মেসি, রোনাল্ডো যা করতে পারেননি তাই করে ফেলেছেন মেক্সিকোর গিলবার্তো মোরা
বছরের পর বছর ধরে ফুটবল বিশ্ব খুঁজে বেড়িয়েছে ‘পরবর্তী লিওনেল মেসি’ কিংবা ‘পরবর্তী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে’। কিন্তু অবাক করার বিষয় হলো, এই দুই কিংবদন্তি যখন প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মঞ্চে পা রাখেন, তখন তাদের বয়স ছিল বর্তমান মেক্সিকান প্রতিভা গিলবার্তো মোরার চেয়েও বেশি।

এক্সট্রাটাইম ওয়েব ডেস্ক: ক্রিকেটে এই মুহূর্তে প্রবল আলোচনার বিষয়, কিংবদন্তি সচিন তেন্ডুলকরের রেকর্ড ভাঙতে চলেছেন বৈভব সূর্যবংশী। সূর্যবংশী যে বয়সে সিনিয়র ভারতীয় দলের জার্সি পরতে চলেছেন, সেটা তেন্ডুলকরও পারেননি। ঠিক একই রকম ঘটনা ঘটল চলতি বিশ্বকাপে। যে বয়সে বিশ্বকাপে অভিষেক হল মেক্সিকোর গিলবার্তো মোরার, সেটা মেসি-রোলাল্ডোও পারেননি।
বছরের পর বছর ধরে ফুটবল বিশ্ব খুঁজে বেড়িয়েছে ‘পরবর্তী লিওনেল মেসি’ কিংবা ‘পরবর্তী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে’। কিন্তু অবাক করার বিষয় হলো, এই দুই কিংবদন্তি যখন প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মঞ্চে পা রাখেন, তখন তাদের বয়স ছিল বর্তমান মেক্সিকান প্রতিভা গিলবার্তো মোরার চেয়েও বেশি।
লিওনেল মেসি ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপে ১৮ বছর বয়সে অভিষেক করেছিলেন। অন্যদিকে, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো পর্তুগালের হয়ে প্রথম বিশ্বকাপ খেলেন ২১ বছর বয়সে। অথচ গিলবার্তো মোরা মাত্র ১৭ বছর বয়সেই নিজের ইতিহাস লিখতে শুরু করেছেন।
২০২৬ বিশ্বকাপে মেক্সিকোর হয়ে মাঠে নামার মধ্যে দিয়ে মোরা শুধু টুর্নামেন্টের সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলারই হননি, ভেঙেছেন ৯৬ বছর ধরে অটুট থাকা একটি মেক্সিকান রেকর্ডও। পাশাপাশি তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড়দের অন্যতম হিসেবে নিজের নাম লিখিয়েছেন।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে, ৮০ হাজারেরও বেশি দর্শকের সামনে এবং সহ আযোজক দেশের প্রতিনিধিত্ব করার বিশাল চাপ নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই চাপ যেন তাকে স্পর্শই করতে পারেনি।
মোরার কৃতিত্ব শুধু তার বয়সেই সীমাবদ্ধ নয়। আরও বিস্ময়কর হলো, কত দ্রুত তিনি ফুটবলের বিভিন্ন পর্যায় পেরিয়ে শীর্ষ মানে পৌঁছে গেছেন।
তিনি ইতোমধ্যেই মেক্সিকোর সিনিয়র জাতীয় দলের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ অভিষেককারী খেলোয়াড় হয়েছেন। কৈশোরেই জিতেছেন গোল্ড কাপ শিরোপা। যুব পর্যায়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি পেশাদার ফুটবলেও নিজেকে প্রমাণ করেছেন— এমন সময়ে যখন তার সমবয়সী অনেক খেলোয়াড় এখনও একাডেমি পর্যায়ে নিজেদের গড়ে তুলছে।
মোরাকে ঘিরে এত আলোচনা হওয়ার আরেকটি বড় কারণ হলো তার অসাধারণ পরিণত মানসিকতা। বিশ্বকাপ অভিষেক ম্যাচে তিনি যে পাসগুলি দিয়েছেন, তার প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি সফল হয়েছেন।
মাত্র ১৭ বছর বয়সী একজন ফুটবলারের কাছ থেকে এমন আত্মবিশ্বাস, স্থিরতা এবং ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা খুব কমই দেখা যায়। মাঠে তাকে দেখে মনে হয়নি তিনি ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় মঞ্চে প্রথমবার খেলছেন। বরং মনে হয়েছে, তিনি যেন বহু বছর ধরেই এই পর্যায়ে খেলছেন।
ফুটবল ইতিহাসে পেলে, স্যামুয়েল এতো এবং নরম্যান হোয়াইটসাইডের মতো কিংবদন্তিরা ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই বিশ্বকাপে খেলেছেন। এবার সেই বিশেষ তালিকায় যুক্ত হলো গিলবার্তো মোরার নামও।
তার ভবিষ্যৎ কতটা উজ্জ্বল হবে, সেটি সময়ই বলে দেবে। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত— অধিকাংশ সম্ভাবনাময় তরুণ যখন এখনও সুযোগের অপেক্ষায় থাকে, তখন গিলবার্তো মোরা ইতোমধ্যেই ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে নিজের উত্তরাধিকার গড়ার কাজ শুরু করে দিয়েছেন।
মেসি ও রোনালদোর সঙ্গে তুলনা হয়তো এখনই করা যাবে না। কিন্তু ১৭ বছর বয়সেই বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে মোরা প্রমাণ করেছেন, তিনি শুধু কারও ‘পরবর্তী কেউ’ নন— তিনি নিজেই গিলবার্তো মোরা।








