ঘুম ভেঙে জেগে উঠে জাপান-বধ, শেষ ষোলোয় চলে গেল ব্রাজিল
যুদ্ধটা শেষ পর্যন্ত জিতল ব্রাজিল। দ্বিতীয়ার্ধে জেগে উঠে ম্যাচটা ২-১ গোলে বার করে নিল। দপ করে জ্বলে উঠেও নিভে গেল ব্লু সামুরাই। তবে আবার একটা বিশ্বকাপে মনে দাগ কেটে দিয়ে টোকিও ফিরছে জাপান।

গৌতম রায়
যুদ্ধটা শেষ পর্যন্ত জিতল ব্রাজিল। দ্বিতীয়ার্ধে জেগে উঠে ম্যাচটা ২-১ গোলে বার করে নিল। দপ করে জ্বলে উঠেও নিভে গেল ব্লু সামুরাই। তবে আবার একটা বিশ্বকাপে মনে দাগ কেটে দিয়ে টোকিও ফিরছে জাপান।
গোটা প্রথমার্ধ ছন্নছাড়া ব্রাজিল। উল্টাদিকে ভীষণ অরগানাইজড, ডিসিপ্লিনড, ক্যালকুলেটিভ জাপান। ব্রাজিলের মত দলের বিরুদ্ধে যেভাবে খেলা উচিত, ঠিক সেভাবেই শুরু করেছিল তারা। দুর্দান্ত ডিফেন্স অর্গানাইজেশনের পাশাপাশি গতিময় প্রতিআক্রমণ।
প্রথমার্ধে আগের ম্যাচগুলোর মতই ব্রাজিল মাঝমাঠে অনেক ফাঁকা জায়গা। দুই সেন্টার ব্যাক গ্যার্বিয়েল ও মারকুইনহোসের সঙ্গে ফরোয়ার্ডদের মাঝে অনেকটাই ফাঁকা জমি। সেখান দিয়ে বারেবারেই দ্রুতগতিতে উঠে আসছিল জাপানিরা।
তবে জাপান গোলটা করে এগিয়ে গিয়েছিল, সেটি কোনও পরিকল্পিত আক্রমণ থেকে আসেনি। মাঝমাঠে ড্যানিলো একটি মিস পাস করেন। সেই বল ধরে পড়ে থাকা ফাঁকা জায়গা দিয়ে দৌড় শুরু করেন সানো। গতিতে অনেকটা পিছিয়ে পড়লেন ক্যসেমিরো। গ্যাব্রিয়েলও ট্যাকলে না এসে পিছোতে থাকলেন। প্রায় ২০-২৫ গজ বল নিয়ে দৌড়ে জোরালো গড়ানে শটে আলিসনকে হার মানালেন কাইসু সানো।
দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য অন্য ব্রাজিল। যাকে থামানো সম্ভব হল না জাপানের পক্ষে। বিদগ্ধ আনসেলোত্তি কৌশলে কয়েকটা পরিবর্তন করলেন। পাকুয়েতাকে তুলে নামিয়ে দিলেন টিনএজার এনড্রিককে। চলে গেলেন ৪-১-২-৩ ফর্মেশনে।
কুনহা একটু পিছিয়ে এসে মাঝমাঠের ফাঁকা জায়গা ভরাট করার জন্য ক্যাসেমিরোদের সাহায্য করতে লাগলেন। দুই সাইড ব্যাক ড্যানিলো ও ডগলাস স্যান্টোস ক্রমাগত ঝড়ের মত উঠে আসতে লাগলেন উইং ধরে। গোটা দল হাই প্রেসিং ফুটবল খেলতে লাগল। উুঁচু বলে জাপানের দুর্বলতা দেখে ক্রমাগত ক্রসও উড়ে আসতে থাকল। আর এসবের ফলেই বদলে গেল ব্রাজিল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় উঠল জাপান রক্ষণে।
বেশিক্ষণ সামাল দেওয়া সম্ভব হল না জাপানের পক্ষে। গ্যাব্রিয়েলের তুলে দেওয়া বলে দুর্দান্ত হেডে গোলটি শোধ করে দিলেন ক্যাসেমিরো। ভিনিসিয়াস জুনিয়রের শট পোস্টে লেগে ফিরল। সেই সময় আরও গোল হতেই পারত। তবে জয়সূচক গোলটি এল একেবারে শেষ লগ্নে। যখন সকলেই মনে করেছেন এই ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে যাচ্ছে, তখনই ব্রাজিল সমর্থকদের হাঁফ ছেড়ে বাঁচার গোল। দুই জাপানি ডিফেন্ডারের মাঝে দাঁড়িয়ে মার্টিনেলির নিখুঁত শটে শেষ ষোলোয় চলে গেল ব্রাজিল।
এখন প্রশ্ন বাকি টুর্নামেন্টে কি ব্রাজিল প্রথমার্ধের ফুটবলটা খেলবে, নাকি দ্বিতীয়ার্ধেরটা? প্রথমটা হলে কিন্তু বেশি কিছু আশা করা যাবে না। তবে দ্বিতীয়টা পারলে, তখন যে ঝলমলে আবস্থায় পাওয়া গেল আনসেলোত্তির দলকে, তাতে ২০০২-এর পর আবার সাম্বার ঢেউ দেখা যেতেই পারে। আনসেলোত্তি কিন্তু এই দলটার অনেকটাই। সেটা হাড়ে হাড়ে বুঝে গেল জাপান।








