ডার্বি দিয়ে ডুরান্ড শুরু, ডার্বি দিয়ে শেষ, বিশাল কাইথ ফাইনালে নিয়ে গেলেন মোহনবাগানকে
মোহনবাগান খেলতে নামলে এখন যেন একটি বিষয় বারবার ফিরে আসে, বিশাল কাইথের ম্যাচ উইনিং সেভ। জামশেদপুর এফসির পর এবার নর্থইস্ট ইউনাইটেড। পরপর দুই ম্যাচে গোলের নিচে চিনের প্রাচীর হয়ে দলকে বাঁচালেন মোহনবাগানের নির্ভরযোগ্য গোলরক্ষক। এটা যেন তাঁর অভ্যাস। শিলংয়ে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে টাইব্রেকারে দুটি শট বাঁচিয়ে সবুজ মেরুনকে পৌঁছে দিলেন ডুরান্ড কাপের ফাইনালে।

এক্সট্রা টাইম বাংলা ওয়েব ডেস্ক: মোহনবাগান খেলতে নামলে এখন যেন একটি বিষয় বারবার ফিরে আসে, বিশাল কাইথের ম্যাচ উইনিং সেভ। জামশেদপুর এফসির পর এবার নর্থইস্ট ইউনাইটেড। পরপর দুই ম্যাচে গোলের নিচে চিনের প্রাচীর হয়ে দলকে বাঁচালেন মোহনবাগানের নির্ভরযোগ্য গোলরক্ষক। এটা যেন তাঁর অভ্যাস। শিলংয়ে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে টাইব্রেকারে দুটি শট বাঁচিয়ে সবুজ মেরুনকে পৌঁছে দিলেন ডুরান্ড কাপের ফাইনালে। একবার আলাদিনের পেনাল্টিতে হাত লাগিয়ে ফেলেছিলেন প্রায়। আত্মবিশ্বাস ছিল গগনচুম্বী। পরপর দুই ম্যাচে তাঁর হাতেই যেন লেখা হল মোহনবাগানের জয়ের গল্প।
মেঘালয়ের শিলংয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে এদিন ছিল কঠিন পরিস্থিতিতে ফুটবলের লড়াই। মাঠের উপরের অংশ ছিল পিচ্ছিল, বল নিয়ন্ত্রণ করা সহজ ছিল না। পাহাড়ি মাটি যেমন হয় আরকি! প্রবল বৃষ্টিতে জল জমে ছিল। ফলে নিজেদের স্বাভাবিক পজেশনাল ফুটবল খেলতে পারেনি কোনও দলই। বাধ্য হয়েই দুই দলকে বেশি নির্ভর করতে হয়েছে ডাইরেক্ট ফুটবলের উপর। সেই টানটান লড়াইয়ের শেষে গতবারের চ্যাম্পিয়ন নর্থইস্ট ইউনাইটেড এফসিকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠে গেল মোহনবাগান।
নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনও দলই গোল করতে পারেনি। ফলে ম্যাচের ভাগ্য গড়ায় পেনাল্টি শুটআউটে। আর সেখানেই মোহনবাগানের ত্রাতা হয়ে উঠলেন বিশাল কাইথ। তাঁর দুটি দুরন্ত সেভের সুবাদে জয় নিশ্চিত করে সবুজ-মেরুন। একই সঙ্গে নিশ্চিত হয়ে গেল ভারতীয় ফুটবলের অন্যতম প্রতীক্ষিত মহারণ, মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল দুই প্রধানের কলকাতা ডার্বি।
শিলংয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামের কানায় কানায় পূর্ণ গ্যালারির সামনে শুরু থেকেই দুই দল সাবধানী ফুটবল খেলতে থাকে। নর্থইস্টের ঘরের মাঠের সুবিধা সামলাতে মোহনবাগানের রক্ষণভাগ ছিল বেশ সংগঠিত। রদ্রিগেজ নেতৃত্ব দিলেন। অভিষেক মিটেই আজ অনবদ্য। অন্যদিকে সবুজ মেরুন ফরোয়ার্ডরা কয়েকটি আক্রমণ তৈরি করলেও শেষপর্যন্ত ফিনিশিংয়ে সেই ধার দেখা যায়নি।
ফুটবলারদের বল রিসিভ করা, দ্রুত পাস দেওয়া কিংবা ট্যাকল করা সব ক্ষেত্রেই সমস্যায় পড়তে হয়। এই পরিস্থিতিতে মোহনবাগান বা নর্থইস্ট, কেউই নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে পজেশনাল ফুটবল খেলতে পারেনি। ম্যাচের বেশিরভাগ সময়ই তাই দেখা যায় সরাসরি লম্বা বল এবং দ্রুত আক্রমণে যাওয়ার চেষ্টা। উভয় দল প্রেডিক্টেবেল ফুটবল খেলছিল।
মোহনবাগানের নতুন সংযোজন মিগুয়েলও এই ম্যাচে মাঠে নামেন। অল্প সময়ের জন্য তাঁকে দেখে সবুজ মেরুন সমর্থকদের মধ্যে আশার আলো দেখা গেলেও দলের সঙ্গে পুরোপুরি ছন্দ মিলিয়ে নিতে তাঁর আরও সময় প্রয়োজন। আগামী দিনে তাঁর কাছ থেকে আরও বড় ভূমিকা প্রত্যাশা করতেই পারেন কোচ ও সমর্থকরা। কেননা তাঁর আছে লাইন ব্রেকিং ড্রিবল। ইচ্ছে মত ধ্বংস করতে পারেন বিপক্ষকে।
৯০ মিনিটে গোল না আসায় শেষ পর্যন্ত ম্যাচের নিষ্পত্তি হয় টাইব্রেকারে। আর সেই মুহূর্তেই নিজের জাত চেনালেন বিশাল কাইথ।
চাপের মুহূর্তে দুর্দান্ত দুটি সেভ করে নর্থইস্ট ইউনাইটেডের রাস্তা আটকে দেন তিনি। তাঁর অসাধারণ রিফ্লেক্স, ঠান্ডা মাথা এবং সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তই ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত ৪-৩ ব্যবধানে জয় পেয়ে ডুরান্ড কাপের ফাইনালে জায়গা করে নেয় মোহনবাগান।
জামশেদপুর ম্যাচের মতোই, পরপর দুই নকআউট ম্যাচে তাঁর হাতেই যেন মোহনবাগানের ফাইনালের টিকিট।
মোহনবাগানের এই জয়ের সঙ্গে সঙ্গেই ডুরান্ড কাপে ফিরল ২০২৩ সালের সেই মহাকাব্যিক ফাইনালের স্মৃতি। সেবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে দশ জনের মোহনবাগান ১-০ গোলে ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়ে ডুরান্ড কাপ জিতেছিল। গোল করেছিলেন দিমি পেট্রাটোস। আজ তিনি নেই। কিন্তু স্মৃতি আছে। মোহনবাগান আছে।
তিন বছর পর ফের ডুরান্ডের ফাইনালে মুখোমুখি বাংলার দুই প্রধান। ফলে ইস্টবেঙ্গলের সামনে থাকবে ২০২৩ সালের ফাইনালের হারের বদলা নেওয়ার সুযোগ। অন্যদিকে মোহনবাগানের লক্ষ্য থাকবে নিজেদের আধিপত্য আরও একবার প্রমাণ করা। কিন্তু ইস্টবেঙ্গল যে এবার আলাদা। এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ 2 এর মূলপর্বে গেছে তারা। এই যুবভারতীতে তারা হারিয়েছে কুয়েতের আল আরাবিকে, আত্মবিশ্বাস তাই অনেকটাই।
ডুরান্ড কাপের ইতিহাসে রেকর্ড ১৭ বার ট্রফি জিতে সবচেয়ে সফল দল মোহনবাগান। অন্যদিকে ১৬টি খেতাব নিয়ে সবুজ-মেরুনের ঘাড়ের কাছেই রয়েছে ইস্টবেঙ্গল।
রবিবার যুবভারতীর মহামঞ্চে তাই শুধু একটি ট্রফির লড়াই হবে না, লড়াই হবে ইতিহাস ও আধিপত্যেরও। মোহনবাগানের লক্ষ্য ১৮তম ডুরান্ড কাপ জিতে ব্যবধান বাড়ানো। ইস্টবেঙ্গলের লক্ষ্য ১৭তম শিরোপা জিতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের সমকক্ষ হওয়া।
ডুরান্ড কাপের ফাইনাল যখন ডার্বি, তখন ফুটবল উত্তেজনার পারদ যে চড়বে, তা বলাই যায়। তবে সেই মহারণের আগে মোহনবাগানের সবচেয়ে বড় ভরসার নাম নিঃসন্দেহে বিশাল কাইথ। জামশেদপুর থেকে নর্থ ইস্ট, পর দুই ম্যাচে তাঁর হাতেই বেঁচেছে মোহনবাগান। এবার মহাডার্বির মঞ্চে সেই হাতই কি এনে দেবে ১৮তম ডুরান্ড কাপ? ম্যাচের ফল নির্ধারিত সময়ে শেষ হবে নাকি, এবার লড়াই গিল ও বিশালের।
