প্রত্যাখ্যান থেকে স্বীকৃতি: শুভম গৌতমের গতিই খুলে দিল সাফল্যের দরজা
উত্তরপ্রদেশের নারোরা এলাকার ২১ বছর বয়সি পেসার শুভম গৌতম দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে নিজের জায়গা তৈরি করার চেষ্টা করেছেন
এক্সট্রা টাইম ওয়েব ডেস্ক: কিছু ক্রিকেটারের ক্ষেত্রে স্বীকৃতি প্রাপ্তির পথচলা শুরু হয় দলে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। কিন্তু শুভম গৌতমের ক্ষেত্রে সেই যাত্রার শুরু হয়েছিল উপেক্ষিত হওয়ার মধ্য দিয়ে।
উত্তরপ্রদেশের নারোরা এলাকার ২১ বছর বয়সি পেসার শুভম গৌতম দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে নিজের জায়গা তৈরি করার চেষ্টা করেছেন। বারবার নির্বাচিত না হওয়া দমিয়ে দেয়নি তাঁর স্বপ্নের গতিকে। বরং প্রতিটি প্রত্যাখ্যান তাঁকে আরও বেশি পরিশ্রম করতে অনুপ্রাণিত করেছে। আর সেই পরিশ্রমের মূল লক্ষ্য ছিল এমন এক ব্রহ্মাস্ত্র, যার ফলে তাঁকে উপেক্ষা করা সম্ভব নয়, আর সেই ব্রহ্মাস্ত্র হলো তাঁর গতি।
মাত্র ১৪ বছর বয়সে ক্রিকেট খেলা শুরু করেন গৌতম। প্রথমে টেনিস বল দিয়ে ক্রিকেট খেললেও ধীরে ধীরে লেদার-বল ক্রিকেটে পা রাখেন তিনি। সময়ের সঙ্গে নিজের বোলিংয়ে গতি বাড়িয়ে ঘণ্টায় প্রায় ১৪০ কিলোমিটার বেগে ধারাবাহিকভাবে বল করার ক্ষমতা অর্জন করেন। কাঁচা গতিই হয়ে ওঠে তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি।
তাঁর জীবনে বড় পরিবর্তন আসে উত্তরপ্রদেশ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের স্পিড হান্টের মাধ্যমে। সেখানে তাঁর গতি নির্বাচকদের নজর কাড়ে। সেই সুযোগই শেষ পর্যন্ত তাঁকে নিয়ে যায় UPT20 লিগে। সেখানে নোয়ডা কিংস তাঁকে ২১.৫ লক্ষ টাকায় দলে নেয়।
গৌতমের এই উত্থানের গল্প আরও বিশেষ, কারণ তিনি একটি কৃষক পরিবার থেকে উঠে এসেছেন। শুধু দ্রুতগতিতে বল করাই নয়, তাঁর এই যাত্রার পেছনে রয়েছে পরিবারের অকুণ্ঠ সমর্থন এবং কোচ অঙ্কিত কুমার রাজপুতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। তাঁর উন্নতির প্রতিটি ধাপে তাঁরা পাশে থেকেছেন।
এখন UPT20-তে অভিষেকের পর আরও বড় স্বপ্ন দেখছেন গৌতম। তাঁর পরবর্তী লক্ষ্য উত্তরপ্রদেশের সিনিয়র ক্রিকেট দলে জায়গা করে নেওয়া এবং পেশাদার ক্রিকেটে নিজের পরিচয় আরও শক্তিশালী করা।
শুবম গৌতমের গল্প মনে করিয়ে দেয়, সবার মেওয়া ঠিকই ফলে, প্রত্যাখ্যান হয়তো স্বপ্নের পথে দেরি করাতে পারে, কিন্তু সেই স্বপ্নের শেষ কোথায় হবে, তা কখনও নির্ধারণ করতে পারে না।
