রোমানিয়ায় দুর্দান্ত জয়, দু’ বছর পর প্রথম এটিপি চ্যালেঞ্জার ফাইনালে সুমিত নাগাল
ভারতের এক নম্বর পুরুষ টেনিস খেলোয়াড় সুমিত নাগাল দীর্ঘদিনের শিরোপা খরা কাটানোর দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছেন। রোমানিয়ায় অনুষ্ঠিত এটিপি চ্যালেঞ্জার ৭৫ টার্গু মুরেশ টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে আয়োজক দেশের সেজার ক্রেতুকে ৬-৩, ৪-৬, ৬-১ ব্যবধানে হারিয়ে ২০২৬ সালের প্রথম এটিপি চ্যালেঞ্জার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।

এক্সট্রাটাইম ওয়েব ডেস্ক
ভারতের এক নম্বর পুরুষ টেনিস খেলোয়াড় সুমিত নাগাল দীর্ঘদিনের শিরোপা খরা কাটানোর দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছেন। রোমানিয়ায় অনুষ্ঠিত এটিপি চ্যালেঞ্জার ৭৫ টার্গু মুরেশ টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে আয়োজক দেশের সেজার ক্রেতুকে ৬-৩, ৪-৬, ৬-১ ব্যবধানে হারিয়ে ২০২৬ সালের প্রথম এটিপি চ্যালেঞ্জার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।
এটি ২০২৪ সালের জুনে পেরুজিয়া চ্যালেঞ্জারে রানার্স-আপ হওয়ার পর নাগালের প্রথম এটিপি চ্যালেঞ্জার ফাইনাল। একই সঙ্গে টানা চারটি তিন সেটের ম্যাচ জিতে ফাইনালে ওঠা তাঁর অসাধারণ লড়াকু মানসিকতা ও ফিটনেসের প্রমাণ দিয়েছে। রবিবারের ফাইনালে তিনি মুখোমুখি হবেন ফ্রান্সের কোয়ালিফায়ার ফেলিক্স বালশোর। জয় পেলে ক্যারিয়ারের সপ্তম এটিপি চ্যালেঞ্জার শিরোপা জিতবেন ভারতীয় তারকা।
সেমিফাইনালে সুমিতের প্রতিপক্ষ ছিলেন রোমানিয়ার সেজার ক্রেতু, যিনি পুরো টুর্নামেন্টে একটি সেটও না হেরে শেষ চারে উঠেছিলেন। নিজের দেশের দর্শকদের সমর্থনও ছিল ক্রেতুর পক্ষেই।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি নাগালের। প্রথম সেটে সার্ভিস ব্রেক করে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যান ক্রেতু। তবে অভিজ্ঞতার পরিচয় দিয়ে সেখান থেকেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন ভারতীয় টেনিস তারকা। টানা পাঁচটি গেম জিতে ৬-৩ ব্যবধানে প্রথম সেট জিতে নেন তিনি। আক্রমণাত্মক রিটার্ন ও উন্নত প্রথম সার্ভের সুবাদে ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়ে নেন নাগাল।
দ্বিতীয় সেটে ঘুরে দাঁড়ান ক্রেতু। নাগালের দ্বিতীয় সার্ভে ধারাবাহিক চাপ তৈরি করেন তিনি এবং ভুলের সংখ্যাও কমিয়ে আনেন। শেষ পর্যন্ত ৬-৪ ব্যবধানে সেট জিতে ম্যাচকে নির্ধারণী তৃতীয় সেটে নিয়ে যান রোমানিয়ান খেলোয়াড়।
টুর্নামেন্টে টানা চতুর্থ ম্যাচের মতো আবারও তিন সেটে খেলতে হলেও ক্লান্তির কোনও ছাপ দেখা যায়নি নাগালের খেলায়। বরং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়েই নিজের সেরা টেনিস উপহার দেন তিনি।
তৃতীয় সেটে শক্তিশালী গ্রাউন্ডস্ট্রোক, নিখুঁত কোর্ট কভারেজ এবং ধারাবাহিক আক্রমণাত্মক খেলায় ক্রেতুকে পুরোপুরি চাপে ফেলে দেন ভারতীয় তারকা। একের পর এক উইনার মেরে মাত্র ৬-১ ব্যবধানে সেট জিতে ম্যাচ শেষ করেন নাগাল। তাঁর মানসিক দৃঢ়তা এবং কঠিন পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা আবারও নজর কাড়ে।
এই টুর্নামেন্টে নাগালের সাফল্যের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো প্রতিটি ম্যাচেই কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হওয়া। প্রথম রাউন্ডে ক্রোয়েশিয়ার মিলি পোলজিচাককে হারানোর পর দ্বিতীয় রাউন্ডে বেঞ্জামিন হাসানের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেন তিনি।
কোয়ার্টার ফাইনালে দুজে আজদুকোভিচের বিপক্ষেও প্রথম সেট হারার পর জয় তুলে নেন। এরপর সেমিফাইনালে ক্রেতুকে হারিয়ে টানা চারটি তিন সেটের ম্যাচ জিতে ফাইনালে পৌঁছেছেন নাগাল। কঠিন ম্যাচে ধারাবাহিকভাবে জয় পাওয়া তাঁর আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে, যা ফাইনালে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
এই ফাইনালে ওঠা সুমিত নাগালের প্রত্যাবর্তনের যাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। গত এক বছরে চোট এবং ধারাবাহিকতার অভাবে এটিপি র্যাঙ্কিংয়ে অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছিলেন তিনি। তবে রোমানিয়ায় তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রমাণ করছে, ভারতীয় টেনিসের এই তারকা আবারও নিজের সেরা ছন্দে ফিরছেন।
এবারের ফাইনালে জয় পেলে শুধু দীর্ঘদিনের শিরোপা খরাই কাটবে না, এটিপি র্যাঙ্কিংয়েও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট অর্জন করবেন সুমিত নাগাল। যার ফলে বড় টুর্নামেন্টে সরাসরি মূল পর্বে খেলার সম্ভাবনাও আরও উজ্জ্বল হবে।








