হাইতিকে তিন গোল দিয়ে নিজেদের গুটিয়ে নিল ব্রাজিল
মরক্কোর সঙ্গে প্রথম ম্যাচ ড্র করার পর নিজেদের অনেকটাই বদলে ফেলল ব্রাজিল। আর তার ফলেই হাইতির বিরুদ্ধে ৩-০ গোলে জয়। প্রথমার্ধেই তিন গোল।

গৌতম রায়
মরক্কোর সঙ্গে প্রথম ম্যাচ ড্র করার পর নিজেদের অনেকটাই বদলে ফেলল ব্রাজিল। আর তার ফলেই হাইতির বিরুদ্ধে ৩-০ গোলে জয়। প্রথমার্ধেই তিন গোল। এদিন দলে কিছু বদল করেছিলেন আনসেলোত্তি। তার মধ্যে থিয়াগোর জায়গায় কুনহাকে নিয়ে আসা কতটা কার্যকর হল সেটা ম্যাচের শুরুতেই বুঝিয়ে দিলেন তিনি। ভিনিসিয়াস জুনিয়রের শট হাইতি গোলরক্ষক ফিরিয়ে দিলে ফিরতি বল ক্লিয়ার করতে যান সতীর্থ ডিফেন্ডার। কিন্তু কুনহা এমনভাবে ঝাঁপিয়ে পড়লেন ক্লিয়ার করা বল তাঁর পায়ে লেগে গোলে ঢুকে যায়।
এরপর পেনিট্রেটিভ জোনে ভিনিসিয়াস বল ধরার পর এমন একটা ডায়গোনাল দৌড় দেন কুনহা, যে বিভ্রান্ত হয়ে যায় হাইতি রক্ষণ। দুর্দান্তভাবে জায়গা তৈরি করে নিলেন, তারপর ভিনিসিয়াসের বাড়ানো বল প্রথম পোস্টে এত নিখুঁতভাবে রাখলেন কিছুই করার ছিল না গোলরক্ষকের।
এতক্ষণ আক্রমণভাগকে খেলাচ্ছিলেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। এবার নিজেই গোল করলেন। তাঁকে বলটা বাড়িয়ে ছিলেন পাকুয়েতা। গোলরক্ষকের পায়ের ফাঁক দিয়ে নিখুঁতভাবে জালে বল পাঠান রিয়াল তারকা।
প্রথমার্ধে তিন গোল হয়ে যাওয়ার পর ভাবা গিয়েছিল, দ্বিতীয়ার্ধে হয়ত গোলের বন্যা বইবে। কিন্তু রাফিনহার চোটটা হয়ত আনসেলোত্তিকে অন্যভাবে ভাবাল। সম্ভবত হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়ে থাকতে পারেন রাফিনহা।তা যদি হয় ভুগতে হতে পারে ব্রাজিলকে। এর ফলে সতর্ক হয়ে গেলেন আনসেলোত্তি। সতর্ক হয়ে গেল ব্রাজিল। অনেকটাই গুটিয়ে নিল নিজেদের। ক্রমশ যে পরিবর্তনগুলো করলেন ব্রাজিল কোচ তাতেও সেটাই মনে হল। অবশ্য পরিবর্ত হিসাবে এনড্রিককে নামানোর অন্য যুক্তিও আছে। তিন গোলে এগিয়ে আছে দল, এই পরিস্থিতিতেই তো দলের প্রতিভাবান টিনএজারকে ম্যাচ টাইম দিতে হবে। ভিনিসিয়াসকে তুলে নেওয়ারও যুক্তি, পরের আরও বড় লড়াইয়ের জন্য শক্তি মজুদ রাখা।
না, ব্রাজিলের খেলায় সাম্বার ছন্দ বলা যাবে না, তবে মাঝে মধ্যেই সাম্বার ঝলক দেখা গেল। বিশেষ করে প্রথমার্ধে আক্রমণের যা বৈচিত্র্য, তাতে মনে হচ্ছিল ব্রাজিলই খেলছে। তবে পায়ে বল পড়লে যতটা ব্রাজিল খেলছে বলে মনে হচ্ছিল, বলের দখল হারালে ততটা মনে হচ্ছিল না। হাইতি ফুটবলাররা বল পেলে ব্রাজিল মাঝমাঠে অনেকটা ফাঁকা জায়গা পেয়ে যাচ্ছিলেন। বলের দখল হারালে যদি এভাবে প্রতিপক্ষকে খেলার সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে হাইতির জায়গায় যখন জার্মানি, ফ্রান্স বা আর্জেন্টিনা থাকবে তখন কিন্তু সমস্যায় পড়তে পারে আনসেলোত্তির দল। মনে রাখতে হবে হাইতির র্যাঙ্কিং (Ranking) কিন্তু ৮৩। তাই এই জায়গাটায় আরও উন্নতি করতেই হবে ব্রাজিলকে, যদি ষষ্ঠবার কাপটা তুলে ধরতে চায়।
(ছবি সৌজন্যে: সিবিএফ/টুইটার)








