবাগানকে নিয়ে আমি কতটা আবেগপ্রবণ, তা সবাই জানেন। এই ক্লাব সবসময়ই আমার কাছে আমার মাদার ক্লাব হয়ে থাকবে। এখানেই আমি সত্যিকারের একজন ফুটবলার হিসেবে নিজের পরিচয় খুঁজে পেয়েছিলাম। আর ক্লাব এবং সমর্থকদের কাছ থেকে যে ভালোবাসা পেয়েছি, তা চিরকাল আমার সঙ্গে থাকবে।
ATK আমার কেরিয়ারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। চ্যাম্পিয়নশিপ, অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত এবং একইসঙ্গে আমার কেরিয়ারের অন্যতম বড় ধাক্কাও এসেছিল এই সময়ে। গুরুতর ACL চোট থেকে ফিরে আবার জয় পাওয়ার অভিজ্ঞতা আমাকে শিখিয়েছিল, আসলে কখনও হাল ছেড়ে না দেওয়ার অর্থ কী।
এরপর আবার Mohun Bagan SG-এর হয়ে ISL-এ অংশ নেওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল আমার। সেটি আমার কেরিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে।“
মোহনবাগান থেকে বেঙ্গালুরু এফসি, কেরালা ব্লাস্টার্স ও মুম্বই সিটি এফসি হয়ে ইন্টার কাশি।
দীর্ঘ কেরিয়ারে কঠিন সময়ও এসেছে। সেই প্রসঙ্গে প্রবীরের বক্তব্য, “প্রথমবারের মতো আমি এমন একটি ঘটনা সবার সঙ্গে ভাগ করে নিতে চাই, যা কেরালা ব্লাস্টার্সের থাইল্যান্ডে প্রি-সিজনের সময় ঘটেছিল। আমার শরীরের বাঁ দিকে অসাড়তা, ঝিনঝিনে অনুভূতি এবং ভারসাম্য নিয়ে সমস্যা শুরু হয়েছিল। এরপর আমার জীবনের অন্যতম কঠিন সময় শুরু হয়, কারণ আমাকে গুরুতর স্নায়ুর সমস্যার সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছিল।
প্রথমবার আমার সবচেয়ে বড় লড়াইটা ফুটবল মাঠে ফেরার জন্য ছিল না। সেটা ছিল আমার স্বাস্থ্য ফিরে পাওয়া এবং আবার নিজের মতো হয়ে ওঠার জন্য।“
বিদায় বেলায় সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রবীর বলেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়াটা সহজ ছিল না, তবু একদিন না একদিন তো এই সিদ্ধান্ত নিতেই হবে! তবে খেলা ছাড়লেও পরবর্তী জীবনে ফুটবলের সঙ্গে জড়িয়ে থাকার ইচ্ছার কথাই জানান প্রবীর।
