ভেড়া চরানো থেকে বিশ্বকাপের মঞ্চ—আলিরেজা বেইরানভান্দের অবিশ্বাস্য যাত্রা
ছোটবেলায় পাহাড়ে পাহাড়ে ভেড়া চরানোই ছিল তাঁর নিত্যদিনের কাজ। ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন ছিল, কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের পথ ছিল অত্যন্ত কঠিন।

ছবি- টুইটার
রৌণক ঘোষ: ইরানের লোরেস্তান প্রদেশের এক যাযাবর পরিবারে জন্ম আলিরেজা বেইরানভান্দের। ছোটবেলায় পাহাড়ে পাহাড়ে ভেড়া চরানোই ছিল তাঁর নিত্যদিনের কাজ। ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন ছিল, কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের পথ ছিল অত্যন্ত কঠিন।
কৈশোরেই তিনি বাড়ি ছেড়ে তেহরানে পাড়ি জমান একজন পেশাদার ফুটবলার হওয়ার লক্ষ্যে। সেখানে জীবন ছিল চরম সংগ্রামের। কখনও খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে হয়েছে, কখনও বেঁচে থাকার জন্য গাড়ি ধোয়া, পোশাক কারখানায় কাজ, পিজ্জার দোকানে চাকরি, এমনকি রাস্তা পরিষ্কার করার কাজও করেছেন।

ছবি: ম্যাচের সেরা আলিরেজা (ফিফা/টুইটার)
তবুও তিনি কখনও নিজের স্বপ্ন ছাড়েননি। মজার বিষয় হলো, বেইরানভান্দ শুরুতে গোলরক্ষক ছিলেন না। তিনি একজন স্ট্রাইকার হিসেবে খেলতেন। একদিন দলের প্রয়োজনে গোলপোস্টের নিচে দাঁড়ান, আর সেই সিদ্ধান্তই বদলে দেয় তাঁর পুরো জীবন।
পরবর্তীতে তিনি ইরানের এক নম্বর গোলরক্ষক হন, জাতীয় দলের অধিনায়কত্ব করেন, একাধিক বিশ্বকাপে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং ২০১৮ বিশ্বকাপে ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোর পেনাল্টি রুখে দিয়ে ইরানি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দেন।
আজ তিনি ইরান দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ফুটবলারদের একজন। বেলজিয়ামের বিপক্ষে দারুণ গোলকিপিংয়ের পর আবারও প্রমাণ করলেন, কঠোর পরিশ্রম, ধৈর্য আর অদম্য মানসিকতা থাকলে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়।
আলিরেজা বেইরানভান্দ আজ শুধু একজন গোলরক্ষক নন—তিনি লাখো ইরানির কাছে সংগ্রাম, অধ্যবসায় ও আশার প্রতীক।
চলতি বিশ্বকাপ যেন অভিজ্ঞ গোলকিপারদের জন্য আলাদা ইতিহাস লিখে চলেছে।








