বিশ্বকাপে গোলের বন্যা, প্রথমবার ডাবল সেঞ্চুরি
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ ইতিমধ্যেই ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়েছে। শুধু সর্বাধিক গোলের রেকর্ডই নয়, বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবার গ্রুপ পর্বেই গোলসংখ্যা পেরিয়ে গেল ডাবল সেঞ্চুরি। ৭২টি গ্রুপ ম্যাচ শেষে মোট গোল হয়েছে ২১৩টি, যেখানে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ৬৪টি ম্যাচ মিলিয়ে মোট গোল হয়েছিল ১৭২টি।

এক্সট্রা টাইম বাংলা ওয়েব ডেস্ক: দল সংখ্যা এতদিন ছিল ৩২, এবার সেখানে ৪৮। ম্যাচ সংখ্যা বেশি, বিশ্বকাপে গোল সংখ্যা বাড়বে, এটা স্বাভাবিক, তবে এবারের বিশ্বকাপ গোলের নিরিখে অতীতের সব বিশ্বকাপকে অনেক পিছনে ফেলে দিয়েছে প্রথমার্ধেই। চলুন অঙ্কটা কোষেই দেখি।
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ ইতিমধ্যেই ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়েছে। শুধু সর্বাধিক গোলের রেকর্ডই নয়, বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবার গ্রুপ পর্বেই গোলসংখ্যা পেরিয়ে গেল ডাবল সেঞ্চুরি। ৭২টি গ্রুপ ম্যাচ শেষে মোট গোল হয়েছে ২১৩টি, যেখানে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ৬৪টি ম্যাচ মিলিয়ে মোট গোল হয়েছিল ১৭২টি।
এবার গ্রুপ পর্বে ম্যাচপ্রতি গোলের গড় প্রায় তিনের কাছাকাছি। এখনও নকআউট পর্বের ৩২টি ম্যাচ বাকি। গোলের ট্রিপল সেঞ্চুরি স্পর্শ করতে প্রয়োজন আরও ৮৭টি গোল। আর যদি বাকি ম্যাচগুলোতে ৯৯টি গোল হয়, তাহলে মোট গোলসংখ্যা দাঁড়াবে ৩১২, অর্থাৎ ম্যাচপ্রতি গড় হবে ঠিক তিনটি গোল। ফুটবলপ্রেমীদের প্রত্যাশা, বাকি ম্যাচগুলোতে অন্তত ১০০টি গোল হবে এবং বিশ্বকাপ নতুন এক গোলরেকর্ডের সাক্ষী থাকবে।
শুধু গোলই নয়, হ্যাটট্রিকের সংখ্যাও বেড়েছে। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে শেষবার চারটি হ্যাটট্রিক দেখা গিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৪০ বছরে কোনো বিশ্বকাপে এত হ্যাটট্রিক হয়নি। এবারের বিশ্বকাপে ইতিমধ্যেই তিনটি হ্যাটট্রিক হয়েছে, আর নকআউট পর্বে সেই সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল।
গ্রুপ পর্বে ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনা ছাড়াও শতভাগ জয়ের নজির গড়েছে অন্যতম আয়োজক মেক্সিকো। তিন ম্যাচে তিন জয় তুলে নিয়ে তারা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নকআউটে পৌঁছেছে।
আক্রমণভাগে সবচেয়ে সফল তিনটি দল ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস এবং জার্মানি—প্রত্যেকেই করেছে ১০টি করে গোল। তবে রক্ষণে ফ্রান্স অনেকটাই এগিয়ে; তারা মাত্র ২টি গোল হজম করেছে, যেখানে নেদারল্যান্ডস ও জার্মানি খেয়েছে ৪টি করে।
গোলদাতাদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন লিওনেল মেসি। তিন ম্যাচে তাঁর গোলসংখ্যা ৬। এরপর যৌথভাবে ৪টি করে গোল করেছেন কিলিয়ান এমবাপে, এরলিং হালান্ড এবং ভিনিসিয়াস জুনিয়র।
তবে এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় রূপকথার নাম কেপ ভার্দে। মাত্র সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষের এই দ্বীপরাষ্ট্র স্পেন, উরুগুয়ে এবং সৌদি আরবের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ড্র করে ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা চমক হিসেবে ইতিমধ্যেই ফুটবল বিশ্বে প্রশংসা কুড়িয়েছে কেপ ভার্দের এই অবিশ্বাস্য সাফল্য।
গোলের বন্যা, বাড়তি আক্রমণাত্মক ফুটবল, নতুন নতুন রেকর্ড এবং ছোট দলের বিস্ময়—সব মিলিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ ইতিমধ্যেই ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় আসর হয়ে উঠেছে।
পরিসংখ্যানে: হরিপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়








