ম্যাচের সেরা হয়ে কম্বোজ জানিয়ে দিলেন, “একটা ম্যাচ কখনও কেরিয়ার ঠিক করে দিতে পারে না”
মাঝের ওভারগুলিতে অত্যন্ত ধারাবাহিক বোলিং করেন অংশুল কম্বোজ। ১০ ওভারে মাত্র ২২ রান দিয়ে ২ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি তিনি ৪৬টি ডট বল করেন। দলের তিন নতুন মুখকে সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত যে হেড কোচ গৌতম গম্ভীরকে স্বস্তি দেবে, তা বলাই যায়।

এক্সট্রাটাইম ওয়েব ডেস্ক
বুধবার অকল্যান্ডের ইডেন পার্কে ম্যাচের সেরা হয়ে অনসুল কম্বোজ জানিয়ে দিলেন একটা ম্যাচ কখনও কেরিয়ার নির্ধারণ করতে পারে না। তাঁর স্পষ্ট কথা এভাবেই পারফরম্যান্স করে যেতে চান। জানিয়ে দিলেন ম্যাঞ্চেস্টার টেস্ট থেকেই তিনি ভাল পারফর্ম করার প্রেরণা পান। বাইরের কথায় কান দিতে নারাজ হরিয়ানা পেসার।
এদিন ভারতের তরুণ পেস আক্রমণে আর একজন নজর কাড়েন। গুরনুর ব্রার। তাঁর বাউন্স সামলাতে রীতিমতো সমস্যায় পড়লেন নিউজিল্যান্ডের ব্যাটাররা। অন্যদিকে, ৩৮তম জন্মদিনের একদিন আগেই ব্যাট হাতে নিজের জাত চেনালেন বিরাট কোহলি। তাঁর ঝকঝকে ৭৪ রানের ইনিংসের সৌজন্যে বুধবার অকল্যান্ডে বৃষ্টিবিঘ্নিত প্রথম একদিনের ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৫ উইকেটে হারাল ভারত।
এর আগে ভারতের বোলারদের দাপটে ৪০.২ ওভারে মাত্র ১৮৫ রানে অলআউট হয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। ৬ ফুট ৫ ইঞ্চি উচ্চতার গুরনুর ব্রারের উপর আস্থা রেখেছিলেন অধিনায়ক শুভমন গিল। সেই আস্থার মর্যাদা দিয়ে নিজের গতি ও বাউন্সে কিউয়ি ব্যাটারদের কার্যত দিশেহারা করে দেন তিনি। তাঁকে যোগ্য সঙ্গত দেন অর্শদীপ সিং। এবং কিউয়িদের বেসামাল করেন অনসুল কম্বোজ।
বৃষ্টির কারণে ভারতের সামনে লক্ষ্য কমে দাঁড়ায় ১৪৩ রান। ২২.৪ ওভারেই সেই রান তুলে নেয় ভারত। ৫১ বলে ৭৪ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলেন কোহলি। তাঁর ইনিংসে ছিল ১৩টি চার ও একটি ছয়। মূলত তাঁর ব্যাটেই সহজ হয়ে যায় ভারতের জয়।
চোটের কারণে এবং ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের জন্য দলের প্রথম সারির তিন পেসার জসপ্রীত বুমরাহ, মহম্মদ সিরাজ ও প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা এই ম্যাচে ছিলেন না। তাঁদের অনুপস্থিতিতে পাঞ্জাবের দুই পেসার অর্শদীপ (১০ ওভারে ৭০ রানে ৪ উইকেট) ও গুরনুর (৯.২ ওভারে ৪৪ রানে ৩ উইকেট) ও হরিয়ানার কম্বোজ বোলিং আক্রমণের দায়িত্ব সামলান।
মাঝের ওভারগুলিতে অত্যন্ত ধারাবাহিক বোলিং করেন অংশুল কম্বোজ। ১০ ওভারে মাত্র ২২ রান দিয়ে ২ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি তিনি ৪৬টি ডট বল করেন। দলের তিন নতুন মুখকে সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত যে হেড কোচ গৌতম গম্ভীরকে স্বস্তি দেবে, তা বলাই যায়।
ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই রোহিত শর্মাকে (৬ বলে শূন্য) হারায় ভারত। এরপর মাপা আগ্রাসনে ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যান কোহলি। বারবার বৃষ্টির বিরতি এলেও তাঁর ব্যাটিংয়ের ছন্দে কোনও প্রভাব পড়েনি। চেনা কভার ড্রাইভ, মিড উইকেট দিয়ে দৃষ্টিনন্দন শট এবং শর্ট-আর্ম ও লফটেড পুলে দর্শকদের মন জয় করেন ভারতীয় তারকা।
বৃহস্পতিবার ৩৮ বছরে পা দেবেন কোহলি। তার আগেই একদিনের ক্রিকেটে নিজের ৮০তম অর্ধশতরানটি তুলে নেন তিনি। তাঁকে যোগ্য সঙ্গত দেন অধিনায়ক শুভমন গিল। ৩৭ রানের ইনিংস খেলে কোহলির সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে ১১৩ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন গিল। রোহিতের গোল্ডেন ডাকের ধাক্কা সামলে এই জুটিই ভারতকে জয়ের পথে এগিয়ে দেয়।
ম্যাচের পর কম্বোজ আরও বলেন, তাঁর লক্ষ্য ছিল লাইন ও লেংথ ঠিক রাখা. উইকেট কেমন আচরণ করছে সেটা মাথায় না রাখা। এভাবেই সাফল্য পেলেন তিনি। তাঁর এদিনের পারফরম্যান্সের পর অনেকেরই গ্লেন ম্যাকগ্রার কথা মনে পড়ছিল। এটাই বা কী কম প্রাপ্তি!








