পরিবার মানে শুধু স্ত্রী-সন্তান নয়, মা-বাবাও, বিশ্বকে আবারও সেই বার্তাই দিচ্ছে মরক্কো
আলোচনায় মরক্কোর মিডফিল্ডার ইসমাইল সাইবারি। জয় নিশ্চিত হওয়ার পর তিনিও সবার আগে ছুটে গেছেন নিজের মায়ের কাছে। যেন মরক্কো আবারও মনে করিয়ে দিল, সাফল্যের সবচেয়ে বড় উদযাপন পরিবারের সঙ্গেই।

এক্সট্রাইম ওয়েব ডেস্ক
ইউরোপিয়ান বা লাতিন আমেরিকার চরিত্র খুব পরিচিত। ম্যাচ জিতে তারকারা ছুটে যাচ্ছেন গ্যালারির দিকে, স্ত্রী সন্তান বা বান্ধবীকে আলিঙ্গন করছেন। মরক্কো পরিবারের পুরোনো সংজ্ঞা ফিরিয়ে আনছে ফুটবলের ময়দানে। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে মরক্কোর ফুটবলারদের একটি দৃশ্য কোটি মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গিয়েছিল। ম্যাচ শেষ হতেই খেলোয়াড়দের গ্যালারির দিকে ছুটে যাওয়া, মায়ের হাত ধরে নাচ, জড়িয়ে ধরে কান্না কিংবা বিজয়ের আনন্দ ভাগ করে নেওয়া, এসব মুহূর্ত বিশ্বকাপের সবচেয়ে আবেগঘন স্মৃতিগুলোর একটি হয়ে আছে। আশরাফ হাকিমি, সোফিয়ান বউফাল, আবদেলহামিদ সাবিরিদের সেই উদযাপন আজও ফুটবলপ্রেমীদের মনে গেঁথে আছে।
চার বছর পরও সেই ছবির বদল হয়নি। এবারও আলোচনায় মরক্কোর মিডফিল্ডার ইসমাইল সাইবারি। জয় নিশ্চিত হওয়ার পর তিনিও সবার আগে ছুটে গেছেন নিজের মায়ের কাছে। যেন মরক্কো আবারও মনে করিয়ে দিল, সাফল্যের সবচেয়ে বড় উদযাপন পরিবারের সঙ্গেই।
কাতার বিশ্বকাপে আফ্রিকার প্রথম দেশ হিসেবে সেমিফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়েছিল মরক্কো। সেই সাফল্যের পেছনে শুধু কৌশল বা প্রতিভাই নয়, পারিবারিক বন্ধনেরও বড় ভূমিকা ছিল বলে বিশ্বাস করে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন। তাই এবারও তারা একই পথ বেছে নিয়েছে।
বিশ্বকাপ চলাকালীন খেলোয়াড়দের পরিবারের সদস্যদের জন্য দলের অনুশীলন কেন্দ্রের কাছেই থাকার ব্যবস্থা করেছে মরক্কো ফুটবল ফেডারেশন। এতে ফুটবলাররা নিয়মিত মা-বাবা ও স্বজনদের সঙ্গে সময় কাটাতে পারছেন, যা তাদের মানসিকভাবে আরও শক্তিশালী করে তুলছে।
আজকের পেশাদার ক্রীড়াজগতে পরিবার বলতে অনেক সময় শুধু স্ত্রী ও সন্তানকেই বোঝানো হয়। কিন্তু মরক্কো যেন অন্য এক বার্তা দিচ্ছে পরিবার মানে শুধু স্ত্রী-সন্তান নয়, মা-বাবাও। যাঁদের ত্যাগ, ভালোবাসা আর আশীর্বাদ একজন সন্তানের পথচলার সবচেয়ে বড় শক্তি।
হয়তো এ কারণেই মরক্কোর ফুটবলারদের চোখে-মুখে এত আত্মবিশ্বাস। কারণ তারা জানে, গ্যালারিতে শুধু সমর্থক নন, তাদের জন্য দোয়া করা মা-বাবাও অপেক্ষা করছেন। আর মায়ের দোয়া সঙ্গে থাকলে, সেই শক্তির সঙ্গে পাল্লা দেওয়া সত্যিই কঠিন।








