দলীপ থেকে ইরানি কাপ, লাল বলের রাজত্বে জাতীয় দলে ফেরার স্বপ্নে নতুন গতি মুকেশের
ঘরোয়া ক্রিকেটে একের পর এক নজরকাড়া পারফরম্যান্স। বল হাতে ধারাবাহিক সাফল্যে জাতীয় টেস্ট দলে ফেরার দাবিকে আরও জোরালো করছেন বাংলার পেসার মুকেশ কুমার। দলীপ ট্রফি থেকে ইরানি কাপ লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর সাম্প্রতিক দাপট নির্বাচকদের নজর কাড়ার মতো। এ বার নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে বহুদিনের ম্যাচের সিরিজে ভারত ‘এ’ দলে সুযোগ পেয়েছেন মুকেশ। এই মঞ্চে নিজের ছন্দ ধরে রেখে জাতীয় টেস্ট দলে প্রত্যাবর্তনের দাবিকে আরও শক্তিশালী করার সুযোগ রয়েছে তাঁর সামনে।

এক্সট্রাটাইম ওয়েবডেস্ক: ঘরোয়া ক্রিকেটে একের পর এক নজরকাড়া পারফরম্যান্স। বল হাতে ধারাবাহিক সাফল্যে জাতীয় টেস্ট দলে ফেরার দাবিকে আরও জোরালো করছেন বাংলার পেসার মুকেশ কুমার। দলীপ ট্রফি থেকে ইরানি কাপ লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর সাম্প্রতিক দাপট নির্বাচকদের নজর কাড়ার মতো। এ বার নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে বহুদিনের ম্যাচের সিরিজে ভারত ‘এ’ দলে সুযোগ পেয়েছেন মুকেশ। এই মঞ্চে নিজের ছন্দ ধরে রেখে জাতীয় টেস্ট দলে প্রত্যাবর্তনের দাবিকে আরও শক্তিশালী করার সুযোগ রয়েছে তাঁর সামনে।
দলীপ ট্রফিতে পাঁচ ইনিংসে ১২টি উইকেট নিয়ে প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হয়েছিলেন মুকেশ। তাঁর বোলিং গড় ছিল মাত্র ১৪.৯১। প্রতিযোগিতার সেমিফাইনালে সাত উইকেট নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতাও প্রমাণ করেন বাংলার এই পেসার। দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটে নিয়মিত উইকেট তুলে নিয়ে দলকে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য এনে দেওয়ার দক্ষতা তাঁর এই পারফরম্যান্সে স্পষ্ট।
দলীপ ট্রফির পর ইরানি কাপেও সেই ছন্দ ধরে রাখেন মুকেশ। জম্মু ও কাশ্মীরের বিরুদ্ধে ম্যাচে অবশিষ্ট ভারত দলের হয়ে আটটি উইকেট তুলে নেন তিনি। দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৩৩ রান দিয়ে ছয় উইকেট নেওয়ার দুরন্ত পারফরম্যান্সে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপ কার্যত ভেঙে পড়ে। তাঁর এই আগুনে বোলিং অবশিষ্ট ভারতকে জয় পেতেও সাহায্য করে। দীর্ঘ সময় ধরে চাপ বজায় রাখা এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে উইকেট তুলে নেওয়ার ক্ষমতা আরও এক বার তুলে ধরেন তিনি।
এ বার ভারত ‘এ’ দলের হয়ে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে বহুদিনের ম্যাচের সিরিজে নিজেকে প্রমাণ করার নতুন সুযোগ পাচ্ছেন মুকেশ। ঘরোয়া ক্রিকেটে তাঁর সাম্প্রতিক সাফল্য জাতীয় দলের দরজায় ফের কড়া নাড়ার সম্ভাবনাও বাড়িয়েছে। বাংলার আর এক পেসার আকাশ দীপও নিজের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নির্বাচকদের নজরে রয়েছেন। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে আসন্ন টেস্ট সিরিজের আগে দুই পেসারের পারফরম্যান্সই ভারতীয় দলের বোলিং শক্তি বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
শুধু ঘরোয়া ক্রিকেটেই নয়, ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেটে নটিংহ্যামশায়ারের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতাও রয়েছে মুকেশের। পাশাপাশি রঞ্জি ট্রফিতে বাংলার লাল বলের দলেও রয়েছেন তিনি। বিভিন্ন পরিবেশে খেলার এই অভিজ্ঞতা তাঁর বোলিংকে আরও পরিণত করার পাশাপাশি ধারাবাহিকতা বজায় রাখার সুযোগ করে দিচ্ছে।
ভারতের পেস আক্রমণে প্রতিযোগিতা যথেষ্ট কঠিন হলেও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের জোরে নিজের দাবিকে প্রতিষ্ঠিত করছেন মুকেশ। জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে ফিটনেস, কাজের চাপ সামলানো, পিচের চরিত্র এবং দলের ভারসাম্যের মতো বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক উইকেট নিয়ে মুকেশ ইতিমধ্যেই নিজের সামর্থ্যের পরিচয় দিয়েছেন।
এখন তাঁর লক্ষ্য এই ছন্দ ধরে রাখা এবং প্রতিটি সুযোগকে কাজে লাগানো। দলীপ ট্রফি ও ইরানি কাপে দুরন্ত পারফরম্যান্স তাঁর প্রত্যাবর্তনের লড়াইয়ে নতুন গতি এনেছে। ভারত ‘এ’ দলের হয়ে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে আসন্ন সিরিজে বল হাতে আরও এক বার নিজের দক্ষতা প্রমাণ করতে পারলে জাতীয় টেস্ট দলের পেস আক্রমণে ফেরার সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হতে পারে। ঘরোয়া ক্রিকেটে সাফল্যের এই ধারাকে আন্তর্জাতিক স্তরের সুযোগে বদলে দেওয়ার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছেন বাংলার মুকেশ কুমার।
