অভিনব স্টেডিয়ামে, কঠোর নিরাপত্তায়, থমথমে পরিবেশে বিশ্বকাপের ম্যাচে ইরান
বিশ্বকাপে অভিযান শুরু করল ইরান। নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে দুবার পিছিয়ে পড়েও দারুনভাবে ফিরে এসে ম্যাচ ২-২ করে দেয় তারা। মাঠের মধ্যে যেমন লড়াই করল বাইরে বাইরেও তাদের লড়াই চলছে। খুবই গুমোট ও থমথমে পরিবেশে ম্যাচ খেলল ইরান। গোটা শহর, গোটা স্টেডিয়ামের পরিবেশ রীতিমত চাপা উত্তেজনার।

স্মরজিৎ ব্যানার্জি, ইঙ্গলেউড
বিশ্বকাপে অভিযান শুরু করল ইরান। নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে দুবার পিছিয়ে পড়েও দারুনভাবে ফিরে এসে ম্যাচ ২-২ করে দেয় তারা। মাঠের মধ্যে যেমন লড়াই করল বাইরে বাইরেও তাদের লড়াই চলছে। খুবই গুমোট ও থমথমে পরিবেশে ম্যাচ খেলল ইরান। গোটা শহর, গোটা স্টেডিয়ামের পরিবেশ রীতিমত চাপা উত্তেজনার।
বিশ্বকাপের এই স্টেডিয়ামটি, অর্থাৎ লস এঞ্জেলসের সোফাই স্টেডিয়াম ছিল সত্যিই বিশ্ব কে চমকে দেওয়ার মতোই। শহর থেকে মাঠে পৌঁছানোও বেশ সহজ। মেট্রোতে তিনবার লাইন বদলাতে হলেও প্রতিটি স্টেশনে স্বেচ্ছাসেবকেরা পথ দেখিয়ে দিচ্ছিলেন। শেষ পর্যন্ত এয়ারপোর্ট স্টেশনে নেমে শাটল বাসে সরাসরি স্টেডিয়ামে পৌঁছনো যায়। পুরো যাত্রার খরচ পড়েছে মাত্র ৬ ডলার।
স্টেডিয়ামের নকশাও ছিল নজরকাড়া। গ্রাউন্ড লেভেল কার্যত তিনতলা সমান, তার উপরে আরও দু'তলা এবং মাটির নীচে রয়েছে আরও দু'টি স্তর। অর্থাৎ মাঠটি মাটির দু'তলা নীচে অবস্থিত। বিমানবন্দর সংলগ্ন হওয়ায় খুব উঁচু স্টেডিয়াম তৈরি করা সম্ভব নয়, তাই বিশাল গর্ত খুঁড়ে এই অভিনব স্থাপত্য তৈরি করা হয়েছে।
গ্যালারিতে ইরানের সমর্থকদের উপস্থিতিই ছিল সবচেয়ে বেশি। পাশাপাশি প্রচুর মেক্সিকান সমর্থকও দেখা গিয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস মেক্সিকোর কাছাকাছি হওয়ায় সেখানে বড় মেক্সিকান সম্প্রদায়ের বাস, আর তাঁদের অনেকেই ইরানের পক্ষেই গলা ফাটাচ্ছিলেন।
স্টেডিয়াম চত্বরে পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে নিরাপত্তা পরীক্ষা খুব একটা কঠোর নয়। দর্শকদের স্বচ্ছ প্লাস্টিকের ব্যাগ ব্যবহার করতে হয়েছে, সিল করা জলের বোতল নিয়ে ঢোকার অনুমতি ছিল। সিগারেট ও লাইটার নেওয়া গেলেও স্টেডিয়ামের ভিতরে ধূমপান নিষিদ্ধ।
ইরানের সমর্থকদের বেশিরভাগই ছিলেন প্রবাসী। কেউ আমেরিকায় বসবাস করেন, কেউ বা কানাডার মতো অন্য দেশের নাগরিক। ভিসা জটিলতা এবং বর্তমান পরিস্থিতির কারণে ইরান থেকে সরাসরি সমর্থকদের উপস্থিতি প্রায় ছিল না বললেই চলে।
আরও একটি বিষয় নজর কেড়েছে। গ্যালারিতে অনেক ইরানি সমর্থকের হাতে যে পতাকা ছিল, সেটি বর্তমান ইরানের জাতীয় পতাকা নয়; বরং ইসলামি বিপ্লবের আগের ইরানের পতাকা। প্রবাসী ইরানিদের একাংশ এখনও সেই পতাকাকেই নিজেদের পরিচয়ের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করেন।
স্টেডিয়ামে প্রবেশের আগে প্যালেস্টাইনের সমর্থনে বিক্ষোভও চোখে পড়েছে। ভারত থেকে খেলা দেখতে এসেছেন শুনে অনেকেই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তিনি ইরানকে সমর্থন করছিলেন জেনে ইরানি সমর্থকেরা বলেন, "আমরা সবাই এশিয়ার মানুষ, তাই একে অপরের পাশে থাকা উচিত।" এই আন্তরিকতাই তাঁর বিশ্বকাপ সফরের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকে।








