অভিষেকেই ইতিহাস কেপ ভার্দের, প্রথম ম্যাচে আটকে গেল স্পেন
অবিশ্বাস্য ফল। বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া কেপ ভার্দের কাছে আটকে গেল বিশ্বের দুই নম্বর স্পেন। ম্যাচ গোলশূন্য ড্র। প্রায় সারাক্ষণ বলের দখল রেখেও, অজস্র পাস খেলেও গোলের মুখ খুলতে পারলেন না গাভিরা। পরে আধা ফিট ইয়ামলকে নামিয়েও কাজের কাজ হল না।

অবিশ্বাস্য ফল। বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া কেপ ভার্দের কাছে আটকে গেল বিশ্বের দুই নম্বর স্পেন। ম্যাচ গোলশূন্য ড্র। প্রায় সারাক্ষণ বলের দখল রেখেও, অজস্র পাস খেলেও গোলের মুখ খুলতে পারলেন না গাভিরা। পরে আধা ফিট ইয়ামলকে নামিয়েও কাজের কাজ হল না। অন্যদিকে বিশ্বকাপের অভিষেক ম্যাচেই হেভিওয়েট প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পয়েন্ট পেয়ে ইতিহাস তৈরি করল কেপ ভার্দে।
ম্যাচের শুরু থেকেই কেপ ভার্দের সুশৃঙ্খল ৪-৫-১ রক্ষণভাগ ভাঙতে হিমশিম খেতে হয়েছে স্পেনকে। বলের দখল নিজেদের কাছে রাখলেও আক্রমণের ফাইনাল থার্ডে কাঙ্ক্ষিত সুযোগ তৈরি করতে পারেনি স্প্যানিশরা।
কেপ ভার্দের পরিকল্পনা ছিল একেবারে স্পষ্ট। দুই প্রান্তে স্পেনের ফুল-ব্যাকদের কড়া নজরে রেখেছেন প্রতিপক্ষের উইড মিডফিল্ডাররা। ফলে উইং ধরে বাড়তি খেলোয়াড় তুলে আক্রমণ গড়ার সুযোগ খুব একটা পায়নি স্পেন। উইং স্ট্রেচ আউট করে চ্যানেল ওপেন করতে ব্যার্থ হয়েছে তারা। ইয়ামালের মত ফুটবলাররা একটু বেশি হাফ স্পেসে চ্যানেল পেলে দলের সুবিধা হয়। এই হোম ওয়ার্ক করে এসেছিল কেপ ভার্দে।
অন্যদিকে, মাঝমাঠের তিন ফুটবলার অত্যন্ত শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে সেন্ট্রাল পাসিং লেন এবং হাফ-স্পেস বন্ধ করে রেখেছিল তারা। স্পেনের মিডফিল্ডাররা নিচে নেমে বল নিতে এলেই দ্রুত চাপ সৃষ্টি করছে কেপ ভার্দে। কাউন্টার প্রেস করার চেষ্টাও করেছে তারা। এর ফলে মাঝমাঠে স্পেনের স্বাভাবিক ছন্দ বারবার নষ্ট হয়েছে।
তবে স্পেনের আক্রমণে যে কয়েকটি ভালো মুহূর্ত তৈরি হয়েছে, তার নেপথ্যে ছিল দুটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল।
প্রথমত, উইংয়ে গতিশীল মুভমেন্ট। উইঙ্গার ও ফুল-ব্যাকদের সময়মতো বাইরে থেকে ভেতরে এবং ভেতর থেকে বাইরে দৌড় কেপ ভার্দের রক্ষণে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। এর ফলে একাধিকবার দুই বনাম দুই পরিস্থিতি গড়ে তুলতে পেরেছে স্পেন।
দ্বিতীয়ত, ফুল-ব্যকরা ক্রমাগত এটা করে গেছে। খুব দ্রুত ওপরে উঠে না গিয়ে তারা অপেক্ষা করছে, যাতে কেপ ভার্দের পাঁচজনের মিডফিল্ড লাইন থেকে একজন খেলোয়াড় প্রেস করতে বেরিয়ে আসে। সেই ফাঁকা জায়গাকে কাজে লাগিয়ে ডাইগোনাল পাস এবং নিখুঁত রান দিয়ে দুই বনাম এক পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে স্পেন। ধীরগতিতে বল ঘুরিয়ে সরাসরি রক্ষণ ভাঙার চেয়ে এই পদ্ধতিই বেশি কার্যকর বলে মনে করেছিল তারা। কিন্তু এই প্ল্যান বি ও সফল হয়নি।
সব মিলিয়ে, বলের দখলে স্পেন এগিয়ে থাকলেও কেপ ভার্দের সুসংগঠিত রক্ষণ তাদের কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলেছে। আর একটা ব্যাপার খুবই চোখে লাগল। অন্তত চার পাঁচটি শট করলেন স্প্যানিশরা। কিন্তু অধিকাংশই তিন কাঠির মধ্যে রাখতে পারলেন না। কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষকও বেশ কয়েকবার হতাশ করলেন স্প্যানিশদের। ফলে প্রথম ম্যাচে এক পয়েন্ট নিয়েই সন্তিষ্ট থাকতে হল টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিট স্পেনকে।








