প্রজন্ম বদলেছে, আনন্দের লড়াই নয়: ৫৬-তেও জারি কিংবদন্তির পথচলা
৫৬ বছর বয়সেও গ্লোবাল চেস লিগের অন্যতম বড় আকর্ষণ বিশ্বনাথন আনন্দ। এমন এক প্রজন্মের খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে এখনও তিনি বোর্ডে লড়াই করছেন, যাদের প্রস্তুতির ধরন, খেলার গতি এবং আধুনিক দাবার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পদ্ধতি অনেকটাই আলাদা। এই পর্যায়ের দাবায় সামান্য ভুলও ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারে। সাম্প্রতিক ফলাফলও দেখাচ্ছে, এতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিবেশে ধারাবাহিকভাবে সেরাটা দেওয়া কতটা কঠিন।

এক্সট্রাটাইম ওয়েবডেস্ক: গ্লোবাল চেস লিগে বিশ্বনাথন আনন্দের কঠিন সময় যেন কাটছেই না। বুধবার আবারও হারের মুখে পড়লেন পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। এবার তাঁর প্রতিপক্ষ ছিলেন অভিজ্ঞ ফরাসি গ্র্যান্ডমাস্টার ম্যাক্সিম ভাশিয়ে-লাগ্রাভ।
কালো গুটি নিয়ে খেলতে নেমে ম্যাক্সিম ভাশিয়ে-লাগ্রাভ-এর বিরুদ্ধে শুরু থেকেই কঠিন লড়াইয়ে ছিলেন আনন্দ। দুই অভিজ্ঞ গ্র্যান্ডমাস্টারের এই দ্বৈরথ শেষ পর্যন্ত আনন্দের পক্ষে গেল না। চলতি গ্লোবাল চেস লিগে এর আগেও টানা দুই ম্যাচে হেরেছিলেন তিনি। ফলে বুধবারের পরাজয় তাঁর সাম্প্রতিক খারাপ সময়কেই আরও দীর্ঘ করল।
৫৬ বছর বয়সেও গ্লোবাল চেস লিগের অন্যতম বড় আকর্ষণ বিশ্বনাথন আনন্দ। এমন এক প্রজন্মের খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে এখনও তিনি বোর্ডে লড়াই করছেন, যাদের প্রস্তুতির ধরন, খেলার গতি এবং আধুনিক দাবার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পদ্ধতি অনেকটাই আলাদা। এই পর্যায়ের দাবায় সামান্য ভুলও ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারে। সাম্প্রতিক ফলাফলও দেখাচ্ছে, এতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিবেশে ধারাবাহিকভাবে সেরাটা দেওয়া কতটা কঠিন।
তবে আনন্দের গ্লোবাল চেস লিগ অভিযানকে শুধু তাঁর পরাজয়ের সংখ্যায় বিচার করলে ছবিটা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।
তাঁর সতীর্থরাও এখনও বোর্ডে আনন্দের উপস্থিতি এবং অভিজ্ঞতার গুরুত্ব স্বীকার করেন। একই আলাস্কান নাইটস দলের হয়ে খেলা অর্জুন এরিগাইসি সম্প্রতি আনন্দের দীর্ঘ কেরিয়ার নিয়ে নিজের মুগ্ধতার কথা জানিয়েছিলেন। তাঁর মতে, এই বয়সেও এতটা উচ্চ পর্যায়ে নিয়মিত খেলে যাওয়া কতজনের পক্ষে সম্ভব, সেটাই ভাবা কঠিন।
ফলাফল হয়তো আনন্দের প্রত্যাশামতো হচ্ছে না। কিন্তু বিশ্বের সেরা দাবাড়ুদের বিরুদ্ধে এখনও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। আর সেটাই মনে করিয়ে দেয়, দাবার সর্বোচ্চ স্তরে তাঁর দীর্ঘস্থায়ী উপস্থিতি কতটা অসাধারণ।
পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নের কাছে গ্লোবাল চেস লিগ হয়তো আরও একবার মনে করিয়ে দিচ্ছে দাবা প্রতিনিয়ত বদলাচ্ছে। কিন্তু বয়স ও সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আনন্দের এই লড়াইই প্রমাণ করে, দাবার বোর্ডে তাঁর নাম এখনও একইভাবে প্রাসঙ্গিক।
